৪৪/২০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৫৫ - ‘হে হারুনের বোন’ কথার ব্যাখ্যা
সূরা মারইয়াম
‘হে হারুনের বোন’ কেন বলা হয়েছে: নামকরণের নববী ব্যাখ্যা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১৫৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৫৫
حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، وَأَبُو مُوسَى مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ،قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِلَى نَجْرَانَ فَقَالُوا لِي أَلَسْتُمْ تَقْرَءُونَ : ﴾ يَا أُخْتَ هَارُونَ ﴿ وَقَدْ كَانَ بَيْنَ عِيسَى وَمُوسَى مَا كَانَ فَلَمْ أَدْرِ مَا أُجِيبُهُمْ . فَرَجَعْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ " أَلاَّ أَخْبَرْتَهُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا يُسَمُّونَ بِأَنْبِيَائِهِمْ وَالصَّالِحِينَ قَبْلَهُمْ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ إِدْرِيسَ .
মুগীরাহ্ ইবনু শু'বাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে নাজরান নামক জায়গায় পাঠালেন। সে অঞ্চলের (খ্রিস্টান) অধিবাসীরা আমাকে বললো, তোমরা কি পাঠ কর না : “হে হারূনের বোন”- (সূরা মারইয়াম ২৮)? অথচ মূসা ও ‘‘ঈসা (আঃ)- এর মাঝখানে সময়ের যে ব্যবধান ছিল তাতো জানা কথা। তাদের এ প্রশ্নের কি জবাব যে আমি দিতে পারি তা আমি বুঝতে পারিনি। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে এ বিষয়ে জানালাম। তিনি বললেনঃ তুমি তাদেরকে এতটুকুও কি জানাতে পারলে না যে, তারা (বানী ইসরাঈল) নিজেদের নাম রাখতো তাদের পূর্ববর্তী নবী-রাসূল ও মহান ব্যক্তিদের নামানুসারে।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আমরা এ হাদীস শুধু ইবনু ইদরীসের সূত্রেই জেনেছি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় নামকরণ ও কুরআনের একটি প্রশ্নের জবাব। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মুগীরা ইবনু শুবা (রা.)-কে নাজরানে পাঠালে সেখানকার খ্রিস্টানরা ‘হে হারুনের বোন’ কথাটি নিয়ে প্রশ্ন করে। তাদের আপত্তি ছিল, মূসা (আ.) ও ঈসা (আ.)-এর মধ্যে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান রয়েছে। মুগীরা (রা.) তখন উত্তর জানতেন না এবং ফিরে এসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জানান। তিনি ব্যাখ্যা করেন, আগের লোকেরা নিজেদের সন্তানদের নাম পূর্ববর্তী নবী, রাসূল ও নেককার ব্যক্তিদের নামে রাখত। ফলে ‘হারুন’ নামটি শুধু মূসা (আ.)-এর ভাই হারুন (আ.)-কেই বোঝাবে—এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। হাদিসটি শেখায়, জটিল প্রশ্নে না জানলে ফিরে এসে জিজ্ঞেস করা দোষ নয়। সঠিক ব্যাখ্যা জানার পর শান্তভাবে উত্তর দেওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- না জানা প্রশ্নে অনুমান না করে জ্ঞানীর কাছে ফিরে যাওয়া উচিত।
- আগের লোকেরা নবী ও নেককারদের নামে সন্তানদের নাম রাখত।
- একই নামের একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারে—শুধু নাম দেখে সময়কাল নির্ধারণ ঠিক নয়।
- কুরআনের প্রশ্নের জবাব দলিলভিত্তিক ও পরিষ্কার ভাষায় দেওয়া দরকার।
