৪৬/২০. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৭১৫ - আলী রাঃ ও ঈমানের পরীক্ষা

আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা

হুদাইবিয়ার ঘটনায় আলী রাঃ, ঈমান ও সত্য কথার শিক্ষা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৭১৫

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، بِالرَّحَبَةِ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ الْحُدَيْبِيَةِ خَرَجَ إِلَيْنَا نَاسٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فِيهِمْ سُهَيْلُ بْنُ عَمْرٍو وَأُنَاسٌ مِنْ رُؤَسَاءِ الْمُشْرِكِينَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ خَرَجَ إِلَيْكَ نَاسٌ مِنْ أَبْنَائِنَا وَإِخْوَانِنَا وَأَرِقَّائِنَا وَلَيْسَ لَهُمْ فِقْهٌ فِي الدِّينِ وَإِنَّمَا خَرَجُوا فِرَارًا مِنْ أَمْوَالِنَا وَضِيَاعِنَا فَارْدُدْهُمْ إِلَيْنَا. " فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُمْ فِقْهٌ فِي الدِّينِ سَنُفَقِّهُهُمْ " . فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ لَتَنْتَهُنَّ أَوْ لَيَبْعَثَنَّ اللَّهُ عَلَيْكُمْ مَنْ يَضْرِبُ رِقَابَكُمْ بِالسَّيْفِ عَلَى الدِّينِ قَدِ امْتَحَنَ اللَّهُ قَلْبَهُ عَلَى الإِيمَانِ " . قَالُوا مَنْ هُوَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ لَهُ أَبُو بَكْرٍ مَنْ هُوَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَقَالَ عُمَرُ مَنْ هُوَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " هُوَ خَاصِفُ النَّعْلِ " . وَكَانَ أَعْطَى عَلِيًّا نَعْلَهُ يَخْصِفُهَا ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَيْنَا عَلِيٌّ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " مَنْ كَذَبَ عَلَىَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ رِبْعِيٍّ عَنْ عَلِيٍّ . قَالَ وَسَمِعْتُ الْجَارُودَ يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ لَمْ يَكْذِبْ رِبْعِيُّ بْنُ حِرَاشٍ فِي الإِسْلاَمِ كِذْبَةً. وَأَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الأَسْوَدِ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مَهْدِيٍّ يَقُولُ مَنْصُورُ بْنُ الْمُعْتَمِرِ أَثْبَتُ أَهْلِ الْكُوفَةِ.

রিবঈ ইবনু হিরাশ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আলী (রাঃ) কূফার মুক্তাঙ্গনে (আর-রাহবায়) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। হুদাইবিয়ার দিন মুশরিকদের ক'জন লোক আমাদের নিকটে আসে। তাদের মধ্যে সুহাইল ইবনু আমরসহ আরো ক'জন গণ্যমান্য মুশরিক ছিল। তারা বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাদের সন্তান-সন্তুতি, ভাই ও ক্রীতদাসসহ কিছু সংখ্যক লোক আপনার নিকট এসে পড়েছে। ধর্ম সম্পর্কে তারা মূর্খ এবং তারা আমাদের ভূসম্পত্তি ও ক্ষেত- খামার হতে পালিয়ে এসেছে। অতএব আপনি তাদেরকে আমাদের নিকট ফিরিয়ে দিন। যদিও তাদের ধর্মের বিষয়ে তেমন জ্ঞান নেই, তাই আমরা তাদেরকে বুঝাব।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে কুরাইশের লোকেরা! তোমরা এরকম কর্মকাণ্ড হতে বিরত হও। অন্যথায় আল্লাহ তা'আলা তোমাদের বিরুদ্ধে এমন লোকদের পাঠাবেন, যারা তোমাদের ঘাড়ে দ্বীনের তরবারি দিয়ে আঘাত করবে। আল্লাহ তা'আলা তাদের অন্তরগুলোকে ঈমানের ব্যাপারে পরীক্ষা করে নিয়েছেন। তখন মুসলমানরা প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! কে সেই ব্যক্তি? আবূ বকর (রাঃ)-ও বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কে সেই ব্যক্তি? ‘উমর (রাঃ)- ও বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! কে সেই লোক? তিনি বললেনঃ সে একজন জুতা সেলাইকারী! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী (রাঃ)-কে তাঁর জুতাটা সেলাই করতে দিয়েছিলেন।রাবী বলেনঃ আলী (রাঃ) আমাদের দিকে তাকালেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজ ইচ্ছায় আমার প্রতি মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার থাকার জায়গা নির্ধারণ করল।

তবে হাদীসের শেষাংশ সহীহ মুতাওয়াতির, দেখুন হাদীস নং (২৬৪৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আমরা শুধু ‘আলী (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসেবে উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। তিরমিযী জারুদ হতে ওয়াকী‘র সূত্রে বলেনঃ রিবঈ ইবনু হিরাশ ইসলামের মধ্যে কোন মিথ্যা কথা বলেননি। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আবদুল্লাহ ইবনু আবীল আসওয়াদ হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনঃ মানসূর ইবনুল মু'তামির কূফাবাসীদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিশ্বস্ত রাবী।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৭১৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আলী রাঃ কুফার আর-রাহবায় একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। হুদাইবিয়ার দিনে মুশরিকদের কয়েকজন নেতা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এসে কিছু লোককে ফেরত চাইছিল। তারা বলেছিল, এরা ধর্ম সম্পর্কে ভালো জানে না এবং তাদের সম্পদ ও ক্ষেতখামার থেকে পালিয়ে এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم কুরাইশকে সতর্ক করে বলেন, তারা যদি এমন কাজ থেকে বিরত না হয়, তবে আল্লাহ এমন লোক পাঠাবেন, যাদের অন্তর ঈমানের ব্যাপারে পরীক্ষা করা হয়েছে। সাহাবিরা জানতে চাইলে নবীজি ইঙ্গিত করেন সেই ব্যক্তি জুতা সেলাইকারী; তখন আলী রাঃ তাঁর জুতা সেলাই করছিলেন। শেষে আলী রাঃ নবীজির ওপর মিথ্যা বলার ভয়াবহ সতর্কতাও বলেন। তাই এই হাদিসে “আলী রাঃ ঈমান” ও “নবীর নামে মিথ্যা” দুটো শিক্ষা আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দ্বীনের বিষয়ে চাপ এলে সত্যের পক্ষে থাকা দরকার।
  • আলী রাঃ সম্পর্কে ঈমানের পরীক্ষার কথা বর্ণনায় এসেছে।
  • নবীজির নামে ইচ্ছা করে মিথ্যা বলা ভয়ংকর গুনাহ।
  • প্রশ্নের জবাবে নবীজি কখনো ইঙ্গিত দিয়েও শিক্ষা দিয়েছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন