৪৪/৮. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৭৬ - আদম (আঃ), দাউদ (আঃ) ও চল্লিশ বছর আয়ু

সূরা আল-আরাফ

আদম ও দাউদ (আঃ)-এর আয়ু: ভুলে যাওয়া ও মানবীয় ত্রুটির হাদিস

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০৭৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ مَسَحَ ظَهْرَهُ فَسَقَطَ مِنْ ظَهْرِهِ كُلُّ نَسَمَةٍ هُوَ خَالِقُهَا مِنْ ذُرِّيَّتِهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَجَعَلَ بَيْنَ عَيْنَىْ كُلِّ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ وَبِيصًا مِنْ نُورٍ ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى آدَمَ فَقَالَ أَىْ رَبِّ مَنْ هَؤُلاَءِ قَالَ هَؤُلاَءِ ذُرِّيَّتُكَ فَرَأَى رَجُلاً مِنْهُمْ فَأَعْجَبَهُ وَبِيصُ مَا بَيْنَ عَيْنَيْهِ فَقَالَ أَىْ رَبِّ مَنْ هَذَا فَقَالَ هَذَا رَجُلٌ مِنْ آخِرِ الأُمَمِ مِنْ ذُرِّيَّتِكَ يُقَالُ لَهُ دَاوُدُ. فَقَالَ رَبِّ كَمْ جَعَلْتَ عُمْرَهُ قَالَ سِتِّينَ سَنَةً قَالَ أَىْ رَبِّ زِدْهُ مِنْ عُمْرِي أَرْبَعِينَ سَنَةً. فَلَمَّا انْقَضَى عُمْرُ آدَمَ جَاءَهُ مَلَكُ الْمَوْتِ فَقَالَ أَوَلَمْ يَبْقَ مِنْ عُمْرِي أَرْبَعُونَ سَنَةً قَالَ أَوَلَمْ تُعْطِهَا ابْنَكَ دَاوُدَ قَالَ فَجَحَدَ آدَمُ فَجَحَدَتْ ذُرِّيَّتُهُ وَنَسِيَ آدَمُ فَنَسِيَتْ ذُرِّيَّتُهُ وَخَطِئَ آدَمُ فَخَطِئَتْ ذُرِّيَّتُهُ ".قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ .

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তা’আলা আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন তখন তিনি তাঁর পিঠ মাসেহ করলেন। এতে তাঁর পিঠ থেকে তাঁর সমস্ত সন্তান বের হলো, যাদের তিনি কিয়ামত পর্যন্ত সৃষ্টি করবেন। তিনি তাদের প্রত্যেকের দুই চোখের মাঝখানে নূরের ঔজ্জল্য সৃষ্টি করলেন, অতঃপর তাদেরকে আদম (আঃ) এর সামনে পেশ করলেন। আদম (আঃ) বললেনঃ হে প্রভু! এরা কারা? আল্লাহ বললেন, এরা তোমার সন্তান।আদমের দৃষ্টি তাঁর সন্তানদের একজনের উপর পড়লো যাঁর দুই চোখের মাঝখানের ঔজ্জল্যে তিনি বিস্মিত হলেন। তিনি বললেন, হে আমার প্রভু! ইনি কে? আল্লাহ তা’আলা বললেনঃ শেষ যামানার উম্মাতের অন্তর্গত তোমার সন্তানদের একজন। তাঁর নাম দাউদ (আঃ)। আদম (আঃ) বললেনঃ হে আমার রব! আপনি তাঁর বয়স কত নির্ধারণ করেছেন? আল্লাহ বললেনঃ ৬০ বছর। আদম (আঃ) বললেনঃ পরোয়ারদিগার! আমার বয়স থেকে ৪০ বছর (কেটে) তাঁকে দিন।আদম (আঃ) এর বয়স শেষ হয়ে গেলে তাঁর নিকট মালাকুত মউত _ আযরাইল) এসে হাজির হন। আদম (আঃ) বললেনঃ আমার বয়সের কি আরো ৪০ বছর অবশিষ্ট নেই? তিনি বললেনঃ আপনি কি আপনার সন্তান দাউদকে দান করেননি? রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আদম (আঃ) অস্বীকার করলেন, তাই তাঁর সন্তানরাও অস্বীকার করে থাকে। আদম (আঃ) ভুলে গিয়েছিলেন, তাই তাঁর সন্তানদেরও ত্রুটি বিচ্যুতি হয়ে থাকে।

আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদিসটি হাসান সহীহ। আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) এর বরাতে নাবী (ﷺ) হতে অন্যভাবেও এটি বর্ণিত হয়েছে।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৭৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহ আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করার পর তাঁর পিঠ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সব সন্তানকে বের করেন এবং তাদের সামনে পেশ করেন। আদম (আঃ) এক ব্যক্তির দুই চোখের মাঝখানের উজ্জ্বলতা দেখে তাঁর পরিচয় জানতে চান। আল্লাহ জানান, তিনি দাউদ (আঃ) এবং তাঁর নির্ধারিত বয়স ষাট বছর। আদম (আঃ) নিজের বয়স থেকে চল্লিশ বছর তাঁকে দিতে চান। পরে আদম (আঃ)-এর নির্ধারিত আয়ু শেষ হলে মৃত্যুর ফেরেশতা আসেন। তখন তিনি নিজের আরও চল্লিশ বছর বাকি থাকার কথা বলেন। তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, সেই সময় তিনি দাউদ (আঃ)-কে দিয়েছেন। হাদিসের শেষে নবী (صلى الله عليه وسلم) আদমের অস্বীকার, ভুলে যাওয়া ও ত্রুটির সঙ্গে তাঁর সন্তানদের একই মানবীয় প্রবণতার কথা বলেন।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আদম (আঃ) দাউদ (আঃ)-কে নিজের আয়ু থেকে চল্লিশ বছর দেন।
  • দাউদ (আঃ)-এর নির্ধারিত বয়স ষাট বছর বলা হয়েছে।
  • পরে আদম (আঃ) সেই দানের কথা ভুলে যান।
  • হাদিসে মানুষের অস্বীকার, ভুলে যাওয়া ও ত্রুটির প্রবণতা উল্লেখ করা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন