২/১২৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৭ - কোথায় নামাজ পড়া যায়
কবরস্থান ও গোসলখানা ছাড়া সমগ্র পৃথিবীই নামাজ আদায়ের জায়গা
নামাজের স্থান: কবরস্থান ও গোসলখানা ছাড়া পৃথিবী নামাজের জায়গা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৭
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، وَأَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ الْمَرْوَزِيُّ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «الأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدٌ إِلاَّ الْمَقْبُرَةَ وَالْحَمَّامَ " .قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَجَابِرٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَحُذَيْفَةَ وَأَنَسٍ وَأَبِي أُمَامَةَ وَأَبِي ذَرٍّ قَالُوا إِنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ «جُعِلَتْ لِيَ الأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا» .قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ قَدْ رُوِيَ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ رِوَايَتَيْنِ مِنْهُمْ مَنْ ذَكَرَهُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَمِنْهُمْ مَنْ لَمْ يَذْكُرْهُ . وَهَذَا حَدِيثٌ فِيهِ اضْطِرَابٌ . رَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مُرْسَلٌ . وَرَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ . وَرَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى عَنْ أَبِيهِ قَالَ وَكَانَ عَامَّةُ رِوَايَتِهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ . وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ . وَكَأَنَّ رِوَايَةَ الثَّوْرِيِّ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَثْبَتُ وَأَصَحُّ مُرْسَلاً .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কবরস্থান ও গোসলখানা ছাড়া সারা পৃথিবীই নামাজ আদায়ের উপযোগী।
এ অনুচ্ছেদে ‘আলী, আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর, আবূ হুরায়রা, জাবির, ইবনু ‘আব্বাস, হুযাইফা, আনাস, আবূ উমামা ও আবূ যার (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। তাঁরা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ “সারা পৃথিবীকে আমার জন্য মসজিদ এবং পবিত্র হওয়ার মাধ্যম বানানো হয়েছে”। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবূ সা’ঈদের হাদীসটি ‘আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদের সূত্রে দুটি ধারায় বর্ণিত হয়েছে। একটি ধারায় আবূ সা’ঈদের বরাত দিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে, অপর ধারায় তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়নি। এ হাদীসটিকে মুযতারিব (গোলমাল) বলা হয়েছে। সুফিয়ান সাওরী-’আমর ইবনু ইয়াহিয়া হতে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে এ হাদীসটি মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করেছেন। এ সূত্রটিই বেশি সহীহ্ ও সুপ্রতিষ্ঠিত।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কবরস্থান ও গোসলখানা ছাড়া সারা পৃথিবীই নামাজ আদায়ের উপযোগী। মূল বিষয় হলো নামাজের স্থান। ইসলাম নামাজকে একটি নির্দিষ্ট ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি; পবিত্র ও উপযুক্ত স্থানে নামাজ পড়ার সুযোগ দিয়েছে। তবে এই হাদিসে দুটি জায়গা আলাদা করে বলা হয়েছে—কবরস্থান এবং গোসলখানা। তাই যেখানে-সেখানে নামাজ পড়ার কথা বললেও এই দুটি জায়গার ব্যতিক্রম মনে রাখতে হবে। হাদিসের পরবর্তী অংশে তিরমিজীর আলোচনায় বর্ণনার সনদ নিয়ে কথাও আছে, কিন্তু অনুবাদের মূল বাক্য থেকে শিক্ষা হলো, নামাজের জন্য জায়গা ব্যাপক হলেও কিছু সীমা আছে। নামাজের স্থান, কবরস্থান, গোসলখানা ও সালাতের আদব জানতে এই হাদিস প্রাসঙ্গিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পৃথিবীর অনেক জায়গায় নামাজ আদায়ের সুযোগ আছে।
- কবরস্থান ও গোসলখানাকে এই বর্ণনায় ব্যতিক্রম করা হয়েছে।
- নামাজের স্থান বেছে নেওয়ার সময় পবিত্রতা ও আদব দেখা দরকার।
- ইসলামে ইবাদতের ক্ষেত্রে সহজতা আছে, তবে সীমাও আছে।
