৪৪/১৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৪০ - রূহের রহস্য ও মানুষের জ্ঞানের সীমা
সূরা বানী ইসরাঈল
রূহ কী: মানুষের সীমিত জ্ঞান ও আল্লাহর অসীম বাণী
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১৪০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৪০
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَتْ قُرَيْشٌ لِيَهُودَ اعْطُونَا شَيْئًا نَسْأَلُ عَنْهُ هَذَا الرَّجُلَ فَقَالَ سَلُوهُ عَنِ الرُّوحِ قَالَ فَسَأَلُوهُ عَنِ الرُّوحِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ : ﴾ يَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلاَّ قَلِيلاً ﴿قَالُوا أُوتِينَا عِلْمًا كَثِيرًا التَّوْرَاةُ وَمَنْ أُوتِيَ التَّوْرَاةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا فَأُنْزِلَتْْ: ﴾ قُلْ لَوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِكَلِمَاتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ ﴿ إِلَى آخِرِ الآيَةِ قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কুরাইশরা ইয়াহূদীদের বলল, তোমরা আমাদেরকে এমন কিছু শিখিয়ে দাও যে প্রসঙ্গে আমরা এই ব্যক্তিকে (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে) প্রশ্ন করতে পারি। ইয়াহূদীরা বলল, তোমরা ‘রূহ’ প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন কর। বর্ণনাকারী বলেনঃ তারা রূহ (বা প্রাণ) বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করল।তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন : “লোকেরা রূহ প্রসঙ্গে তোমরা নিকট প্রশ্ন করে। বল, রূহ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত। জ্ঞানের খুব সামান্যই তোমাদেরকে প্রদান করা হয়েছে”- (সূরা বানী ইসরাঈল ৮৫)।ইয়াহূদীরা বলল, ‘আমাদের বিরাট বা প্রচুর জ্ঞান দান করা হয়েছে। আমাদেরকে তাওরাত কিতাব দেয়া হয়েছে। আর যাদেরকে তাওরাত গ্রন্থ দেয়া হয়েছে তাদেরকে প্রভূত কল্যাণ দেয়া হয়েছে।এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) : “বল, আমার প্রতিপালকের কথাগুলো লেখার জন্য সমুদ্রের সমস্ত পানি যদি কালি হয়ে যায় তবুও তা আমার প্রভুর কথাগুলো লিখে শেষ করার পূর্বেই নিঃশেষ হয়ে যাবে। আমরা যদি আবার একই রকম কালি নিয়ে আসি তবুও তা যথেষ্ট হবে না”- (সূরা বানী ইসরাঈল ১০৯)।
আবূ ‘ঈসা বলেন, উল্লেখিত সনদসূত্রে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৪০-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয় হলো রূহ ও মানুষের জ্ঞানের সীমা। কুরাইশরা ইয়াহুদীদের পরামর্শে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। তখন আয়াত নাজিল হয়: রূহ আল্লাহর আদেশের বিষয় এবং মানুষকে খুব সামান্য জ্ঞান দেওয়া হয়েছে। ইয়াহুদীরা নিজেদের বেশি জ্ঞান ও তাওরাতপ্রাপ্তির কথা বললে আরেকটি আয়াত নাজিল হয়। সেখানে বলা হয়, আল্লাহর কথাগুলো লিখতে সমুদ্রের পানি কালি হলেও তাঁর কথা শেষ হওয়ার আগে সমুদ্র শেষ হয়ে যাবে; একই পরিমাণ কালি আবার আনলেও যথেষ্ট হবে না। হাদিসটি দুটি সীমা স্পষ্ট করে: রূহের পূর্ণ বাস্তবতা মানুষের জ্ঞানের বাইরে এবং আল্লাহর বাণী মানুষের মাপের চেয়ে অসীমভাবে বড়। তাই অজানা বিষয়ে বিনয়ী থাকা এই বর্ণনার সরাসরি শিক্ষা। এ শিক্ষা জ্ঞানচর্চাকে থামায় না, বরং অহংকার থেকে রক্ষা করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রূহ আল্লাহর আদেশের অন্তর্ভুক্ত বিষয়।
- মানুষকে অল্প জ্ঞান দেওয়া হয়েছে।
- আল্লাহর বাণী লিখে শেষ করার জন্য সমুদ্রের কালিও যথেষ্ট নয়।
- জ্ঞান নিয়ে অহংকার না করে বিনয়ী থাকা উচিত।
