৪৪/৩৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২০০ - আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকার পূরণের দৃষ্টান্ত
সূরা আল-আহযাব
অঙ্গীকার পূরণ ও শাহাদাত: আনাস ইবন নযর রাঃ-এর উহুদের দৃষ্টান্ত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩২০০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২০০
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ عَمِّي أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ سُمِّيتُ بِهِ لَمْ يَشْهَدْ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَكَبُرَ عَلَيْهِ فَقَالَ أَوَّلُ مَشْهَدٍ شَهِدَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ غِبْتُ عَنْهُ أَمَا وَاللَّهِ لَئِنْ أَرَانِيَ اللَّهُ مَشْهَدًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ لَيَرَيَنَّ اللَّهُ مَا أَصْنَعُ .قَالَ فَهَابَ أَنْ يَقُولَ غَيْرَهَا فَشَهِدَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يَوْمَ أُحُدٍ مِنَ الْعَامِ الْقَابِلِ فَاسْتَقْبَلَهُ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ فَقَالَ يَا أَبَا عَمْرٍو أَيْنَ قَالَ وَاهًا لِرِيحِ الْجَنَّةِ أَجِدُهَا دُونَ أُحُدٍ فَقَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ فَوُجِدَ فِي جَسَدِهِ بِضْعٌ وَثَمَانُونَ مِنْ بَيْنِ ضَرْبَةٍ وَطَعْنَةٍ وَرَمْيَةٍ فَقَالَتْ عَمَّتِي الرُّبَيِّعُ بِنْتُ النَّضْرِ فَمَا عَرَفْتُ أَخِي إِلاَّ بِبَنَانِهِ . وَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةَُ : ﴾رجالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلاً ﴿ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার চাচা আনাস ইবনু নাযর (রাঃ)- যার নামানুসারে আমার নাম রাখা হয়েছে- বলেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। ব্যাপারটি তাঁর নিকট অসহনীয় লাগছিল। তিনি বলেন, মুশরিকদের সাথে প্রথম যে যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উপস্থিত ছিলেন আমি তাতে অনুপস্থিত রইলাম। আল্লাহর কসম! যদি তিনি আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে কোন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেন তবে আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই দেখবেন আমি কি করি। এ কথা বলার সাথে সাথে তাঁর ভয় হল যে, তিনি বিপরীতের কিছু বলেন কি না।পরবর্তী বছর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে উহুদের যুদ্ধে শরীক হন। উহুদে যেতে পথিমধ্যে সা’দ ইবনু মুআয (রাঃ)-এর সাথে তাঁর দেখা হয়। তিনি প্রশ্ন করেন, হে আবু আমর! কোথায় যাচ্ছ? তিনি বললেন, আহা! জান্নাতের ঘ্রাণের দিকে। আমি উহুদের দিকে তা অনুভব করছি। (বর্ণনাকারী বলেন), তিনি যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন। তাঁর শরীরে আশিরও বেশি জখম ছিল। এর মধ্যে কিছু ছিল তরবারির আঘাত, কিছু বর্শার আঘাত এবং কিছু তীরের আঘাত। আমার ফুফু রুবাই বিনতু নাযর (রাঃ) বলেন, জখমের কারণে আমি আমার ভাইকে চিনতে পারছিলাম না। শুধু তাঁর আঙ্গুলের গোছা দেখেই তাঁকে চিনতে পেরেছি।তাঁর সম্পর্কেই এ আয়াত অবতীর্ণ হল (অনুবাদ)ঃ “ঈমানদার ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু লোক আল্লাহ তা'আলার সাথে তাদের কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে, তাদের কেউ কেউ নিজের ইচ্ছা পূর্ণ করেছে (শহীদ হয়েছে) এবং কেউ অপেক্ষায় রয়েছে। তাঁরা নিজেদের অঙ্গীকারে কোন পরিবর্তন করেনি"- (সূরা আহ্যাব ২৩)।
আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস ইবন নযর (রাঃ)-এর অঙ্গীকার, সাহস এবং উহুদে শাহাদাতের ঘটনা এসেছে। তিনি বদর যুদ্ধে অংশ নিতে না পারায় গভীর কষ্ট পান। পরে সুযোগ পেলে আল্লাহ তাঁর কাজ দেখবেন—এমন কথা বলেন, তবে বাড়তি দাবি করতে ভয়ও অনুভব করেন। পরের বছর উহুদের পথে সা’দ ইবন মু’আয (রাঃ)-এর সঙ্গে দেখা হলে তিনি জান্নাতের ঘ্রাণ পাওয়ার কথা বলেন। এরপর যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন। তাঁর শরীরে আশিরও বেশি তরবারি, বর্শা ও তীরের আঘাত পাওয়া যায়। এত আঘাতে তাঁর বোন শুধু আঙুল দেখে তাঁকে চিনতে পারেন। তাঁর বিষয়ে সেই আয়াত নাজিল হয়, যেখানে কিছু মুমিন আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার সত্য করে দেখিয়েছেন, কেউ তা পূর্ণ করেছেন এবং কেউ অপেক্ষায় আছেন; তারা অঙ্গীকার বদলাননি। হাদিসটি কথা, কাজ ও ত্যাগের মিল দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার কাজে সত্য করে দেখানো মুমিনের গুণ।
- সুযোগ হারানোর কষ্ট পরবর্তী ভালো কাজে দৃঢ়তা আনতে পারে।
- আনাস ইবন নযর (রাঃ) উহুদে সাহসের সঙ্গে যুদ্ধ করে শহীদ হন।
- সত্যনিষ্ঠ মুমিনরা অঙ্গীকার বদলে না দিয়ে তাতে অটল থাকেন।
