৪৫/৮১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৫০৪ - লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ দিয়ে ক্ষমার দোয়া
আলী (রাঃ)- কে শিখানো দোয়া
ক্ষমার দোয়া: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর গভীর শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৫০৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৫০৪
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أَلاَ أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ إِذَا قُلْتَهُنَّ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ وَإِنْ كُنْتَ مَغْفُورًا لَكَ». قَالَ «قُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ». قَالَ عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ وَأَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، بِمِثْلِ ذَلِكَ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ فِي آخِرِهَا «الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ». قَالَ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ .
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ আমি কি তোমাকে কিছু বাক্য শিখিয়ে দিব না, যেগুলো তুমি বললে আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে মাফ করবেন, যদিও তুমি ক্ষমতাপ্রাপ্ত। তিনি বললেন, তুমি বলঃ “আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, তিনি অতি সম্মান সম্পন্ন, অতি মহান। আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি অতি সহনশীল, অতি দয়ালু। আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি অতি পবিত্র, তিনি মহান আরশের মালিক”। আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) বলেনঃ আলী ইবনু হুসাইন ওয়াকিদ তাঁর পিতার সূত্রে আমাদের নিকট একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি হাদীসের শেষে বলেছেনঃ ‘আলহামদু লিল্লাহে রব্বিল আলামীন’ (সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক)।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৫০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم কিছু বাক্য শেখাতে চেয়েছেন, যা বললে আল্লাহ মাফ করবেন—যদিও মানুষ আগেই ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়। দোয়ার মূল শব্দগুলো বারবার তাওহীদের দিকে ফিরিয়ে দেয়: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। এরপর আল্লাহকে অতি সম্মানিত, মহান, সহনশীল, দয়ালু এবং মহান আরশের মালিক হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। হাদিসের শেষে অন্য বর্ণনায় আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন কথাটিও এসেছে। তাই এটি ক্ষমার দোয়া হলেও এর ভিত্তি হলো আল্লাহর পরিচয় জানা এবং তাঁর মহত্ত্ব মানা। এখানে বান্দা নিজের শক্তির কথা বলে না; বরং আল্লাহর বড়ত্ব ও দয়ার কথা বলে। তাই তাওহীদের দোয়া, গুনাহ মাফের দোয়া এবং আল্লাহর প্রশংসা—সবই এই ছোট বাক্যগুলোর ভেতরে আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ক্ষমা চাওয়ার দোয়ায় আল্লাহর একত্ব ও মহত্ত্বের স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ।
- আল্লাহর সহনশীলতা ও দয়ার কথা স্মরণ করলে বান্দার আশা বাড়ে।
- তাওহীদের বাক্য দোয়ার মূল শক্তি হিসেবে এসেছে।
