২/১৫২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৫৬ - অতিথির ইমামতি নয়
কোন সম্প্রদায়ের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে গিয়ে তাদের ইমাম হওয়া উচিত নয়
অতিথি হলে ইমামতি নয়: কওমের একজন ইমাম হওয়ার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৫৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৫৬
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، وَهَنَّادٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ أَبَانَ بْنِ يَزِيدَ الْعَطَّارِ، عَنْ بُدَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ الْعُقَيْلِيِّ، عَنْ أَبِي عَطِيَّةَ، رَجُلٍ مِنْهُمْ قَالَ كَانَ مَالِكُ بْنُ الْحُوَيْرِثِ يَأْتِينَا فِي مُصَلاَّنَا يَتَحَدَّثُ فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ يَوْمًا فَقُلْنَا لَهُ تَقَدَّمْ . فَقَالَ لِيَتَقَدَّمْ بَعْضُكُمْ حَتَّى أُحَدِّثَكُمْ لِمَ لاَ أَتَقَدَّمُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «مَنْ زَارَ قَوْمًا فَلاَ يَؤُمَّهُمْ وَلْيَؤُمَّهُمْ رَجُلٌ مِنْهُمْ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ قَالُوا صَاحِبُ الْمَنْزِلِ أَحَقُّ بِالإِمَامَةِ مِنَ الزَّائِرِ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا أَذِنَ لَهُ فَلاَ بَأْسَ أَنْ يُصَلِّيَ بِهِ . وَقَالَ إِسْحَاقُ بِحَدِيثِ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ وَشَدَّدَ فِي أَنْ لاَ يُصَلِّيَ أَحَدٌ بِصَاحِبِ الْمَنْزِلِ وَإِنْ أَذِنَ لَهُ صَاحِبُ الْمَنْزِلِ . قَالَ وَكَذَلِكَ فِي الْمَسْجِدِ لاَ يُصَلِّي بِهِمْ فِي الْمَسْجِدِ إِذَا زَارَهُمْ يَقُولُ لِيُصَلِّ بِهِمْ رَجُلٌ مِنْهُمْ .
আবূ আতীয়া (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি বলল, মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাঃ) আমাদের নামাজের জায়গায় (মসজিদে) এসে আমাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করতেন। একদিন নামাজের ওয়াক্ত হয়ে গেল। আমরা তাঁকে বললাম সামনে যান, (ইমামতি করুন)। তিনি বললেন, তোমাদের কেউ সামনে যাক। আমি সামনে না যাওয়ার কারণ তোমাদের বলব। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যক্তি কোন কাওমের সাথে করতে গিয়ে সে যেন ইমামতি না করে, বরং তাদের মধ্যেরই কেউ যেন ইমামতি করে।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। নবী (ﷺ)-এর বেশিরভাগ সাহাবা ও অন্যান্যরা এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তাঁরা বলেছেন, ইমামতি করার ব্যাপারে বাড়িওয়ালাই সাক্ষাতপ্রার্থীর চেয়ে বেশি হকদার। কিছু মনীষী বলেছেন, বাড়ির মালিকের অনুমতি সাপেক্ষে মেহমানের ইমামতি হওয়াতে কোন অপরাধ নেই। ইমাম ইসহাক কঠোরতার সাথে বলেছেন, বাড়িওয়ালা অনুমতি দিলেও মেহমানের ইমামতি করা উচিত নয়। ঠিক তেমনি ভাবে মসজিদেও ইমামতি করবে না, বরং তাদেরই কেউ ইমামতি করা উচিত।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মালিক ইবন হুয়াইরিস (রাঃ)-এর একটি ঘটনা এসেছে। তিনি এক জায়গায় গিয়ে মানুষের সাথে কথা বলতেন। একদিন নামাজের সময় হলে লোকেরা তাঁকে সামনে যেতে বলল। তিনি বললেন, তোমাদের কেউ সামনে যাক। এরপর তিনি কারণ হিসেবে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথা বললেন—কেউ কোনো কওমের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে সে যেন তাদের ইমামতি না করে; বরং তাদের মধ্যের কেউ যেন ইমামতি করে। মূল বিষয় হলো ইমামতির আদব। এতে বোঝা যায়, অতিথি হিসেবে গেলে নিজের মর্যাদা দেখিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত নয়। হাদিসের শেষে আলিমদের বক্তব্যে বাড়ির মালিক বা স্থানীয় মানুষের অধিকারের কথা এসেছে। তবে ব্যাখ্যায় মূল হাদিসের সীমার মধ্যে থাকলে বলা যায়, ইমামতি শুধু জ্ঞান বা সম্মানের বিষয় নয়; এতে শিষ্টাচার ও অধিকারও আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অতিথি হয়ে গেলে স্থানীয়দের অধিকার মানা উচিত।
- কওমের মধ্যের কেউ ইমামতি করবে—এ নির্দেশ এসেছে।
- ইমামতি আদব ও বিনয়ের সাথে সম্পর্কিত।
- সামনে যাওয়ার আগে পরিস্থিতি ও অধিকার বুঝতে হয়।
