৪২/১৪. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯০৬ - ফিতনা থেকে বাঁচতে কুরআন আঁকড়ে ধরা

কুরআন মাজীদের মর্যাদা প্রসঙ্গে

ফিতনা থেকে বাঁচার উপায়: কুরআনের হিদায়াত শক্তভাবে ধরুন

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯০৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ حَمْزَةَ الزَّيَّاتَ، عَنْ أَبِي الْمُخْتَارِ الطَّائِيِّ، عَنِ ابْنِ أَخِي الْحَارِثِ الأَعْوَرِ، عَنِ الْحَارِثِ، قَالَ مَرَرْتُ فِي الْمَسْجِدِ فَإِذَا النَّاسُ يَخُوضُونَ فِي الأَحَادِيثِ فَدَخَلْتُ عَلَى عَلِيٍّ فَقُلْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَلاَ تَرَى أَنَّ النَّاسَ قَدْ خَاضُوا فِي الأَحَادِيثِ. قَالَ وَقَدْ فَعَلُوهَا قُلْتُ نَعَمْ. قَالَ أَمَا إِنِّي قَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " أَلاَ إِنَّهَا سَتَكُونُ فِتْنَةٌ " . فَقُلْتُ مَا الْمَخْرَجُ مِنْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " كِتَابُ اللَّهِ فِيهِ نَبَأُ مَا كَانَ قَبْلَكُمْ وَخَبَرُ مَا بَعْدَكُمْ وَحُكْمُ مَا بَيْنَكُمْ هُوَ الْفَصْلُ لَيْسَ بِالْهَزْلِ مَنْ تَرَكَهُ مِنْ جَبَّارٍ قَصَمَهُ اللَّهُ وَمَنِ ابْتَغَى الْهُدَى فِي غَيْرِهِ أَضَلَّهُ اللَّهُ وَهُوَ حَبْلُ اللَّهِ الْمَتِينُ وَهُوَ الذِّكْرُ الْحَكِيمُ وَهُوَ الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ هُوَ الَّذِي لاَ تَزِيغُ بِهِ الأَهْوَاءُ وَلاَ تَلْتَبِسُ بِهِ الأَلْسِنَةُ وَلاَ يَشْبَعُ مِنْهُ الْعُلَمَاءُ وَلاَ يَخْلَقُ عَلَى كَثْرَةِ الرَّدِّ وَلاَ تَنْقَضِي عَجَائِبُهُ هُوَ الَّذِي لَمْ تَنْتَهِ الْجِنُّ إِذْ سَمِعَتْهُ حَتَّى قَالُوا (إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا * يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ ) مَنْ قَالَ بِهِ صَدَقَ وَمَنْ عَمِلَ بِهِ أُجِرَ وَمَنْ حَكَمَ بِهِ عَدَلَ وَمَنْ دَعَا إِلَيْهِ هُدِيَ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ " . خُذْهَا إِلَيْكَ يَا أَعْوَرُ.قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَإِسْنَادُهُ مَجْهُولٌ. وَفِي الْحَارِثِ مَقَالٌ.

আল-হারিস আল-আওয়ার (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক সময় আমি মসজিদে গিয়ে দেখি যে, কিছু লোক নানারকম আলাপ করছে। আমি আলী (রাঃ)-এর নিকটে গিয়ে বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না যে, লোকেরা নানারকম আলাপ করছে? তিনি প্রশ্ন করলেন, তারা কি তাই করছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, শোন! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ হুঁশিয়ার! শীঘ্রই ফিতনা-ফাসাদ দেখা দিবে।আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)! এ ফিতনা হতে আত্মরক্ষার পন্থা কি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা’আলার কিতাব (কোরআন)। এতে আছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ ও পরবর্তীদের সংবাদ এবং তোমাদের মাঝে ফায়সালার বিধান। এটা (সত্য-মিথ্যার মধ্যে) সুস্পষ্ট বিভাজনকারী, কোন অর্থহীন ব্যাপার নয়। যে ব্যক্তি গর্ববশে এটা ছেড়ে দেবে, আল্লাহ্ তা’আলা তার গর্ব চূর্ণ করবেন। এটাকে বাদ দিয়ে যে হিদায়াত খোঁজ করবে আল্লাহ্ তা’আলা তাকে পথভ্রষ্ট করবেন।এটা হল আল্লাহ্ তা’আলার মজবুত রশি, হিকমাত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ এবং সহজ-সরল পথ। তা অনুসরণ করলে মানুষের চিন্তাধারা বিপথগামী হয় না এবং এতে যবানও আড়ষ্ট হয় না। আলিমগণ এ থেকে তৃপ্ত হয় না (যতই পড়ে ততই ভালো লাগে), বারবার পড়লেও এটা পুরানো হয় না এবং এর রহস্য ও নিগূঢ় তত্ত্বের শেষ নেই।এটা সেই গ্রন্থ যা শোনা মাত্রই জিনেরা বলে উঠলো, “আমরা এক আশ্চর্যজনক কোরআন শুনলাম যা সঠিক পথের সন্ধান দেয়। সুতরাং আমরা এতে ঈমান এনেছি” (সূরাঃ জ্বিন-১, ২)।যে ব্যক্তি কোরআন অনুযায়ী কথা বলে সে সত্য বলে এবং যে সে অনুসারে আমল করে সে প্রতিদান পায়। যে এর সাহায্যে ফায়সালা করে সে ইনসাফ করে এবং যে এর দিকে আহ্বান করে সে সঠিক পথ দেখায়। হে আওয়ার! তুমি এটা শক্তভাবে আকড়ে ধর।

আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। এর সনদসূত্র অজানা। আল-হারিসের রিওয়ায়াত প্রসঙ্গে বিরূপ সমালোচনা আছে।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯০৬-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ বর্ণনায় আসন্ন ফিতনা থেকে আত্মরক্ষার পথ হিসেবে আল্লাহর কিতাব কুরআনের কথা বলা হয়েছে। এতে পূর্ববর্তীদের সংবাদ, পরবর্তীদের সংবাদ এবং মানুষের পারস্পরিক বিষয়ে ফয়সালার বিধান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। কুরআনকে সত্য ও মিথ্যার স্পষ্ট বিভাজনকারী, আল্লাহর মজবুত রশি, প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ এবং সরল পথ বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, কুরআন অনুযায়ী কথা বললে সত্য বলা হয়, সে অনুযায়ী কাজ করলে প্রতিদান পাওয়া যায় এবং এর সাহায্যে বিচার করলে ইনসাফ করা হয়। তবে বর্ণনার শেষাংশে ইমাম আবু ঈসা এর সনদকে অজ্ঞাত বলেছেন এবং একজন বর্ণনাকারী সম্পর্কে সমালোচনার কথা উল্লেখ করেছেন। তাই বর্ণনাটির সনদগত অবস্থাও পাঠকের সামনে পরিষ্কার রাখা জরুরি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বর্ণনায় ফিতনার সময় আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • কুরআনকে সত্য-মিথ্যার বিভাজনকারী ও সরল পথ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
  • কুরআন অনুযায়ী কথা, আমল ও বিচার করার গুরুত্ব বলা হয়েছে।
  • বর্ণনাটির সনদ অজ্ঞাত এবং একজন বর্ণনাকারী আলোচিত—এ তথ্য গোপন করা উচিত নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন