৪৪/১০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১০৩ - কুরআন সংকলনের ইতিহাস ও জাইদ ইবনু সাবিত
সূরা আত-তাওবা
কুরআন সংকলনের ইতিহাস: আবু বকর ও জাইদ ইবনু সাবিত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১০৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১০৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ السَّبَّاقِ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ، حَدَّثَهُ قَالَ بَعَثَ إِلَىَّ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ مَقْتَلَ أَهْلِ الْيَمَامَةِ فَإِذَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عِنْدَهُ فَقَالَ إِنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَدْ أَتَانِي فَقَالَ إِنَّ الْقَتْلَ قَدِ اسْتَحَرَّ بِقُرَّاءِ الْقُرْآنِ يَوْمَ الْيَمَامَةِ وَإِنِّي لأَخْشَى أَنْ يَسْتَحِرَّ الْقَتْلُ بِالْقُرَّاءِ فِي الْمَوَاطِنِ كُلِّهَا فَيَذْهَبَ قُرْآنٌ كَثِيرٌ وَإِنِّي أَرَى أَنْ تَأْمُرَ بِجَمْعِ الْقُرْآنِ .قَالَ أَبُو بَكْرٍ لِعُمَرَ كَيْفَ أَفْعَلُ شَيْئًا لَمْ يَفْعَلْهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ عُمَرُ هُوَ وَاللَّهِ خَيْرٌ فَلَمْ يَزَلْ يُرَاجِعُنِي فِي ذَلِكَ حَتَّى شَرَحَ اللَّهُ صَدْرِي لِلَّذِي شَرَحَ لَهُ صَدْرَ عُمَرَ وَرَأَيْتُ فِيهِ الَّذِي رَأَى قَالَ زَيْدٌ قَالَ أَبُو بَكْرٍ إِنَّكَ شَابٌّ عَاقِلٌ لاَ نَتَّهِمُكَ قَدْ كُنْتَ تَكْتُبُ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ الْوَحْىَ فَتَتَبَّعِ الْقُرْآنَ . قَالَ فَوَاللَّهِ لَوْ كَلَّفُونِي نَقْلَ جَبَلٍ مِنَ الْجِبَالِ مَا كَانَ أَثْقَلَ عَلَىَّ مِنْ ذَلِكَ قَالَ قُلْتُ كَيْفَ تَفْعَلُونَ شَيْئًا لَمْ يَفْعَلْهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ هُوَ وَاللَّهِ خَيْرٌ . فَلَمْ يَزَلْ يُرَاجِعُنِي فِي ذَلِكَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ حَتَّى شَرَحَ اللَّهُ صَدْرِي لِلَّذِي شَرَحَ صَدْرَهُمَا صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ فَتَتَبَّعْتُ الْقُرْآنَ أَجْمَعُهُ مِنَ الرِّقَاعِ وَالْعُسُبِ وَاللِّخَافِ يَعْنِي الْحِجَارَةَ الرِّقَاقَ وَصُدُورِ الرِّجَالِ فَوَجَدْتُ آخِرَ سُورَةِ بَرَاءَةَ مَعَ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ : ﴾ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ * فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ ﴿ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইয়ামামার যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের শাহাদাতের যমানায় আবূ বাক্র সিদ্দীক্ব (রাঃ) আমায় ডেকে পাঠান। আমি গিয়ে দেখলাম, 'উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-ও তাঁর নিকট উপস্থিত। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, 'উমর আমার নিকট এসে বললেন, অসংখ্য কোরআনের ক্বারী (হাফিয) ইয়ামামার যুদ্ধের দিন শহীদ হয়েছেন। আমার আশঙ্কা হচ্ছে, সর্বত্র এভাবে ক্বারীগণ শহীদ হয়ে গেলে কোরআনের অনেক অংশই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। আমি মনে করি আপনি কোরআন সংকলনের নির্দেশ দিন।আবূ বকর (রাঃ) 'উমর (রাঃ)-কে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে যে কাজ করে যাননি আমি কিভাবে তা করতে পারি? 'উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! এটা খুবই ভালো কাজ। তিনি আমার নিকট বারবার তাঁর কথার পুনরাবৃত্তি করে যাচ্ছিলেন। অবশেষে সেই কাজের জন্য আল্লাহ তা'আলা আমার বক্ষও উন্মুক্ত করে দিলেন, যার জন্য তিনি (আগেই) 'উমরের বক্ষ উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। আমিও উক্ত কাজে সেই কল্যাণ লক্ষ্য করলাম যা তিনি (আমার আগেই) লক্ষ্য করেছিলেন।যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) বলেন, আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তুমি একজন জ্ঞানবান যুবক। আমি তোমাকে কোন বিষয়ে দোষারোপ করিনি। আর তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর জীবদ্দশায় কোরআন লিপিবদ্ধ করতে। অতএব তুমি কোরআনের (বিভিন্ন অংশ) অনুসন্ধানে লেগে যাও। যাইদ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! তাঁরা যদি আমাকে পর্বতমালার মধ্য হতে কোন পাহাড় স্থানান্তরের কষ্টে নিক্ষেপ করতেন তাও আমার জন্য এ মহা দায়িত্বের তুলনায় এত বেশি ভারবহ হত না। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে যে কাজ করেননি আপনারা তা কিভাবে করতে পারেন? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! এটা খুবই ভালো কাজ। আবু বাক্র ও 'উমর (রাঃ) উভয়ে ঐ কথার পুনরাবৃত্তি করে যাচ্ছিলেন।অবশেষে আল্লাহ তা'আলা আবূ বাক্র ও 'উমরের ন্যায় আমার বক্ষও উন্মুক্ত করে দিলেন। অতএব আমি চামড়ার টুকরাসমূহ, খেজুর পত্র, মসৃণ পাথর ও লোকদের অন্তঃকরণ হতে খুঁজে খুঁজে সম্পূর্ণ কোরআন একত্র করলাম। সূরা বারাআতের শেষ অংশটুকু আমি খুযাইমাহ্ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর নিকট পেলাম।তা হল (অনুবাদ) : "অবশ্যই তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছেন। তোমাদেরকে যা বিপন্ন করে তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক। সে তোমাদের কল্যাণকামী এবং মু'মিনদের প্রতি দয়ার্দ্র ও অত্যন্ত করুণাসক্ত। এতদসত্ত্বেও তাঁরা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বল : আল্লাহ তা'আলাই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই। আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি এবং তিনিই মহান আরশের মালিক’ -(সূরা আত্-তাওবাহ্ ১২৮, ১২৯)।
আবূ ‘ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর সময়ে কুরআন সংকলনের সূচনা বর্ণিত হয়েছে। ইয়ামামার যুদ্ধে বহু কুরআনের কারী শহীদ হলে উমর (রাঃ) আশঙ্কা করেন, এভাবে হাফেজরা শহীদ হতে থাকলে কুরআনের অংশ হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। প্রথমে আবু বকর (রাঃ) দ্বিধায় পড়েন, কারণ রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এভাবে একটি সংকলন তৈরি করেননি। পরে তিনি কাজটির কল্যাণ বুঝতে পারেন। জ্ঞানী, বিশ্বস্ত এবং ওহি লেখার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ)-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি চামড়ার টুকরা, খেজুরের পাতা, পাতলা পাথর এবং মানুষের মুখস্থ জ্ঞান থেকে কুরআনের অংশগুলো খুঁজে একত্র করেন। দায়িত্বটি তাঁর কাছে পাহাড় সরানোর চেয়েও ভারী মনে হয়েছিল। হাদিসটি কুরআন সংরক্ষণে সতর্কতা, দায়িত্ববোধ ও যাচাইয়ের গুরুত্ব দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন সংরক্ষণের কাজে সাহাবিরা গভীর সতর্কতা ও দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন।
- বড় কল্যাণের কাজ গ্রহণের আগে তাঁরা চিন্তা, পরামর্শ ও যাচাই করেছেন।
- জাইদ (রাঃ) লিখিত উপকরণ ও মানুষের মুখস্থ পাঠ—দুই উৎস থেকেই কুরআন সংগ্রহ করেন।
- গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি দায়িত্ব যোগ্য ও বিশ্বস্ত ব্যক্তির হাতে দেওয়া উচিত।
