৪৪/৩৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৯৮ - সর্বনিম্ন মর্যাদার জান্নাতির পুরস্কার
সূরা আস-সাজদাহ
সর্বনিম্ন মর্যাদার জান্নাতি: রাজত্বের দশ গুণ ও মনের সব কামনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১৯৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৯৮
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ طَرِيفٍ، وَعَبْدِ الْمَلِكِ، وَهُوَ ابْنُ أَبْجَرَ سَمِعَا الشَّعْبِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ، عَلَى الْمِنْبَرِ يَرْفَعُهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " إِنَّ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ سَأَلَ رَبَّهُ فَقَالَ أَىْ رَبِّ أَىُّ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَدْنَى مَنْزِلَةً قَالَ رَجُلٌ يَأْتِي بَعْدَ مَا يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ فَيُقَالُ لَهُ ادْخُلِ الْجَنَّةَ . فَيَقُولُ كَيْفَ أَدْخُلُ وَقَدْ نَزَلُوا مَنَازِلَهُمْ وَأَخَذُوا أَخَذَاتِهِمْ. قَالَ فَيُقَالُ لَهُ أَتَرْضَى أَنْ يَكُونَ لَكَ مَا كَانَ لِمَلِكٍ مِنْ مُلُوكِ الدُّنْيَا فَيَقُولُ نَعَمْ أَىْ رَبِّ قَدْ رَضِيتُ. فَيُقَالُ لَهُ فَإِنَّ لَكَ هَذَا وَمِثْلَهُ وَمِثْلَهُ وَمِثْلَهُ فَيَقُولُ رَضِيتُ أَىْ رَبِّ . فَيُقَالُ لَهُ فَإِنَّ لَكَ هَذَا وَعَشْرَةَ أَمْثَالِهِ فَيَقُولُ رَضِيتُ أَىْ رَبِّ . فَيُقَالُ لَهُ فَإِنَّ لَكَ مَعَ هَذَا مَا اشْتَهَتْ نَفْسُكَ وَلَذَّتْ عَيْنُكَ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَرَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنِ الْمُغِيرَةِ وَلَمْ يَرْفَعْهُ وَالْمَرْفُوعُ أَصَحُّ .
মুগীরাহ্ ইবনু শু'বাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মিম্বারে দাড়িয়ে বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মূসা (আঃ) নিজ সৃষ্টিকর্তার নিকট আরজ করলেনঃ হে প্রভু! সর্বাপেক্ষা নিম্ন শ্রেণীর জান্নাতী কে? তিনি (আল্লাহ) বললেনঃ জান্নাতবাসীরা জান্নাতে চলে যাওয়ার পর এক লোক উপস্থিত হবে। তাকে বলা হবে, প্রবেশ কর। সে বলবে, আমি কি করে জান্নাতে প্রবেশ করব, লোকেরা তো নিজ নিজ স্থানে পৌছে তা দখল করে নিয়েছে!তখন তাকে বলা হবে, দুনিয়ার বাদশাদের মধ্যে একজন বাদশার যত বড় রাজত্ব হতে পারে, তোমাকে যদি ততটুকু দেয়া হয় তবে তুমি কি খুশি হবে? সে বলবে, হে প্রভু! হ্যাঁ আমি তাতে খুশি হব। তাকে বলা হবে, তোমাকে এ পরিমাণ এবং এর অতিরিক্ত তিন গুণ স্থান দেয়া হল। সে বলবে, হে প্রভু! আমি এতে খুশি আছি। তাকে বলা হবে, তোমাকে এই পরিমাণ দেয়া হল এবং তার দশ গুণ দেয়া হল। সে বলবে, হে প্রভু! আমি সন্তুষ্ট হলাম। তাকে বলা হবে, এ ব্যতীতও তোমার আত্মা যা কামনা করবে এবং তোমার চোখ যা পেয়ে শীতল হবে তাও তোমাকে দেয়া হবে।
আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। কিছু বর্ণনাকারী শা'বী হতে, তিনি মুগীরাহ (রাঃ) হতে, এই সনদে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মারফুরূপে নয়। তবে মারফুরূপে বর্ণিত হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মূসা (আঃ) আল্লাহর কাছে সর্বনিম্ন মর্যাদার জান্নাতি সম্পর্কে জানতে চান। উত্তরে এমন একজনের কথা বলা হয়, যে অন্য জান্নাতিরা নিজেদের স্থানে পৌঁছানোর পর আসবে। সে মনে করবে, সব জায়গা বুঝি দখল হয়ে গেছে। তখন তাকে দুনিয়ার একজন বাদশাহর রাজ্যের সমান দেওয়ার প্রস্তাব করা হবে। সে সন্তুষ্টি জানাবে। এরপর তাকে আরও বাড়িয়ে দেওয়া হবে এবং শেষে ওই পরিমাণের দশ গুণ দেওয়ার কথা বলা হবে। তাতেও সে সন্তুষ্ট হবে। শুধু রাজ্য নয়, তার মন যা চাইবে এবং চোখ যা দেখে আনন্দ পাবে, তাও দেওয়া হবে। হাদিসটি সর্বনিম্ন মর্যাদার জান্নাতির পুরস্কার দিয়েই জান্নাতের দানের বিশালতা বোঝায়। এখানে তুলনাটি মানুষের পরিচিত দুনিয়াবি রাজত্ব দিয়ে শুরু হলেও পুরস্কার তার চেয়ে বহু বেশি এবং ব্যক্তিগত কামনা ও চোখের আনন্দ পর্যন্ত বিস্তৃত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সর্বনিম্ন মর্যাদার জান্নাতির পুরস্কারও দুনিয়ার বড় রাজত্বের চেয়ে অনেক বেশি।
- আল্লাহ বান্দাকে ধাপে ধাপে আরও বড় দানের সংবাদ দেবেন।
- জান্নাতে মনের কামনা ও চোখের আনন্দের বিষয়ও দেওয়া হবে।
- হাদিসটি আল্লাহর দানের ব্যাপকতা ও বান্দার সন্তুষ্টি তুলে ধরে।
