৩/১৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৭৯ - সালাতুল হাজতের দোয়া ও নিয়ম
প্রয়োজন পূরণের নামাজ (সালাতুল হাজাত)
সালাতুল হাজত: প্রয়োজনের সময় দুই রাকাত নামাজ ও দোয়ার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৪৭৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৪৭৯
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عِيسَى بْنِ يَزِيدَ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ السَّهْمِيُّ، . وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُنِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَكْرٍ، عَنْ فَائِدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَنْ كَانَتْ لَهُ إِلَى اللَّهِ حَاجَةٌ أَوْ إِلَى أَحَدٍ مِنْ بَنِي آدَمَ فَلْيَتَوَضَّأْ وَلْيُحْسِنِ الْوُضُوءَ ثُمَّ لْيُصَلِّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ لْيُثْنِ عَلَى اللَّهِ وَلْيُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ ثُمَّ لْيَقُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ وَالسَّلاَمَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ لاَ تَدَعْ لِي ذَنْبًا إِلاَّ غَفَرْتَهُ وَلاَ هَمًّا إِلاَّ فَرَّجْتَهُ وَلاَ حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلاَّ قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَفِي إِسْنَادِهِ مَقَالٌ. فَائِدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ يُضَعَّفُ فِي الْحَدِيثِ وَفَائِدٌ هُوَ أَبُو الْوَرْقَاءِ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির আল্লাহ্ তা’আলার কাছে অথবা কোন আদম সন্তানের কাছে কোন প্রয়োজন রয়েছে সে যেন প্রথমে উত্তমরূপে ওজু করে, তারপর দুই রাক’আত নামায আদায় করে, তারপর আল্লাহ্ তা’আলার প্রশংসা করে এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ করে, তারপর এ দোয়া পাঠ করেঃ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ وَالسَّلاَمَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ لاَ تَدَعْ لِي ذَنْبًا إِلاَّ غَفَرْتَهُ وَلاَ هَمًّا إِلاَّ فَرَّجْتَهُ وَلاَ حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلاَّ قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ আরহামার রাহিমীন’’ অর্থাৎ “আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি ধৈর্যশীল ও মহামহিম। মহান আরশের মালিক আল্লাহ্ তা’আলা খুবই পবিত্র। সকল প্রশংসা সারা বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহ্ তা’আলার জন্য। (হে আল্লাহ্!) আমি তোমার নিকট তোমরা রাহমাত লাভের উপায়সমূহ, তোমার ক্ষমা লাভের কঠিন ওয়াদা, প্রত্যেক ভাল কাজের ঐশ্বর্য এবং সকল খারাপ কাজ হতে নিরাপত্তা চাইছি। হে মহা অনুগ্রহকারী! আমার প্রতিটি অপরাধ ক্ষমা কর, আমার প্রতি দুশ্চিন্তা দূর করে দাও এবং যে প্রয়োজন ও চাহিদা তোমার সন্তোষ লাভের কারণ হয় তা পরিপূর্ণ করে দাও।”
আবূ ঈসা বলেনঃ হাদীসটি গারীব। এ হাদীসের সনদ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। কেননা এ হাদীসের এক রাবী ফাইদ ইবনু আবদুর রহমান হাদীসশাস্ত্রে দুর্বল। ফাইদের উপনাম আবুল ওয়ারকা।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, যার আল্লাহর কাছে অথবা কোনো মানুষের কাছে প্রয়োজন আছে, সে যেন প্রথমে উত্তমরূপে ওজু করে, তারপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করে। এরপর আল্লাহর প্রশংসা করবে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ করবে, তারপর বর্ণিত দোয়া পড়বে। দোয়ায় আল্লাহর একত্ব, তাঁর ধৈর্যশীলতা ও মহানত্ব, আরশের রব হওয়া, রহমত, ক্ষমা, ভালো কাজের সুযোগ, খারাপ কাজ থেকে নিরাপত্তা, গুনাহ মাফ, দুশ্চিন্তা দূর করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ হয় এমন প্রয়োজন পূরণের কথা আছে। হাদিসের শেষে সনদ সম্পর্কে মন্তব্যও আছে। তাই ব্যাখ্যায় মূল বর্ণনাকে তুলে ধরা উচিত, অতিরিক্ত নিশ্চয়তা দেওয়া নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রয়োজনের সময় উত্তমরূপে ওজু করার কথা এসেছে।
- দুই রাকাত নামাজের পর আল্লাহর প্রশংসা ও দরূদ পাঠের নির্দেশ আছে।
- দোয়ায় ক্ষমা, দুশ্চিন্তা দূর ও কল্যাণকর প্রয়োজন পূরণের আবেদন আছে।
- হাদিসের মান সম্পর্কে সতর্কতা থাকলে তা জানা ও বলা উচিত।
