৪৪/৩৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৩৪ - জামাত, ওজু ও নামাজের অপেক্ষা
সূরা সাদ
জামাতে হেঁটে যাওয়া, পূর্ণ ওজু ও নামাজের অপেক্ষার ফজিলত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩২৩৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২৩৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ اللَّجْلاَجِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «أَتَانِي رَبِّي فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ قُلْتُ لَبَّيْكَ رَبِّي وَسَعْدَيْكَ قَالَ فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى قُلْتُ رَبِّي لاَ أَدْرِي فَوَضَعَ يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَىَّ فَوَجَدْتُ بَرْدَهَا بَيْنَ ثَدْيَىَّ فَعَلِمْتُ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ قَالَ يَا مُحَمَّدُ . فَقُلْتُ لَبَّيْكَ رَبِّ وَسَعْدَيْكَ قَالَ فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى قُلْتُ فِي الدَّرَجَاتِ وَالْكَفَّارَاتِ وَفِي نَقْلِ الأَقْدَامِ إِلَى الْجَمَاعَاتِ وَإِسْبَاغِ الْوُضُوءِ فِي الْمَكْرُوهَاتِ وَانْتِظَارِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ وَمَنْ يُحَافِظْ عَلَيْهِنَّ عَاشَ بِخَيْرٍ وَمَاتَ بِخَيْرٍ وَكَانَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمَ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ " .قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَائِشٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার প্রতিপালক প্রভু সর্বোত্তম চেহারায় আমার নিকট আসলেন। তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! আমি বললাম, হে আমার রব! আমি উপস্থিত, আমি হাজির। তিনি প্রশ্ন করেনঃ ঊর্ধ জগতের অধিবাসীরা কি নিয়ে বিবাদ করছে? আমি উত্তর দিলাম, প্রভু! আমি জানি না। তিনি তাঁর হাত আমার দুই কাঁধের মধ্যখানে রাখলেন। এমনকি আমি এর শীতলতা আমার উভয় স্তনের মধ্যখানে (বুকে) অনুভব করলাম। পূর্ব-পশ্চিমের মাঝে যা কিছু আছে তা আমি জেনে নিলাম।অতঃপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি বললাম, হে আমার রব! আমি আপনার সামনে উপস্থিত আছি। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, ঊর্ধলোকের অধিবাসীরা কি নিয়ে বিতর্ক করছে? আমি জবাব দিলাম, মর্যাদা বৃদ্ধি, কাফ্ফারাত লাভ, পদব্রজে জামা‘আতে যোগদান, কষ্টকর অবস্থায়ও উত্তমরূপে ওজু করা এবং এক ওয়াক্তের নামাজ আদায় করার পর পরের ওয়াক্তের নামাজের অপেক্ষায় থাকা ইত্যাদি বিষয়ে তারা বিতর্ক করছে (একে অপরকে অতিক্রম করার চেষ্টা করছে)। যে লোক এগুলোর হিফাযাত করবে সে কল্যাণের মধ্যে বেঁচে থাকবে, কল্যাণময় মৃত্যুবরণ করবে এবং তার জননী তাকে প্রসব করার সময়ের মত গুনাহ মুক্ত হয়ে যাবে।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদিসটি হাসান এবং উল্লেখিত সনদসূত্রে গারীব। মু‘আয ইবনু জাবাল ও ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আয়িশ –এর বরাতেও নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীস মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-এর বরাতে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে অনেক দীর্ঘাকারে বর্ণিত রয়েছে। তাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম। ফলে আমার গভীর ঘুম এসে গেল। ঘুমের ভিতর আমি আমার প্রতিপালককে সুন্দরতম চেহারায় দেখতে পেলাম। তিনি প্রশ্ন করলেন, ঊর্ধজগতের অধিবাসীরা কি বিষয়ে বিবাদ করছে... শেষ পর্যন্ত।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৩৪-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: ইবাদতের ধারাবাহিকতা। এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বিশেষ বর্ণনা এসেছে, যেখানে উচ্চতর জগতের অধিবাসীরা মর্যাদা ও কাফফারার আমল নিয়ে আলোচনা করছেন। তিনি বলেন, জামাতে যোগ দিতে হেঁটে যাওয়া, কষ্টকর অবস্থায়ও ভালোভাবে ওজু করা এবং এক ওয়াক্তের নামাজের পর পরের ওয়াক্তের নামাজের অপেক্ষায় থাকা—এসব বিষয় সেই আলোচনার অংশ। যে ব্যক্তি এগুলো যত্নের সঙ্গে ধরে রাখে, তার জন্য কল্যাণের মধ্যে জীবন, কল্যাণময় মৃত্যু এবং গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়ার কথা বলা হয়েছে। হাদিসটি দৈনন্দিন ইবাদতের ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দেয়। নামাজ শুধু নির্দিষ্ট কয়েক মিনিটের কাজ নয়; মসজিদে যাওয়ার পথ, ওজুর যত্ন এবং পরবর্তী নামাজের অপেক্ষাও ইবাদতের অংশ হয়ে ওঠে। এতে শরীরের চেষ্টা, সময়ের শৃঙ্খলা এবং অন্তরের প্রস্তুতি—তিনটিই একসঙ্গে থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জামাতে হেঁটে যাওয়া মর্যাদাপূর্ণ আমল।
- কষ্টকর অবস্থাতেও পূর্ণ ও সুন্দর ওজু করতে বলা হয়েছে।
- এক নামাজের পর পরের নামাজের অপেক্ষা ইবাদতের ধারাবাহিকতা বাড়ায়।
- এসব আমল যত্নে রাখার জন্য হাদিসে বড় সুসংবাদ এসেছে।
