৪৬/২৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৭৬২ - আল-আব্বাসের জন্য দোয়া ও পরিবারের হিফাজত
আল-আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা
আল-আব্বাসের জন্য দোয়া: ক্ষমা ও সন্তানদের হিফাজতের শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৭৬২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৭৬২
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِلْعَبَّاسِ " إِذَا كَانَ غَدَاةُ الاِثْنَيْنِ فَأْتِنِي أَنْتَ وَوَلَدُكَ حَتَّى أَدْعُوَ لَهُمْ بِدَعْوَةٍ يَنْفَعُكَ اللَّهُ بِهَا وَوَلَدَكَ " . فَغَدَا وَغَدَوْنَا مَعَهُ وَأَلْبَسَنَا كِسَاءً ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْعَبَّاسِ وَوَلَدِهِ مَغْفِرَةً ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً لاَ تُغَادِرُ ذَنْبًا اللَّهُمَّ احْفَظْهُ فِي وَلَدِهِ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল-‘আব্বাস (রাঃ)-কে বললেনঃ আগামী সোমবার প্রভাতে আপনি আমার কাছে আসবেন এবং আপনার সন্তানদেরকেও সাথে নিয়ে আসবেন। আপনার জন্য এবং আপনার সন্তানদের জন্য আমি একটি দোয়া করব, যার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা’আলা আপনাকেও উপকৃত করবেন এবং আপনার সন্তানদেরও। বলেন, প্রভাতে তিনি গেলেন এবং তাঁর সঙ্গে আমরাও গেলাম। তিনি আমাদের শরীরে একখানা চাদর জড়িয়ে দিলেন, তারপর বললেনঃ “হে আল্লাহ! আল-‘আব্বাস ও তাঁর সন্তানদের বাহির ও ভিতর উভয় দিক এমনভাবে ক্ষমা করে দিন যার পর তাঁদের আর কোন অপরাধ বাকি না থাকে। হে আল্লাহ! তাঁকে তাঁর সন্তানদের ব্যাপারে হিফাযাত করুন”।
আবূ 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারিব। এ হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদে অবগত হয়েছি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৭৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো দোয়া ও পরিবারের জন্য কল্যাণ কামনা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আল-আব্বাস (রাঃ)-কে তাঁর সন্তানদের সঙ্গে আসতে বলেন, যেন তিনি তাঁদের জন্য দোয়া করেন। এরপর তিনি তাঁদের চাদরের নিচে নেন এবং আল্লাহর কাছে আল-আব্বাস (রাঃ) ও তাঁর সন্তানদের বাহ্যিক ও ভেতরের ক্ষমা চান। তিনি আরও দোয়া করেন, আল্লাহ যেন তাঁকে তাঁর সন্তানদের ব্যাপারে হিফাজত করেন। হাদিসটি আমাদের দেখায়, প্রিয়জনের জন্য দোয়া করা কত সুন্দর আমল। এখানে দোয়ার ভাষা ক্ষমা, উপকার ও সন্তানদের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে। তবে হাদিসের বাইরে গিয়ে কোনো বাড়তি দাবি করা ঠিক নয়। সরাসরি এই বর্ণনা থেকে আমরা বুঝি, পরিবারকে ভালোবাসা, সন্তানদের জন্য কল্যাণ চাওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা নববী আচরণের অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পরিবার ও সন্তানদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা সুন্দর আমল।
- ক্ষমা চাইতে বাহ্যিক ও ভেতরের দিক—দুই দিকই মনে রাখা যায়।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আল-আব্বাস (রাঃ) ও তাঁর সন্তানদের জন্য বিশেষ দোয়া করেছেন।
- প্রিয়জনের কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা উচিত।
