৪৪/১৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৪২ - কেয়ামতে তিন শ্রেণীর মানুষের হাশর
সূরা বানী ইসরাঈল
কেয়ামতের হাশর: তিন শ্রেণীতে মানুষের সমবেত হওয়ার বর্ণনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১৪২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৪২
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، وَسُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَوْسِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثَلاَثَةَ أَصْنَافٍ صِنْفًا مُشَاةً وَصِنْفًا رُكْبَانًا وَصِنْفًا عَلَى وُجُوهِهِمْ " . قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ يَمْشُونَ عَلَى وُجُوهِهِمْ قَالَ " إِنَّ الَّذِي أَمْشَاهُمْ عَلَى أَقْدَامِهِمْ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يُمْشِيَهُمْ عَلَى وُجُوهِهِمْ أَمَا إِنَّهُمْ يَتَّقُونَ بِوُجُوهِهِمْ كُلَّ حَدَبٍ وَشَوْكٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ.وَقَدْ رَوَى وُهَيْبٌ عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ شَيْئًا مِنْ هَذَا.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন লোকদেরকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করে উঠানো হবে। একদল লোক পায়ে হেঁটে, দ্বিতীয় দল সাওয়ারী অবস্থায় এবং তৃতীয় দল অধঃমুখে (এবং পা উপরে তুলে) হাজির হবে। প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহ্র রাসূল! এরা মুখমন্ডলে ভর করে চলবে কিভাবে? তিনি বললেনঃ যে মহান সত্তা তাদেরকে পায়ের সাহায্যে হাঁটিয়ে ছিলেন, তিনি তাদেরকে মুখমন্ডলে ভর করে হাঁটাতেও সক্ষম। এরা নিজেদের মুখের দ্বারা প্রতিটি উচু-নীচু ও কাটা উপেক্ষা করে রাস্তা পার হবে।
আবূ ঈসা (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। উহাইব (রহঃ) ইবনু তাঊসের সূত্রে, তিনি তাঁর পিতা হতে আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় কেয়ামতের হাশর। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেয়ামতের দিন মানুষকে তিন শ্রেণীতে উঠানো হবে। একদল পায়ে হেঁটে যাবে, একদল সওয়ার অবস্থায় থাকবে এবং আরেক দলকে মুখের ওপর ভর করে হাজির করা হবে। সাহাবীরা স্বাভাবিকভাবেই জানতে চাইলেন, মানুষ মুখের ওপর ভর করে কীভাবে চলবে। উত্তরে তিনি আল্লাহর ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন—যিনি মানুষকে পায়ের সাহায্যে চলার শক্তি দিয়েছেন, তিনি মুখের ওপরও চলাতে সক্ষম। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, তারা মুখ দিয়েই উঁচু-নিচু জায়গা ও কাঁটার পথ অতিক্রম করবে। এই বর্ণনা কেয়ামতের ভয়াবহতা এবং আল্লাহর পূর্ণ ক্ষমতা মনে করায়। এখানে মূল লক্ষ্য অদেখা ঘটনার কৌশল কল্পনা করা নয়; বরং হাশরের বাস্তবতা ও জবাবদিহির জন্য প্রস্তুত হওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেয়ামতের দিন মানুষের হাশর এক অবস্থায় হবে না।
- আল্লাহ যেভাবে পায়ে হাঁটান, মুখের ওপর চলাতেও তিনি সক্ষম।
- আখিরাতের বর্ণনা শুনে আল্লাহর ক্ষমতাকে দুনিয়ার সীমিত নিয়মে মাপা ঠিক নয়।
- হাশরের ভয়াবহতা মানুষকে আমল ও জবাবদিহির কথা মনে করায়।
