২/১৩৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩৬ - নামাজির সামনে দিয়ে যাওয়ার ভয়াবহতা
নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া মাকরূহ
নামাজির সামনে দিয়ে যাওয়া: চল্লিশ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকার সতর্কতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৩৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৩৬
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ خَالِدٍ الْجُهَنِيَّ، أَرْسَلَهُ إِلَى أَبِي جُهَيْمٍ يَسْأَلُهُ مَاذَا سَمِعَ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي الْمَارِّ بَيْنَ يَدَىِ الْمُصَلِّي فَقَالَ أَبُو جُهَيْمٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لَوْ يَعْلَمُ الْمَارُّ بَيْنَ يَدَىِ الْمُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ لَكَانَ أَنْ يَقِفَ أَرْبَعِينَ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ " . قَالَ أَبُو النَّضْرِ لاَ أَدْرِي قَالَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا أَوْ سَنَةً قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو. قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ أَبِي جُهَيْمٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ " لأَنْ يَقِفَ أَحَدُكُمْ مِائَةَ عَامٍ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَىْ أَخِيهِ وَهُوَ يُصَلِّي " .وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا الْمُرُورَ بَيْنَ يَدَىِ الْمُصَلِّي وَلَمْ يَرَوْا أَنَّ ذَلِكَ يَقْطَعُ صَلاَةَ الرَّجُلِ . وَاسْمُ أَبِي النَّضْرِ سَالِمٌ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الْمَدِينِيُّ .
বুসর ইবনু সাঈদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
যাইদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) আবূ জুহাইমের নিকট লোক পাঠালেন। উদ্দেশ্য ছিল, নামাযীর সামনে দিয়ে যাওয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট তিনি যা শুনেছেন তা জিজ্ঞেস করা। আবূ জুহাইম (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নামাযীর সামনে দিয়ে চলাচলকারী যদি জানত তার কত বড় গুনাহ হয়, তবে সে নামাযীর সামনে দিয়ে চলাচল করা অপেক্ষা চল্লিশ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা নিজের জন্য ভাল মনে করত। আবূ নায্র বলেন, তিনি (আবূ জুহাইম) কি চল্লিশ দিন না চল্লিশ মাস না চল্লিশ বছরের কথা বলেছেন তা আমার মনে নেই।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ আল-খুদরী, আবূ হুরায়রা, ইবনু ‘উমার ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে- নবী (ﷺ)-এর নিকট হতে আরো বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেনঃ “তোমাদের কোন ব্যক্তির জন্য তার নামাযরত ভাইয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার চেয়ে একশত বছর অপেক্ষা করা বেশি কল্যাণকর।” বিদ্বানগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তাঁরা বলেছেন, নামাযরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া মাকরূহ। তবে কেউ গেলে তাতে নামাযীর নামায নষ্ট হবে বলে তাঁরা মনে করেন না। আবূ নায্রের নাম সালিম। তিনি ‘উমার ইবনু উবাইদুল্লাহ আল-মাদীনী’র আযাদকৃত গোলাম।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নামাজির সামনে দিয়ে চলাচলের বিষয়ে কঠিন সতর্কতা এসেছে। আবু জুহাইম (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন—যে ব্যক্তি নামাজির সামনে দিয়ে যায়, সে যদি জানত তার উপর কী আছে, তবে সে নামাজির সামনে দিয়ে যাওয়ার চেয়ে চল্লিশ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা নিজের জন্য ভালো মনে করত। বর্ণনাকারী আবু নাযর বলেন, তিনি জানেন না চল্লিশ দিন, মাস না বছর বলা হয়েছে। তাই এখানে নির্দিষ্ট সময় নিয়ে নিশ্চিত দাবি করা উচিত নয়। মূল শিক্ষা হলো, নামাজির সামনে দিয়ে যাওয়া হালকা বিষয় নয়। নামাজরত ব্যক্তির মনোযোগ ও ইবাদতের সম্মান রক্ষা করতে অন্যদের সাবধান হতে হবে। প্রয়োজন হলে অপেক্ষা করা বা পাশ দিয়ে নিরাপদ পথ নেওয়া ভালো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজির সামনে দিয়ে চলাচল করা গুরুতরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
- বর্ণনায় চল্লিশ বলা হলেও দিন, মাস বা বছর নির্দিষ্ট নয়।
- নামাজরত ব্যক্তির মনোযোগ রক্ষা করা অন্যদের দায়িত্ব।
- অপেক্ষা করা বা সঠিক পথ বেছে নেওয়া নামাজির সম্মান রক্ষার উপায়।
