৪৫/৯৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৫৪০ - আল্লাহর ক্ষমার বিশাল আশা
তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার ফজিলত এবং বান্দাদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার দয়া ও অনুগ্রহ প্রসঙ্গে
হে আদম সন্তান: ইস্তিগফার ও তাওহীদের মাধ্যমে ক্ষমার আশা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৫৪০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৫৪০
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ الْجَوْهَرِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ فَائِدٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ سَمِعْتُ بَكْرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيَّ، يَقُولُ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «قَالَ اللَّهُ يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِي وَرَجَوْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ عَلَى مَا كَانَ فِيكَ وَلاَ أُبَالِي يَا ابْنَ آدَمَ لَوْ بَلَغَتْ ذُنُوبُكَ عَنَانَ السَّمَاءِ ثُمَّ اسْتَغْفَرْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ وَلاَ أُبَالِي يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ لَوْ أَتَيْتَنِي بِقُرَابِ الأَرْضِ خَطَايَا ثُمَّ لَقِيتَنِي لاَ تُشْرِكُ بِي شَيْئًا لأَتَيْتُكَ بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةً».قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ.
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি বলতে শুনেছি : বারাকাতময় আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ হে আদম সন্তান! যতক্ষণ আমাকে তুমি ডাকতে থাকবে এবং আমার হতে (ক্ষমা পাওয়ার) আশায় থাকবে, তোমার গুনাহ যত অধিক হোক, তোমাকে আমি ক্ষমা করব, এত কোন পরোয়া করব না। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ্র পরিমাণ যদি আসমানের কিনারা বা মেঘমালা পর্যন্তও পৌঁছে যায়, তারপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, এতে আমি পরোয়া করব না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি সম্পূর্ণ পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়েও আমার নিকট আস এবং আমার সঙ্গে কাউকে অংশীদার না করে থাক, তাহলে তোমার কাছে আমিও পৃথিবী পূর্ণ ক্ষমা নিয়ে হাজির হব।
আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদেই অবগত হয়েছি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৫৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো আল্লাহর ক্ষমা। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আল্লাহর পক্ষ থেকে বলেছেন, হে আদম সন্তান, যতক্ষণ তুমি আমাকে ডাকবে এবং আমার কাছে ক্ষমার আশা রাখবে, তোমার গুনাহ যতই হোক, আমি ক্ষমা করব। আবার বলা হয়েছে, গুনাহ আসমানের কিনারা পর্যন্ত পৌঁছালেও বান্দা যদি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, আল্লাহ ক্ষমা করেন। আরও বলা হয়েছে, কেউ পৃথিবী ভরা গুনাহ নিয়ে এলেও যদি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করে, আল্লাহ পৃথিবী ভরা ক্ষমা নিয়ে আসবেন। এখানে চারটি বড় শিক্ষা আছে: আল্লাহকে ডাকা, আশা রাখা, ইস্তিগফার করা এবং তাওহীদে থাকা। এই হাদিস মুমিনকে হতাশা থেকে ফিরিয়ে আল্লাহর দরজায় দাঁড় করায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহকে ডাকা ও তাঁর কাছে আশা রাখা ক্ষমার কারণ।
- গুনাহ বেশি হলেও ইস্তিগফার ছাড়া বসে থাকা উচিত নয়।
- তাওহীদ ধরে রাখা ক্ষমার বড় শর্ত হিসেবে এসেছে।
- আল্লাহর রহমত বান্দাকে হতাশা ছেড়ে ফিরে আসতে শেখায়।
