৪৬/৭০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৯২৯ - আরবদের মৃত্যু ও কিয়ামতের নৈকট্য
আরবদেশের মর্যাদা
কিয়ামতের আলামত: আরবদের মৃত্যু নিয়ে হাদিসের সতর্কতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৯২৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৯২৯
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي رَزِينٍ، عَنْ أُمِّهِ، قَالَتْ كَانَتْ أُمُّ الْحَرِيرِ إِذَا مَاتَ أَحَدٌ مِنَ الْعَرَبِ اشْتَدَّ عَلَيْهَا فَقِيلَ لَهَا إِنَّا نَرَاكِ إِذَا مَاتَ رَجُلٌ مِنَ الْعَرَبِ اشْتَدَّ عَلَيْكِ . قَالَتْ سَمِعْتُ مَوْلاَىَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مِنَ اقْتِرَابِ السَّاعَةِ هَلاَكُ الْعَرَبِ». قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي رَزِينٍ وَمَوْلاَهَا طَلْحَةُ بْنُ مَالِكٍ .قَالَ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ إِنَّمَا نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ سُلَيْمَانَ بْنِ حَرْبٍ .
মুহাম্মাদ ইবনু আবু রাযীন (রহঃ) হতে তার মা হতে বর্ণিতঃ
উম্মুল হারীরের অবস্থা এই ছিল যে, আরবের কোন লোক ইন্তিকাল করলে তিনি তাতে গভীরভাবে শোকাভিভূত হতেন। তাঁকে বলা হল, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, আরবের কোন লোক ইন্তিকাল করলে আপনি তাতে গভীরভাবে শোকাভিভূত হন। তিনি বললেন, আমি আমার মনিবকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আরবের লোকদের মৃত্যু হচ্ছে কিয়ামাত কাছাকাছি হওয়ার লক্ষণ।
আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারিব। আমরা শুধু সুলাইমান ইবনু হারবের রিওয়ায়াত হিসেবে এটি জেনেছি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৯২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উম্মুল হারীরের একটি আচরণ দেখা যায়—আরবের কেউ মারা গেলে তিনি গভীরভাবে শোক করতেন। কারণ তিনি তাঁর মনিবের কাছ থেকে শুনেছিলেন যে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আরবদের মৃত্যু কিয়ামত কাছাকাছি হওয়ার লক্ষণ। এখানে মূল বিষয় হলো “কিয়ামতের আলামত” এবং “আরবদের মৃত্যু”। হাদিসটি আমাদেরকে কোনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করতে শেখায় না; বরং একটি লক্ষণের কথা জানায়। তাই এ ধরনের হাদিস পড়লে ভয় ছড়ানো বা নিশ্চিত তারিখ বলার বদলে নিজের আমল, ঈমান ও প্রস্তুতির দিকে মন দেওয়া ভালো। হাদিসের সরাসরি বার্তা হলো, কিছু ঘটনা মানুষকে শেষ সময়ের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আরবদের মৃত্যু কিয়ামতের নৈকট্যের লক্ষণ হিসেবে এসেছে।
- এ হাদিস কিয়ামতের সময় নির্ধারণ করে না।
- মৃত্যু ও আলামতের কথা শুনে নিজের প্রস্তুতির কথা ভাবা উচিত।
- শোকের কারণ হিসেবে হাদিসে একটি বিশ্বাসগত ব্যাখ্যা এসেছে।
