৪৪/১১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১০৬ - সত্য স্বপ্ন ও দুনিয়ার সুসংবাদ
সূরা ইউনুস
সত্য স্বপ্নের অর্থ: মুমিনের জন্য দুনিয়ার সুসংবাদ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১০৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১০৬
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَهْلِ مِصْرَ قَالَ سَأَلْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ عَنْ هَذِهِ الآيَةِ : ﴾ لَهُمُ الْبُشْرَى، فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ﴿ قَالَ مَا سَأَلَنِي عَنْهَا أَحَدٌ مُنْذُ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَنْهَا فَقَالَ «مَا سَأَلَنِي عَنْهَا أَحَدٌ غَيْرُكَ مُنْذُ أُنْزِلَتْ فَهِيَ الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ يَرَاهَا الْمُسْلِمُ أَوْ تُرَى لَهُ».
আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জনৈক মিসরবাসীর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবুদ দারদা (রাঃ)–কে আল্লাহ তা’আলার বাণী “পার্থিব জীবনে তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ’’ –(সূরা ইউনুস ৬৪) প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে এ আয়াত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করার পর হতে আজ পর্যন্ত আর কেউ এ প্রসঙ্গে আমার নিকট জানতে চায়নি। আমিও এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেছিলেন : এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়া অবধি তুমি ব্যতীত আর কেউ আমাকে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেনি। এটা (বুশরা) হচ্ছে সত্য স্বপ্ন, যা মুসলিম ব্যক্তি দেখে বা তাকে দেখানো হয়।
ইবনু আবী ‘উমর-সুফইয়ান হতে, তিনি ‘আবদুল আযীয ইবনু রুফাই হতে, তিনি আবু সালিহ আল সান্মান হতে, তিনি আতা ইবনু ইয়াসার হতে, তিনি মিসরীয় ব্যক্তি হতে, তিনি আবুদ দারদা (রাঃ) হতে এই সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। আহমাদ ইবনু ‘আবদাহ আয-যাব্বী –হান্মাদ ইবনু যাইদ হতে, তিনি ‘আসিম ইবনু বাহদালাহ হতে, তিনি আবু সালিহ হতে, তিনি আবুল দারদা (রাঃ) হতে, তিনি নবী (ﷺ) হতে এই সূত্রেও পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। অবশ্য তাতে আতা ইবনু ইয়াসার –এর উল্লেখ নেই। ‘উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা ইউনুসের ‘পার্থিব জীবনে তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ’ কথাটির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এক মিসরবাসী আবু দারদা (রাঃ)-কে আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। আবু দারদা (রাঃ) জানান, তিনিও একসময় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে একই প্রশ্ন করেছিলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছিলেন, আয়াত নাজিল হওয়ার পর তার আগে আর কেউ এ প্রশ্ন করেনি। এরপর তিনি বলেন, এই সুসংবাদ হলো সত্য বা ভালো স্বপ্ন, যা কোনো মুসলিম নিজে দেখে অথবা তাকে নিয়ে অন্য কাউকে দেখানো হয়। হাদিসটি স্বপ্নের সব ধরন নিয়ে আলোচনা করে না এবং প্রতিটি স্বপ্নকে সুসংবাদও বলে না। এখানে নির্দিষ্টভাবে ‘রুয়ইয়া সালিহা’ বা সত্য স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে। তাই সত্য স্বপ্নকে আনন্দদায়ক ইঙ্গিত হিসেবে নেওয়া যায়, তবে হাদিসের বক্তব্যের বাইরে বাড়তি সিদ্ধান্ত যোগ করা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সত্য স্বপ্ন মুমিনের জন্য দুনিয়ার জীবনে সুসংবাদের একটি রূপ।
- সুস্বপ্ন ব্যক্তি নিজে দেখতে পারে, আবার তাকে নিয়ে অন্য কেউও দেখতে পারে।
- প্রতিটি স্বপ্নকে এই হাদিসের ‘সুসংবাদ’ বলা হয়নি; সত্য স্বপ্নের কথাই বলা হয়েছে।
- কুরআনের আয়াত বুঝতে সাহাবিরা সরাসরি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে প্রশ্ন করতেন।
