৪৬/১৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৬৯৫ - অদৃশ্য বিষয়ে বিশ্বাস ও সাহাবীদের ঈমান
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর মর্যাদা
নেকড়ে কথা বলার হাদিস: নবীজি صلى الله عليه وسلم, আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর বিশ্বাস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৬৯৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৬৯৫
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «بَيْنَمَا رَجُلٌ يَرْعَى غَنَمًا لَهُ إِذْ جَاءَ ذِئْبٌ فَأَخَذَ شَاةً فَجَاءَ صَاحِبُهَا فَانْتَزَعَهَا مِنْهُ فَقَالَ الذِّئْبُ كَيْفَ تَصْنَعُ بِهَا يَوْمَ السَّبُعِ يَوْمَ لاَ رَاعِيَ لَهَا غَيْرِي» . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «فَآمَنْتُ بِذَلِكَ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ» . قَالَ أَبُو سَلَمَةَ وَمَا هُمَا فِي الْقَوْمِ يَوْمَئِذٍ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একদিন এক লোক তার মেষ (বকরী) পাল চরাচ্ছিল। হঠাৎ একটি নেকড়ে বাঘ এসে একটি বকরী ধরে ফেলে। তার মালিক এসে নেকড়ের কাছ থেকে বকরীটি ছিনিয়ে নিল। নেকড়ে বলল, হিংস্র জন্তুর দিনে (যেদিন মানুষ মারা যাবে এবং হিংস্র জন্তুরা বাকি থাকবে) তুমি কি করবে, যেদিন আমি ছাড়া এদের কোন রাখাল থাকবে না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি নিজে এবং আবূ বকর ও ‘উমর এতে (নেকড়ের মন্তব্যে) বিশ্বাস স্থাপন করলাম। আবূ সালামাহ্ (রাঃ) বলেন, সেই মজলিসে ঐ দিন তাঁরা দু’জন হাযির ছিলেন না।
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জা’ফার হতে, তিনি শু’বাহ্ হতে, তিনি সা’দ ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবু 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৬৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক আশ্চর্য ঘটনার কথা এসেছে। এক ব্যক্তি তার বকরীর পাল চরাচ্ছিল। একটি নেকড়ে এসে একটি বকরী ধরে নেয়। মালিক এসে বকরীটি ছিনিয়ে নিলে নেকড়ে বলে, হিংস্র জন্তুর দিনে তুমি কী করবে, যেদিন আমি ছাড়া এদের কোনো রাখাল থাকবে না? এরপর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, তিনি নিজে, আবু বকর ও উমর এতে বিশ্বাস স্থাপন করেছেন। আবু সালামা (রাঃ) জানান, সে দিন আবু বকর ও উমর (রাঃ) সেই মজলিসে উপস্থিত ছিলেন না। হাদিসটির মূল বিষয় হলো নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর কথায় বিশ্বাস, আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর ঈমানের মর্যাদা এবং অদ্ভুত ঘটনার সত্যতা। এখানে আমাদের শিক্ষা হলো, নবীজি صلى الله عليه وسلم যেটিকে সত্য বলেছেন, মুমিন সেটিকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি صلى الله عليه وسلم সত্য বলে জানালে মুমিন তা বিশ্বাস করে।
- আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর ঈমানের মর্যাদা এখানে উল্লেখিত।
- অদ্ভুত ঘটনা শুনে নিজের ধারণাকে নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর কথার ওপর প্রাধান্য দেওয়া ঠিক নয়।
