৪৬/২০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৭১২ - আলী রাঃ মুমিনদের পৃষ্ঠপোষক
আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা
আলী রাঃ-এর মর্যাদা ও মুমিনদের পৃষ্ঠপোষকতার হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৭১২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৭১২
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ الضُّبَعِيُّ، عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ جَيْشًا وَاسْتَعْمَلَ عَلَيْهِمْ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ فَمَضَى فِي السَّرِيَّةِ فَأَصَابَ جَارِيَةً فَأَنْكَرُوا عَلَيْهِ وَتَعَاقَدَ أَرْبَعَةٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالُوا إِذَا لَقِينَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَخْبَرْنَاهُ بِمَا صَنَعَ عَلِيٌّ وَكَانَ الْمُسْلِمُونَ إِذَا رَجَعُوا مِنَ السَّفَرِ بَدَءُوا بِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَسَلَّمُوا عَلَيْهِ ثُمَّ انْصَرَفُوا إِلَى رِحَالِهِمْ فَلَمَّا قَدِمَتِ السَّرِيَّةُ سَلَّمُوا عَلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَامَ أَحَدُ الأَرْبَعَةِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَمْ تَرَ إِلَى عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ صَنَعَ كَذَا وَكَذَا . فَأَعْرَضَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ثُمَّ قَامَ الثَّانِي فَقَالَ مِثْلَ مَقَالَتِهِ فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ قَامَ إِلَيْهِ الثَّالِثُ فَقَالَ مِثْلَ مَقَالَتِهِ فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ قَامَ الرَّابِعُ فَقَالَ مِثْلَ مَا قَالُوا فَأَقْبَلَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَالْغَضَبُ يُعْرَفُ فِي وَجْهِهِ فَقَالَ " مَا تُرِيدُونَ مِنْ عَلِيٍّ مَا تُرِيدُونَ مِنْ عَلِيٍّ مَا تُرِيدُونَ مِنْ عَلِيٍّ إِنَّ عَلِيًّا مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ وَهُوَ وَلِيُّ كُلِّ مُؤْمِنٍ بَعْدِي " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ جَعْفَرِ بْنِ سُلَيْمَانَ .
‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সামরিক বাহিনী পাঠানোর সময় 'আলী ইবনু আবী ত্বালিব (রাঃ)-কে তাদের সেনাপতি নিযুক্ত করেন। তিনি সেনাদলের একটি খণ্ডাংশের (সারিয়্যা) পরিদর্শনে যান এবং এক যুদ্ধবন্দিনীর সঙ্গে মিলিত হন। কিন্তু তাঁর সাথীরা তাঁর এ কাজ পছন্দ করলেন না। অতএব রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চারজন সাহাবী শপথ করে বললেন, যখন আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দেখা পাব, তাঁকে তখন 'আলীর কার্যকলাপ প্রসঙ্গে জানাব।মুসলিমদের নিয়ম ছিল যে, তাঁরা কোন সফর বা অভিযান শেষে ফিরে এসে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে সালাম করতেন, তারপর নিজ নিজ গৃহে ফিরে যেতেন। সুতরাং উক্ত সেনাদল ফিরে এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সালাম জানায় এবং চার সাহাবীর একজন দাঁড়িয়ে বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! লক্ষ্য করুন, 'আলী ইবনু আবী ত্বালিব এই এই করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর দিক হতে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।তারপর দ্বিতীয় ব্যক্তি দাঁড়িয়ে পূর্বোক্ত ব্যক্তির মতো বক্তব্য পেশ করেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর হতেও মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এবার তৃতীয়জন দাঁড়িয়ে পূর্বোক্তজনের একই রকম বক্তব্য পেশ করেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর হতেও মুখ ফিরিয়ে নেন।অবশেষে চতুর্থজন দাঁড়িয়ে পূর্বোক্তদের একই রকম বক্তব্য পেশ করেন। এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টির ভাব নিয়ে তাদের দিকে মনোনিবেশ করে বললেনঃ 'আলী প্রসঙ্গে তোমরা কি বলতে চাও? তোমরা 'আলী প্রসঙ্গে কি বলতে চাও? ‘আলী প্রসঙ্গে কি বলতে চাও? (বংশ, বৈবাহিক সম্পর্ক, অগ্রগণ্যতা, ভালবাসা ইত্যাদি প্রসঙ্গে) 'আলী আমার হতে এবং আমি 'আলী (রাঃ) হতে। আমার পরে সে-ই হবে সমস্ত মু'মিনের সঙ্গী ও পৃষ্ঠপোষক।
আবূ 'ঈসা বলেন এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র জা'ফার ইবনু সুলাইমানের সনদে অবগত হয়েছি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৭১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী ইবনু আবি তালিব রাঃ-এর বিষয়ে সাহাবিদের কিছু আপত্তির কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁকে একটি সেনাদলের নেতা করেন। পরে তাঁর কিছু কাজ নিয়ে চারজন সাহাবি নবীজির কাছে বলার সিদ্ধান্ত নেন। তারা ফিরে এসে একে একে কথা বলেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم প্রথম কয়েকজনের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। শেষে তিনি অসন্তুষ্টির ভাব নিয়ে বলেন, আলী সম্পর্কে তোমরা কী বলতে চাও? তিনি তিনবার এমন বলেন। তারপর বলেন, আলী আমার থেকে এবং আমি আলী থেকে; আমার পরে সে সব মুমিনের সঙ্গী ও পৃষ্ঠপোষক। এই হাদিসে “আলী রাঃ-এর ফজিলত” এবং “আলী মুমিনদের পৃষ্ঠপোষক” বিষয়টি পরিষ্কারভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবির বিষয়ে অভিযোগ করার আগে সতর্ক হওয়া দরকার।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আলী রাঃ-এর মর্যাদা স্পষ্ট করে বলেছেন।
- নেতার বিষয়ে কথা বলার সময় ন্যায় ও আদব দরকার।
- আলী রাঃ-এর সঙ্গে নবীজির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বর্ণনায় এসেছে।
