৪৪/৭২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩৩০ - জান্নাতের মর্যাদা ও আল্লাহর দর্শন
সূরা আল-কেয়ামত
জান্নাতে আল্লাহর দর্শন: উচ্চ মর্যাদার জান্নাতির সম্মান
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৩৩০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৩৩০
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنِي شَبَابَةُ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ ثُوَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ أَدْنَى أَهْلِ الْجَنَّةِ مَنْزِلَةً لَمَنْ يَنْظُرُ إِلَى جِنَانِهِ وَأَزْوَاجِهِ وَخَدَمِهِ وَسُرُرِهِ مَسِيرَةَ أَلْفِ سَنَةٍ وَأَكْرَمَهُمْ عَلَى اللَّهِ مَنْ يَنْظُرُ إِلَى وَجْهِهِ غُدْوَةً وَعَشِيَّةً " . ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : (وجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ * إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ ) . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ قَدْ رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ إِسْرَائِيلَ مِثْلَ هَذَا مَرْفُوعًا . وَرَوَى عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبْجَرَ عَنْ ثُوَيْرٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَوْلَهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ একজন সাধারণ মর্যাদাসম্পন্ন জান্নাতীর উদ্যানসমূহ, বিবিগণ, চাকরগণ এবং খাট-পালঙ্কসমূহ কেউ দেখতে চাইলে তা তার জন্য হাজার বছরের রাস্তা। তাদের মধ্যে আল্লাহ্ তা’আলার নিকট সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর চেহারা দেখার সৌভাগ্য লাভ করবেন।তারপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এই আয়াত পাঠ করেনঃ “কিছু মুখমণ্ডল সেদিন উজ্জ্বল হবে এবং তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে” (সূরাঃ আল-ক্বিয়ামাহ-২২-২৩)।
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। একাধিক বর্ণনাকারী ইসরাঈলের সূত্রে হাদীসটি একইভাবে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবদুল মালিক ইবনু আব্জার (রহঃ) সুওয়াইর হতে তিনি (মুজাহিদ) ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে এটিকে তার কথা হিসেবে (মাওকূফ হিসেবে) বর্ণনা করেছেন, মারফূ হিসেবে নয়। আল-আশজাঈ (রহঃ) সুফিয়ান হতে তিনি সুওয়াইর হতে তিনি মুজাহিদ হতে তিনি ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে তার কথারূপে বর্ণনা করেছেন এবং মারফূরূপে বর্ণনা করেননি। আবূ ঈসা বলেন, আমাদের জানামতে এ হাদীসের সনদে সুফিয়ান ব্যতীত অন্য কেউ মুজাহিদের উল্লেখ করেননি। সুওয়াইর-এর ডাকনাম আবূ জাহম। আবূ ফাখি তার নাম সাঈদ ইবনু ইলাকা।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জান্নাতবাসীদের মর্যাদার পার্থক্য এবং তাদের নিয়ামতের বিশালতা তুলে ধরা হয়েছে। সাধারণ মর্যাদার একজন জান্নাতি তার বাগান, স্ত্রীগণ, সেবক ও খাট-পালংকের বিস্তার হাজার বছরের পথ পর্যন্ত দেখতে পাবে বলে বর্ণিত হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন জান্নাতি সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর চেহারা দেখার সৌভাগ্য পাবে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এরপর সূরা কিয়ামাহর আয়াত পড়েন—সেদিন কিছু মুখ উজ্জ্বল হবে এবং তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে। “জান্নাতে আল্লাহর দর্শন”, “জান্নাতির মর্যাদা” এবং “উজ্জ্বল মুখ রবের দিকে তাকাবে” এই হাদিসের প্রধান অনুসন্ধান শব্দ। বর্ণনাটি জান্নাতের আশা জাগায়, তবে কে কোন মর্যাদা পাবে—এ বিষয়ে হাদিসের বাইরে নির্দিষ্ট দাবি করা ঠিক নয়। এখানে আল্লাহর অনুগ্রহ ও জান্নাতের সম্মানের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জান্নাতের নিয়ামত ও পরিসর অত্যন্ত বিস্তৃত বলে বর্ণিত হয়েছে।
- জান্নাতবাসীদের মর্যাদায় পার্থক্য থাকবে।
- উচ্চ মর্যাদার জান্নাতির জন্য আল্লাহর চেহারা দেখার সৌভাগ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
- সূরা কিয়ামাহর আয়াত দিয়ে এই অর্থ সমর্থন করা হয়েছে।
