২/২০০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪২১ - ইকামতের পর ফরজ নামাজের গুরুত্ব
ফজরের সুন্নাত ফরযের আগে আদায় করতে না পারলে ফরয নামায আদায়ের পর তা আদায় করবে
ইকামতের পর ফরজ নামাজ: মূল শিক্ষা ও করণীয়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৪২১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৪২১
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ صَلاَةَ إِلاَّ الْمَكْتُوبَةُ» . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ بُحَيْنَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَهَكَذَا رَوَى أَيُّوبُ وَوَرْقَاءُ بْنُ عُمَرَ وَزِيَادُ بْنُ سَعْدٍ وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ . وَرَوَى حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ فَلَمْ يَرْفَعَاهُ . وَالْحَدِيثُ الْمَرْفُوعُ أَصَحُّ عِنْدَنَا .وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ أَنْ لاَ يُصَلِّيَ الرَّجُلُ إِلاَّ الْمَكْتُوبَةَ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ رَوَاهُ عَيَّاشُ بْنُ عَبَّاسٍ الْقِتْبَانِيُّ الْمِصْرِيُّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ نَحْوَ هَذَا .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন নামাজের জন্য ইকামাত দেওয়া হয় তখন ফরজ নামাজ ছাড়া অন্য কোন নামাজ নেই।
এ অনুচ্ছেদে ইবনু বুহাইনা, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর, ‘আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস, ইবনু ‘আব্বাস ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবূ হুরায়রার হাদীসটি হাসান। আইউব, ওয়ারাকা ইবনু ‘উমার, যিয়াদ ইবনু সা’দ, ইসমাঈল ইবনু মুসলিম এবং মুহাম্মাদ ইবনু জুহাদা সম্মিলিতভাবে এ হাদীসটি ‘আমর ইবনু দীনার হতে, তিনি আতা হতে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে মারফু’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ ইবনু যায়িদ ও সুফিয়ান ইবনু ‘উআইনা তাদের সনদ পরম্পরায় ‘আমর ইবনু দীনার-এর সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাঁরা মারফূ’ হিসাবে বর্ণনা করেননি। তবে মারফূ’ হিসাবে বর্ণিত হাদীসটিই আমাদের মতে বেশি সহীহ্। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবী ও অন্যান্যরা এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তাঁরা বলেছেন, নামাযের জন্য ইক্বামাত দেওয়া হলে কোন ব্যক্তিই ফরজ নামায ব্যতীত অন্য কোন নামায আদায় করবে না। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও একই রকম কথা বলেছেন। আরো কয়েকটি সূত্রে আবূ হুরায়রার নিকট হতে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। ‘আইয়্যাশ ইবনু ‘আব্বাস আবূ সালামা হতে তিনি আবূ হুরায়রা হতে তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল কথা খুব পরিষ্কার: যখন নামাজের ইকামত দেওয়া হয়, তখন ফরজ নামাজ ছাড়া অন্য কোনো নামাজ নেই। অর্থাৎ মুসল্লির সামনে তখন প্রধান কাজ হলো ফরজ নামাজে যোগ দেওয়া। ইকামত সাধারণত জামাত শুরু হওয়ার সংকেত। তাই এ সময় নতুন করে সুন্নত বা নফল শুরু করলে ফরজ জামাতের প্রতি মনোযোগ কমে যেতে পারে। হাদিসটি আমাদের নামাজের শৃঙ্খলা শেখায়। ফরজ নামাজ ইসলামের বড় আমলগুলোর একটি, আর জামাত শুরু হলে সেটাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এখানে কাউকে তাড়াহুড়া বা বিশৃঙ্খলায় ফেলার কথা বলা হয়নি; বরং ইবাদতের সময় কোন আমল আগে করতে হবে, সেটাই শেখানো হয়েছে। তাই ইকামত শুনলে মূল লক্ষ্য হবে ফরজ নামাজে দাঁড়ানো, কাতারে মিলিত হওয়া এবং মনকে একাগ্র করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইকামত হলে ফরজ নামাজকে আগে রাখা উচিত।
- জামাত শুরু হওয়ার সময় নতুন নফল বা সুন্নত শুরু করা ঠিক নয়।
- নামাজে শৃঙ্খলা ও অগ্রাধিকার বুঝে আমল করা জরুরি।
