৪৪/৫৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৭৫ - ফজর ও মাগরিবের সুন্নত
সূরা আত-তূর
ফজরের আগে ও মাগরিবের পরে দুই রাকাত সুন্নত নামাজ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩২৭৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২৭৫
حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ الرِّفَاعِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ رِشْدِينَ بْنِ كُرَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِدْبَارُ النُّجُومِ الرَّكْعَتَانِ قَبْلَ الْفَجْرِ وَإِدْبَارُ السُّجُودِ الرَّكْعَتَانِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ فُضَيْلٍ عَنْ رِشْدِينَ بْنِ كُرَيْبٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَأَلْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ عَنْ مُحَمَّدٍ وَرِشْدِينَ ابْنَىْ كُرَيْبٍ أَيُّهُمَا أَوْثَقُ قَالَ مَا أَقْرَبَهُمَا وَمُحَمَّدٌ عِنْدِي أَرْجَحُ . قَالَ وَسَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ هَذَا فَقَالَ مَا أَقْرَبَهُمَا عِنْدِي وَرِشْدِينُ بْنُ كُرَيْبٍ أَرْجَحُهُمَا عِنْدِي . قَالَ وَالْقَوْلُ عِنْدِي مَا قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ وَرِشْدِينُ أَرْجَحُ مِنْ مُحَمَّدٍ وَأَقْدَمُ وَقَدْ أَدْرَكَ رِشْدِينُ ابْنَ عَبَّاسٍ وَرَآهُ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ “নক্ষত্রের অস্তগমন” (সূরাঃ আত-তূর-৪০) অর্থ ফজরের ফরজ নামাযের আগেকার দুই রাক‘আত এবং “নামাযের পর” (সূরাঃ ক্বাফ-৪০) অর্থ মাগরিবের ফরজের পর দুই রাক‘আত সুন্নাত নামায।
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু মুহাম্মাদ ইবনু ফুযাইল হতে রিশদীন ইবনু কুরাইব (রহঃ) সূত্রে এ হাদীস মারফূ হিসেবে জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলের নিকট মুহাম্মাদ ও রিশদীন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম যে, তাদের মধ্যে কে বেশি নির্ভরযোগ্য? তিনি বলেনঃ তারা দু’জনই সমান, তবে আমার নিকট মুহাম্মাদ শ্রেষ্ঠ। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমানের নিকট আমি একথাটি জানতে চাইলে তিনি বলেনঃ তারা উভয়ে সমান, তবে আমার মতে রিশদীন উল্লেখযোগ্য। রিশদীন ইবনু আব্বাসের সাক্ষাৎ পেয়েছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুটি কুরআনি বাক্যের ব্যাখ্যার সঙ্গে নির্দিষ্ট সুন্নত নামাজের কথা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) “নক্ষত্রের অস্তগমন” বলতে ফজরের ফরজ নামাজের আগে দুই রাকাত এবং “সিজদার পরে” বলতে মাগরিবের ফরজের পর দুই রাকাত নামাজ বুঝিয়েছেন। ফলে হাদিসটির মূল বিষয় হলো ফজরের দুই রাকাত সুন্নত ও মাগরিবের পরের দুই রাকাত সুন্নত। বর্ণনাটি রাকাতের সংখ্যা ও সময় স্পষ্ট করে দেয়। “ফজরের আগে দুই রাকাত”, “মাগরিবের পর দুই রাকাত” এবং “সুন্নত নামাজ” এই হাদিসের প্রধান কীওয়ার্ড। এখানে অন্য নামাজের সংখ্যা বা বাড়তি বিধান যোগ না করে, দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী এই দুই সময়ের দুই রাকাত নামাজের গুরুত্ব বোঝাই যথেষ্ট। নিয়মিত নামাজের সূচিতে এগুলো সচেতনভাবে রাখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফজরের ফরজের আগে দুই রাকাত নামাজের কথা বলা হয়েছে।
- মাগরিবের ফরজের পরে দুই রাকাত নামাজের কথা বলা হয়েছে।
- কুরআনি বাক্যের ব্যাখ্যায় এই দুই সুন্নত নামাজের সময় স্পষ্ট হয়েছে।
- ইবাদতের সময় ও রাকাতের সংখ্যা বর্ণনা অনুযায়ী ঠিক রাখা দরকার।
