৪৪/৪১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৪৩ - শিঙ্গায় ফুঁ ও আল্লাহর উপর ভরসা
সূরা আয-যুমার
শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার আগে তাওয়াক্কুলের দোয়া
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩২৪৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২৪৩
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عَطِيَّةَ الْعَوْفِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «كَيْفَ أَنْعَمُ وَقَدِ الْتَقَمَ صَاحِبُ الْقَرْنِ الْقَرْنَ وَحَنَى جَبْهَتَهُ وَأَصْغَى سَمْعَهُ يَنْتَظِرُ أَنْ يُؤْمَرَ أَنْ يَنْفُخَ فَيَنْفُخَ» . قَالَ الْمُسْلِمُونَ فَكَيْفَ نَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ «قُولُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ تَوَكَّلْنَا عَلَى اللَّهِ رَبِّنَا " . وَرُبَّمَا قَالَ سُفْيَانُ عَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْنَا .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رَوَاهُ الأَعْمَشُ أَيْضًا عَنْ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শিঙ্গা ফুঁৎকারকারী মুখে শিঙ্গা নিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে কান খাড়া করে অপেক্ষায় আছেন, শিঙ্গায় ফুঁ দেয়ার আদেশ পাওয়া মাত্র তিনি ফুঁ দিবেন, এ অবস্থায় আমি কিভাবে নিশ্চিন্তে আরামে বসে থাকতে পারি? মুসলিমরা বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কিভাবে দোয়া করব? তিনি বললেনঃ “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকীল, তাওয়াককালনা আলাল্লাহি রাব্বিনা” আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই আমাদের অতি উত্তম অভিভাবক, আমরা আমাদের রব আল্লাহ তা’আলার উপর নির্ভর করি। সুফইয়ান তাঁর বর্ণনায় কখনো, “তাওয়াককালনা আলাল্লাহ” এর পরিবর্তে “আলাল্লাহি তাওয়াককালনা” বর্ণনা করেছেন।
আবু ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। আ’মাশ হাদীসটি ‘আতিয়ার সূত্রে আবু সা’ঈদ হতে বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় শিঙ্গায় ফুঁ, কেয়ামতের প্রস্তুতি এবং আল্লাহর উপর ভরসা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, শিঙ্গার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি মুখে শিঙ্গা নিয়ে, মাথা ঝুঁকিয়ে ও কান খাড়া করে আদেশের অপেক্ষায় আছেন। আদেশ পেলেই তিনি ফুঁ দেবেন। এ অবস্থার কথা মনে করে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) নিশ্চিন্ত থাকার প্রশ্ন তোলেন। সাহাবিরা জানতে চান, তখন তারা কী বলবেন। তিনি শেখান: “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিঅমাল ওয়াকীল, তাওয়াক্কালনা আলাল্লাহি রব্বিনা”—আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই উত্তম অভিভাবক এবং আমরা আমাদের রবের উপর নির্ভর করি। হাদিসটি ভয়কে হতাশায় নয়, দোয়া ও তাওয়াক্কুলে বদলে দিতে শেখায়। কেয়ামতের স্মরণ মুমিনকে সচেতন করে, আর আল্লাহর উপর ভরসা তার অন্তরকে সঠিক পথে রাখে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেয়ামতের শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার আদেশের জন্য অপেক্ষা চলছে।
- ভয়ের সময় আল্লাহকে যথেষ্ট জেনে তাঁর উপর ভরসা করতে হবে।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবিদের নির্দিষ্ট তাওয়াক্কুলের দোয়া শিখিয়েছেন।
- আখিরাতের স্মরণ উদাসীনতা কমাতে সাহায্য করে।
