৪৫/২৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৪০৭ - অবিচলতা, কৃতজ্ঞতা ও ঘুমের আগে কুরআন
কাজে অবিচল থাকার প্রার্থনা
অবিচলতার দোয়া ও ঘুমের আগে কুরআন পড়ার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৪০৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৪০৭
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي الْعَلاَءِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي حَنْظَلَةَ قَالَ صَحِبْتُ شَدَّادَ بْنَ أَوْسٍ رضى الله عنه فِي سَفَرٍ فَقَالَ أَلاَ أُعَلِّمُكَ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُنَا أَنْ نَقُولَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الثَّبَاتَ فِي الأَمْرِ وَأَسْأَلُكَ عَزِيمَةَ الرُّشْدِ وَأَسْأَلُكَ شُكْرَ نِعْمَتِكَ وَحُسْنَ عِبَادَتِكَ وَأَسْأَلُكَ لِسَانًا صَادِقًا وَقَلْبًا سَلِيمًا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا تَعْلَمُ وَأَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَعْلَمُ وَأَسْتَغْفِرُكَ مِمَّا تَعْلَمُ إِنَّكَ أَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ . قَالَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَأْخُذُ مَضْجَعَهُ يَقْرَأُ سُورَةً مِنْ كِتَابِ اللَّهِ إِلاَّ وَكَّلَ اللَّهُ بِهِ مَلَكًا فَلاَ يَقْرَبُهُ شَيْءٌ يُؤْذِيهِ حَتَّى يَهُبَّ مَتَى هَبَّ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ إِنَّمَا نَعْرِفُهُ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَالْجُرَيْرِيُّ هُوَ سَعِيدُ بْنُ إِيَاسٍ أَبُو مَسْعُودٍ الْجُرَيْرِيُّ وَأَبُو الْعَلاَءِ اسْمُهُ يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ .
বানী হানযালার কোন এক ব্যক্তি হতে বর্ণিতঃ
আমি এক সফরে শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ)-এর সাথী হলাম। তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বলতে শিখাতেন? “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি কাজে অবিচলতা, সৎপথে দৃঢ়তা, তোমার দেয়া নিয়ামাতের কৃতজ্ঞতা ও নিষ্ঠার সাথে তোমার ইবাদাত করার যোগ্যতা। আমি তোমার নিকট আরো প্রার্থনা করি সত্যবাদী জিহ্বা ও বিশুদ্ধ অন্তর। আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই তোমার জানা সকল মন্দ হতে এবং কামনা করি তোমার জানা সকল কল্যাণ। আমি ক্ষমা চাই তোমার জানা সর্বপ্রকারের অপকর্ম হতে। অবশ্যই তুমি অদৃশ্য সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞাত।”যঈফ, মিশকাত (৯৫৫), আল-কালিমুত তায়্যিব (১০৪/৬৫) রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরও বলতেনঃ কোন মুসলিম ব্যক্তি বিছানাগত হওয়ার সময় আল্লাহ তা'আলার কিতাবের একটি সূরা পাঠ করলে আল্লাহ তা'আলা তার নিরাপত্তার জন্য একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করেন। ফলে তার ঘুমভঙ্গ হওয়া পর্যন্ত কোন ক্ষতিকর জিনিস তার নিকট পৌঁছাতে পারবে না।যঈফ, মিশকাত (২৪০৫), তা'লীকুল রাগীব (১/২১০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি আমরা শুধু উক্ত সনদসূত্রে জেনেছি। জুরাইরীর নাম সাঈদ ইবনু ইয়াস আবূ মাসউদ আল-জুরাইরী। আবুল আ'লার নাম ইয়াযীদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনুশ শিখখীর।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৪০৭-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: দোয়া ও হিফাজত। এই হাদিসে শাদ্দাদ ইবন আউস (রাঃ) এমন একটি দোয়া শেখান, যা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবিদের শেখাতেন। দোয়ায় আছে—কাজে অবিচলতা, সৎপথে দৃঢ়তা, নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা, ভালোভাবে ইবাদত করার তাওফিক, সত্যবাদী জিহ্বা ও বিশুদ্ধ অন্তর চাওয়া। একই সঙ্গে আল্লাহর জানা মন্দ থেকে আশ্রয়, আল্লাহর জানা কল্যাণ চাওয়া এবং জানা-অজানা গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া আছে। হাদিসের দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, কোনো মুসলিম বিছানায় গিয়ে আল্লাহর কিতাবের একটি সূরা পড়লে আল্লাহ তার জন্য একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করেন, ফলে ঘুম ভাঙা পর্যন্ত ক্ষতিকর কিছু তার কাছে পৌঁছাতে পারে না। তাই এই বর্ণনা দোয়া, কুরআন তিলাওয়াত এবং আল্লাহর হিফাজতের প্রতি ভরসার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দোয়ায় অবিচলতা, সঠিক পথ ও ভালো ইবাদতের তাওফিক চাওয়া হয়েছে।
- সত্য কথা ও বিশুদ্ধ অন্তর মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে উঠে এসেছে।
- ঘুমের আগে কুরআনের একটি সূরা পড়ার ফজিলত এই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
- মন্দ থেকে বাঁচা ও কল্যাণ পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া উচিত।
