২/২০৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৩৫ - মাগরিবের পর ছয় রাকাতের বর্ণনা
ইশার নামাজের পর দুই রাকাত সুন্নাত
মাগরিবের পর ছয় রাকাত: আমল, কথা ও সংযমের শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৪৩৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৪৩৫
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، - يَعْنِي مُحَمَّدَ بْنَ الْعَلاَءِ الْهَمْدَانِيَّ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَبِي خَثْعَمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَنْ صَلَّى بَعْدَ الْمَغْرِبِ سِتَّ رَكَعَاتٍ لَمْ يَتَكَلَّمْ فِيمَا بَيْنَهُنَّ بِسُوءٍ عُدِلْنَ لَهُ بِعِبَادَةِ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ سَنَةً» .قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " مَنْ صَلَّى بَعْدَ الْمَغْرِبِ عِشْرِينَ رَكْعَةً بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ زَيْدِ بْنِ الْحُبَابِ عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي خَثْعَمٍ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي خَثْعَمٍ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ . وَضَعَّفَهُ جِدًّا .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির মাগরিবের পর ছয় রাক’আত নামায আদায় করলে এবং তার মাঝখানে কোন অশালীন কথা না বললে তাকে এর বিনিময়ে বার বছরের ইবাদাতের সমান সাওয়াব দেয়া হবে।
আবূ ঈসা বলেনঃ আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মাগরিবের পর বিশ রাক’আত নামায আদায় করে আল্লাহ্ তা’আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরী করেন। আবূ ঈসা বলেনঃ আবূ হুরাইরার হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র যাইদ ইবনু হুবাব হতে উমার ইবনু আবূ খাসআমের সূত্রেই এ হাদীসটি জানতে পেরেছি। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে বলতে শুনেছি, উমার ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ খাসআম একজন প্রত্যাখ্যাত রাবী। হাদিসশাস্ত্রে তিনি খুবই দুর্বল।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে বর্ণিত হয়েছে, কেউ মাগরিবের পর ছয় রাকাত নামাজ আদায় করলে এবং তার মাঝখানে কোনো অশালীন কথা না বললে, এর বিনিময়ে বারো বছরের ইবাদতের সমান সওয়াব দেওয়া হবে। একই বর্ণনার শেষে আবূ ঈসা (রহঃ) হাদিসটিকে গারীব বলেছেন এবং বর্ণনাকারী সম্পর্কে দুর্বলতার কথাও এসেছে। তাই এই হাদিস নিয়ে কথা বললে সতর্ক ভাষা ব্যবহার করা ভালো। প্রদত্ত পাঠ থেকে যে শিক্ষা নেওয়া যায় তা হলো, মাগরিবের পর নামাজ, অশালীন কথা থেকে বিরত থাকা এবং ইবাদতের সময় জবান সংযত রাখা—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ফজিলত উল্লেখের ক্ষেত্রে হাদিসের শেষে যে মন্তব্য এসেছে, সেটিও মনে রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মাগরিবের পর ছয় রাকাতের একটি বর্ণনা এসেছে।
- নামাজের মাঝখানে অশালীন কথা না বলার শিক্ষা আছে।
- বর্ণনার মান সম্পর্কে শেষে সতর্কতামূলক মন্তব্য রয়েছে।
