৪৬/২১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৭২১ - আলী (রাঃ)-এর মর্যাদা ও পাখির গোশতের হাদিস
মুনাফিকরা আলী (রাঃ)-এর প্রতি বিদ্বেষী
আলী (রাঃ)-এর মর্যাদা: পাখির গোশতের হাদিসের সহজ ব্যাখ্যা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৭২১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৭২১
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ عِيسَى بْنِ عُمَرَ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ طَيْرٌ فَقَالَ " اللَّهُمَّ ائْتِنِي بِأَحَبِّ خَلْقِكَ إِلَيْكَ يَأْكُلُ مَعِي هَذَا الطَّيْرَ " . فَجَاءَ عَلِيٌّ فَأَكَلَ مَعَهُ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ السُّدِّيِّ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَنَسٍ . وَعِيسَى بْنُ عُمَرَ هُوَ كُوفِيٌّ وَالسُّدِّيُّ اسْمُهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَقَدْ أَدْرَكَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ وَرَأَى الْحُسَيْنَ بْنَ عَلِيٍّ وَثَّقَهُ شُعْبَةُ وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَزَائِدَةُ وَوَثَّقَهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পাখির ভুনা গোশত হাজির ছিল। তিনি বলেনঃ ইয়া আল্লাহ! তোমার সৃষ্টির মধ্যে তোমার নিকট সবচাইতে প্রিয় ব্যক্তিকে আমার সাথে এই পাখির গোশত খাওয়ার জন্য হাজির করে দাও। ইত্যবসরে আলী (রাঃ) এসে হাজির হন এবং তাঁর সাথে খাবার খান।
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রে আস-সুদ্দীর রিওয়ায়াত হতে এ হাদীস জেনেছি। এ হাদীস অন্যভাবেও আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। আস-সুদ্দীর নাম ইসমাঈল ইবনু আবদুর রহমান। তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর দেখা পেয়েছেন এবং হুসাইন ইবনু আলী (রাঃ)-কে দেখেছেন। শুবা, সুফিয়ান সাওরী, যাইদাহ্ ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ আলকাত্তান প্রমুখ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৭২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে পাখির ভুনা গোশত ছিল। তখন তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন, যেন আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্যে তাঁর কাছে প্রিয় একজনকে এই খাবারে তাঁর সঙ্গে শরিক করেন। এরপর আলী (রাঃ) এসে উপস্থিত হন এবং নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে খাবার খান। এই বর্ণনার মূল বিষয় হলো আলী (রাঃ)-এর মর্যাদা ও নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে তাঁর বিশেষ স্থান। এখানে আল্লাহর কাছে দোয়া, নবীজির ভালোবাসা এবং একজন সাহাবির সম্মান একসঙ্গে ফুটে উঠেছে। তবে বর্ণনার শেষ অংশে ইমাম আবূ ঈসা এটিকে গরীব বলেছেন। তাই এই হাদিস আলোচনা করতে হলে মূল বর্ণনা ও বর্ণনার মান—দুটিই সতর্কতার সঙ্গে উল্লেখ করা ভালো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন এবং দোয়ার মাধ্যমে প্রিয়জনের উপস্থিতি কামনা করতেন।
- আলী (রাঃ)-এর মর্যাদা এই বর্ণনায় বিশেষভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- হাদিস বুঝতে শুধু ঘটনা নয়, বর্ণনার মান সম্পর্কেও সতর্ক থাকা দরকার।
