৪৪/৫৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৭৮ - জিবরাইলকে আসল রূপে দেখা
সূরা আন-নাজম
নবী (صلى الله عليه وسلم) কাকে দেখেছিলেন: আয়িশা (রাঃ)-এর জিবরাইল ব্যাখ্যা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩২৭৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২৭৮
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ لَقِيَ ابْنُ عَبَّاسٍ كَعْبًا بِعَرَفَةَ فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ، فَكَبَّرَ حَتَّى جَاوَبَتْهُ الْجِبَالُ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِنَّا بَنُو هَاشِمٍ . فَقَالَ كَعْبٌ إِنَّ اللَّهَ قَسَمَ رُؤْيَتَهُ وَكَلاَمَهُ بَيْنَ مُحَمَّدٍ وَمُوسَى فَكَلَّمَ مُوسَى مَرَّتَيْنِ وَرَآهُ مُحَمَّدٌ مَرَّتَيْنِ . قَالَ مَسْرُوقٌ فَدَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْتُ هَلْ رَأَى مُحَمَّدٌ رَبَّهُ فَقَالَتْ لَقَدْ تَكَلَّمْتَ بِشَيْءٍ قَفَّ لَهُ شَعْرِي قُلْتُ رُوَيْدًا ثُمَّ قَرَأْتُ : (لقَدْ رَأَى مِنْ آيَاتِ رَبِّهِ الْكُبْرَى ) قَالَتْ أَيْنَ يُذْهَبُ بِكَ إِنَّمَا هُوَ جِبْرِيلُ مَنْ أَخْبَرَكَ أَنَّ مُحَمَّدًا رَأَى رَبَّهُ أَوْ كَتَمَ شَيْئًا مِمَّا أُمِرَ بِهِ أَوْ يَعْلَمُ الْخَمْسَ الَّتِي قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : ( إنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ ) فَقَدْ أَعْظَمَ الْفِرْيَةَ وَلَكِنَّهُ رَأَى جِبْرِيلَ لَمْ يَرَهُ فِي صُورَتِهِ إِلاَّ مَرَّتَيْنِ مَرَّةً عِنْدَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى وَمَرَّةً فِي جِيَادٍ لَهُ سِتُّمِائَةِ جَنَاحٍ قَدْ سَدَّ الأُفُقَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا الْحَدِيثِ وَحَدِيثُ دَاوُدَ أَقْصَرُ مِنْ حَدِيثِ مُجَالِدٍ .
শা’বী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু আব্বাস (রাঃ) আরাফাতের ময়দানে কা’ব (রহঃ)-এর সাথে দেখা করে একটি কথা (আল্লাহ তা‘আলার দেখা প্রসঙ্গে) জিজ্ঞেস করেন। এতে তিনি এত উচ্চ স্বরে তাকবির ধ্বনি দিলেন যে, পাহাড় পর্যন্ত উচ্চ গম্ভীর আওয়াজ করে উঠল (প্রতিশব্দ ভেসে এলো)। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ আমরা হাশিম গোত্রীয়। কা’ব (রহঃ) বলেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দীদার (দর্শন) ও কালাম (সরাসরি সংলাপ) মুহাম্মাদ (ﷺ) ও মূসা (আঃ)-এর মাঝে বাটোয়ারা করেছেন। সুতরাং মূসা (আঃ) আল্লাহ তা‘আলার সাথে দু’বার কথা বলেছেন এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) দু’বার তাঁর দেখা পেয়েছেন।মাসরূক (রহঃ) বলেনঃ এ কথা শুনে আমি আইশা (রাঃ)-এর নিকটে গিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করলাম, মুহাম্মাদ (ﷺ) কি আল্লাহ তা‘আলাকে দেখেছেন? তিনি বললেনঃ তুমি এমন একটি বিষয়ে কথা বললে যার ফলে আমার শরীরের লোম পর্যন্ত খাড়া হয়ে গেছে। আমি বললাম, একটু অপেক্ষা করুন।তারপর আমি এ আয়াত তিলাওয়াত করলামঃ “তিনি তো স্বীয় রবের মহান নিদর্শনসমূহ দর্শন করেছেন। (সূরাঃ আন-নাজ্ম-১৮)।তিনি বললেনঃ তোমার বুদ্ধি তোমাকে কোথায় নিয়ে গেছে! তিনি হলেন জিবরাঈল (আঃ) (যাকে তিনি দেখেছেন)। যে ব্যক্তি তোমাকে বলেছে যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর রবকে দেখেছেন বা এমন কোন বিষয় তিনি লুকায়িত করেছেন যার (প্রচারের) হুকুম তাঁকে দেয়া হয়েছে অথবা সেই পাঁচটি বিষয়ে তাঁর জ্ঞান আছে, যে প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ “কেয়ামাতের জ্ঞান শুধু আল্লাহ তা‘আলার নিকট আছে, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন…. “ (সূরাঃ লুকমান-৩৪), তাহলে সে একটি সাংঘাতিক অসত্য রটনা করেছে। বরং তিনি জিবরাঈল (আঃ)-কে তাঁর আসল চেহারায় দু’বার দেখেছেনঃ একবার সিদরাতুল মুন্তাহার সামনে, আর একবার জিয়াদ নামক জায়গায় (মক্কার একটি জায়গা)। তাঁর ছয় শত ডানা আকাশের দিগন্ত ঢেকে ফেলেছিল।
আবূ ঈসা বলেন, দাঊদ ইবনু আবূ হিন্দ (রহঃ) শাবী হতে তিনি মাসরূক হতে তিনি আইশা (রাঃ) হতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। দাঊদের রিওয়ায়াত মুজালিদের রিওয়ায়াতের তুলনায় সংক্ষিপ্ততর।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যাগত আলোচনা এসেছে। কা’ব (রাঃ)-এর বক্তব্য শোনার পর মাসরূক (রহঃ) আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم) কি তাঁর রবকে দেখেছেন। আয়িশা (রাঃ) দৃঢ়ভাবে বলেন, সূরা নাজমে মহান নিদর্শন দেখার যে কথা এসেছে, সেখানে দেখা সত্তা হলেন জিবরাইল (আঃ)। তিনি আরও বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) জিবরাইলকে তাঁর আসল রূপে দুইবার দেখেছেন—একবার সিদরাতুল মুন্তাহার কাছে এবং আরেকবার জিয়াদ নামের স্থানে। তাঁর ছয়শ ডানা দিগন্ত ঢেকে ফেলেছিল। একই সঙ্গে আয়িশা (রাঃ) বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) ওহির কোনো নির্দেশ গোপন করেননি এবং পাঁচ গায়েবের জ্ঞান আল্লাহর কাছেই। “নবী কাকে দেখেছিলেন” ও “জিবরাইলের আসল রূপ” এই হাদিসের মূল বিষয়। এই বক্তব্যে দেখা, ওহি এবং গায়েবের জ্ঞান—তিনটি বিষয় আলাদা করে বুঝতে সাহায্য করা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আয়িশা (রাঃ)-এর ব্যাখ্যায় নবী (صلى الله عليه وسلم) জিবরাইল (আঃ)-কে দেখেছিলেন।
- জিবরাইল (আঃ)-কে আসল রূপে দুইবার দেখার কথা বলা হয়েছে।
- জিবরাইল (আঃ)-এর ছয়শ ডানা দিগন্ত ঢেকে ফেলেছিল।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) ওহির নির্দেশিত কোনো বিষয় গোপন করেননি।
