৪৪/৬৫. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩১৭ - পরিবারের বাধা ও দ্বীনের পথে সতর্কতা

সূরা আত-তাগাবূন

স্ত্রী-সন্তান দ্বীনের পথে বাধা হলে কী শিক্ষা পাওয়া যায়

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৩১৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، حَدَّثَنَا سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَسَأَلَهُ، رَجُلٌ عَنْ هَذِهِ الآيَةِ، ‏(‏ يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلاَدِكُمْ عَدُوًّا لَكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ ‏)‏ قَالَ هَؤُلاَءِ رِجَالٌ أَسْلَمُوا مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ وَأَرَادُوا أَنْ يَأْتُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَبَى أَزْوَاجُهُمْ وَأَوْلاَدُهُمْ أَنْ يَدَعُوهُمْ أَنْ يَأْتُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أَتَوْا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَوُا النَّاسَ قَدْ فَقِهُوا فِي الدِّينِ هَمُّوا أَنْ يُعَاقِبُوهُمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَل َّ‏:‏ ‏(‏ يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلاَدِكُمْ عَدُوًّا لَكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ ‏)‏ الآيَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক লোক তাঁর নিকট নিম্নোক্ত আয়াত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করে (অনুবাদ) : “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের সহধর্মিণী ও সন্তান-সন্তুতিদের মাঝে কেউ কেউ তোমাদের দুশমন। অতএব তাদের ব্যাপারে তোমরা সাবধান থাকবে”- (সূরা তাগাবূন-১৪)।ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এরা হল মাক্কাবাসীদের মাঝ হতে ইসলাম গ্রহণকারী, এরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে (হিজরত করে) চলে আসতে চাচ্ছিল, কিন্তু তাদের স্ত্রী ও সন্তানরা তাদের বাধা দিচ্ছিল যেন তারা তাদেরকে ছেড়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট চলে না আসে। পরে তারা (হিজরত করে) যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এখানে (মাদীনায়) চলে এসে প্রত্যক্ষ করেন যে, লোকেরা (তাদের আগে আগত ব্যক্তিগণ) দ্বীন বিষয়ে প্রচুর জ্ঞান লাভ করেছে, তখন তারা তাদের স্ত্রীগণ ও সন্তানদের সাজা দেয়ার প্রতিজ্ঞা করে।আল্লাহ তা’আলা তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ)ঃ “হে মুমিনগণ! তোমাদের সহধর্মিণী ও সন্তানদের মাঝে কেউ কেউ তোমাদের দুশমন............” (সূরা তাগাবূন ১৪)।

আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩১৭-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় সূরা তাগাবুনের সেই আয়াতের কারণ বলা হয়েছে, যেখানে স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে কেউ কারও জন্য শত্রুর মতো হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ইবন আব্বাস রা. ব্যাখ্যা করেন, মক্কার কিছু মানুষ ইসলাম গ্রহণের পর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে হিজরত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের স্ত্রী ও সন্তানরা যেতে বাধা দিয়েছিল। পরে তাঁরা মদিনায় এসে দেখলেন, আগে হিজরত করা মানুষ দ্বীনের জ্ঞান অনেক শিখে ফেলেছে। তখন দেরির কারণ হওয়া পরিবারকে শাস্তি দেওয়ার ইচ্ছা তাঁদের মনে জাগে। এ অবস্থায় আয়াত নাজিল হয়। তাই এখানে শত্রু বলা মানে পরিবারকে সব সময় শত্রু ভাবা নয়; বরং যখন তারা আল্লাহর পথে চলা বা হিজরতের মতো দায়িত্বে বাধা দেয়, তখন সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পরের প্রতিক্রিয়ায় রাগের বশে কঠোরতা না দেখানোর ইঙ্গিতও ঘটনার মধ্যে রয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • পরিবারের ভালোবাসা যেন দ্বীনের দায়িত্ব পালনে বাধা না হয়।
  • স্ত্রী-সন্তানকে সব অবস্থায় শত্রু বলা হয়নি; নির্দিষ্ট বাধাদানের পরিস্থিতির কথা এসেছে।
  • দেরিতে ক্ষতি হলে রাগে প্রতিশোধ নেওয়ার বদলে সংযম দরকার।
  • দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের সুযোগ হারানো মানুষের মনে গভীর অনুশোচনা আনতে পারে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন