৪৩/৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৩৪ - ফী আইনিন হামিআতিন কিরাআত
সূরা কাহফ
ফী আইনিন হামিআতিন: আয়াতের নির্দিষ্ট পাঠ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৯৩৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯৩৪
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دِينَارٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ مِصْدَعٍ أَبِي يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَرَأَ ﴾في عين حمئة ﴿ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَالصَّحِيحُ مَا رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قِرَاءَتُهُ . وَيُرْوَى أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ وَعَمْرَو بْنَ الْعَاصِي اخْتَلَفَا فِي قِرَاءَةِ هَذِهِ الآيَةِ وَارْتَفَعَا إِلَى كَعْبِ الأَحْبَارِ فِي ذَلِكَ فَلَوْ كَانَتْ عِنْدَهُ رِوَايَةٌ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ لاَسْتَغْنَى بِرِوَايَتِهِ وَلَمْ يَحْتَجْ إِلَى كَعْبٍ .
উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) “ফী আইনিন হামিআতিন” পাঠ করেছেন।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধু উপরোক্ত সূত্রেই জেনেছি। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত ক্বিরাআতই সহীহ। বর্ণিত আছে যে, ইবনু ‘আব্বাস ও ‘আম্র ইবনুল ‘আস (রাঃ) এ আয়াত পাঠে মতভেদ করেছেন এবং বিষয়টি কা’ব আল-আহ্বার (রহঃ)-এর সামনে পেশ করেছেন। তাঁর নিকট নবী (ﷺ)-এর রিওয়ায়াত থাকলে তিনি সেটিকেই যথেষ্ট মনে করতেন এবং কা’ব (রহঃ)-এর সামনে মীমাংসার জন্য পেশ করতেন না।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় ‘ফী আইনিন হামিআতিন’ পাঠরূপ। বর্ণনায় বলা হয়েছে, নবী صلى الله عليه وسلم এভাবেই শব্দগুলো পড়েছেন। এটি মূলত কিরাআতের একটি সংক্ষিপ্ত দলিল; এখানে যুলকারনাইনের সফর, স্থান বা ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই। তাই হাদিসের সীমা মেনে পাঠের শব্দ ও উচ্চারণ নিয়েই আলোচনা করা উচিত। এমন রেওয়ায়াত থেকে বোঝা যায়, কুরআনের শব্দের ধ্বনি ও গঠন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মনোযোগের সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। পাঠকের জন্য ভালো পদ্ধতি হলো বাংলা হরফে লেখা উচ্চারণকে সহায়ক হিসেবে দেখা, কিন্তু মূল আরবি ও নির্ভরযোগ্য কারির পাঠকে ভিত্তি করা। একটি সংক্ষিপ্ত কিরাআত-বর্ণনা দিয়ে ভূগোল বা ইতিহাসের নিশ্চিত দাবি করা ঠিক নয়। ফলে আলোচনার শিরোনাম ও কীওয়ার্ডেও ‘হামিআতিন’ পাঠটিকেই সামনে রাখা স্বাভাবিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ‘হামিআতিন’ শব্দটি যত্নসহকারে উচ্চারণ করা দরকার।
- কিরাআতের বর্ণনাকে পূর্ণ তাফসির মনে করা উচিত নয়।
- মূল আরবি ও কারির পাঠ অনুসরণ করা ভালো।
- হাদিসে না থাকা ইতিহাস বা ভূগোলের দাবি যোগ করা ঠিক নয়।
