৪৪/৪১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৪০ - আসমান-জমিন ও সব সৃষ্টি আল্লাহর অধীন
সূরা আয-যুমার
আসমান, জমিন ও সব সৃষ্টির ওপর আল্লাহর পূর্ণ ক্ষমতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩২৪০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২৪০
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ، حَدَّثَنَا أَبُو كُدَيْنَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مَرَّ يَهُودِيٌّ بِالنَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ " يَا يَهُودِيُّ حَدِّثْنَا ". فَقَالَ كَيْفَ تَقُولُ يَا أَبَا الْقَاسِمِ إِذَا وَضَعَ اللَّهُ السَّمَوَاتِ عَلَى ذِهْ وَالأَرَضِينَ عَلَى ذِهْ وَالْمَاءَ عَلَى ذِهْ وَالْجِبَالَ عَلَى ذِهْ وَسَائِرَ الْخَلْقِ عَلَى ذِهْ. وَأَشَارَ أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ بِخِنْصَرِهِ أَوَّلاً ثُمَّ تَابَعَ حَتَّى بَلَغَ الإِبْهَامَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ : (وما قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ ).قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ. وَأَبُو كُدَيْنَةَ اسْمُهُ يَحْيَى بْنُ الْمُهَلَّبِ قَالَ رَأَيْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ شُجَاعٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّلْتِ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ইয়াহূদী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-র নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ হে ইয়াহুদী! কিছু শুনাও। সে বলল, হে আবুল কাসিম! যখন আল্লাহ তা’আলা আকাশসমূহ এক আঙ্গুলে, যমীনসমূহ এক আঙ্গুলে, পানি এক আঙ্গুলে, পাহাড়গুলো এক আঙ্গুলে এবং আর সকল সৃষ্টি এক আঙ্গুলে ধারণ করবেন এ প্রসঙ্গে আপনি কি বলেন? রাবী আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবনুস সালত তার হাত মুষ্টিবদ্ধ করে কনিষ্ঠা হতে বৃদ্ধা আঙ্গুলী পর্যন্ত ইঙ্গিত করে দেখালেন।এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন : “এই লোকেরা আল্লাহর প্রতি যতটুকু মর্যাদা দেয়া উচিত, তারা তাঁকে তা দেয়নি”। (সূরা আয-যুমার --৬৭)।
আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন : এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। এটা শুধু উল্লেখিত সনদসূত্রেই আমরা জেনেছি। আবূ কুদাইনার নাম ইয়াহইয়া ইবনুল মুহাল্লাব। মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল এ হাদীস হাসান ইবনু শুজার সূত্রে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুস সালতের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। যইফ, প্রাগুক্ত
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৪০-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: আল্লাহর ক্ষমতা। একজন ইহুদি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পাশ দিয়ে গেলে তিনি তাকে কিছু বলতে বলেন। সে আল্লাহর ক্ষমতার একটি বর্ণনা দেয়—আসমানসমূহ, জমিনসমূহ, পানি, পাহাড় এবং সব সৃষ্টি তাঁর অধীনে থাকবে। বর্ণনাকারী আঙুলের ইশারার কথা উল্লেখ করেছেন। এরপর সূরা যুমারের আয়াত নাজিল হয়—মানুষ আল্লাহকে যে মর্যাদা দেওয়া উচিত, তা দেয়নি। এই হাদিসের কেন্দ্র আল্লাহর মহত্ত্ব, ক্ষমতা ও সৃষ্টিজগতের ওপর তাঁর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব। আসমান, জমিন, পানি, পাহাড় ও অন্য সব কিছু তাঁর সৃষ্টি এবং তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। আয়াতটি মানুষের সীমিত ধারণাকে ঠিক করে এবং আল্লাহর মর্যাদা যথাযথভাবে বোঝার আহ্বান জানায়। হাদিসে ব্যবহৃত বর্ণনাকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে এবং নিজের কল্পনা দিয়ে তার ধরন নির্ধারণ করা উচিত নয়। মূল শিক্ষা হলো, সৃষ্টির বিশালতা দেখে স্রষ্টার ক্ষমতাকে ছোট ভাবা যায় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আসমান, জমিন, পানি, পাহাড় ও সব সৃষ্টি আল্লাহর অধীন।
- আল্লাহর মর্যাদা যথাযথভাবে বোঝা মানুষের দায়িত্ব।
- সৃষ্টিজগতের বিশালতা আল্লাহর ক্ষমতার সামনে সীমিত।
- সূরা যুমার ৬৭ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।
