৩/১৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৮২ - সালাতুত তাসবিহ পড়ার নিয়ম
সালাতুত তাসবীহ
সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম ও জিকারের সংখ্যা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৪৮২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৪৮২
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ الْعُكْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ، مَوْلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ أَبِي رَافِعٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِلْعَبَّاسِ " يَا عَمِّ أَلاَ أَصِلُكَ أَلاَ أَحْبُوكَ أَلاَ أَنْفَعُكَ». قَالَ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " يَا عَمِّ صَلِّ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ تَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ فَإِذَا انْقَضَتِ الْقِرَاءَةُ فَقُلِ اللَّهُ أَكْبَرُ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً قَبْلَ أَنْ تَرْكَعَ ثُمَّ ارْكَعْ فَقُلْهَا عَشْرًا ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ فَقُلْهَا عَشْرًا ثُمَّ اسْجُدْ فَقُلْهَا عَشْرًا ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ فَقُلْهَا عَشْرًا ثُمَّ اسْجُدِ الثَّانِيَةَ فَقُلْهَا عَشْرًا ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ فَقُلْهَا عَشْرًا قَبْلَ أَنْ تَقُومَ فَتِلْكَ خَمْسٌ وَسَبْعُونَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ وَهِيَ ثَلاَثُمِائَةٍ فِي أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ فَلَوْ كَانَتْ ذُنُوبُكَ مِثْلَ رَمْلِ عَالِجٍ لَغَفَرَهَا اللَّهُ لَكَ». قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَنْ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَقُولَهَا فِي كُلِّ يَوْمٍ قَالَ «فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ أَنْ تَقُولَهَا فِي كُلِّ يَوْمٍ فَقُلْهَا فِي جُمُعَةٍ فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ أَنْ تَقُولَهَا فِي جُمُعَةٍ فَقُلْهَا فِي شَهْرٍ». فَلَمْ يَزَلْ يَقُولُ لَهُ حَتَّى قَالَ " فَقُلْهَا فِي سَنَةٍ».قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي رَافِعٍ .
আবূ রাফি‘ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘আব্বাস (রাঃ) -কে বললেনঃ হে চাচা! আমি কি আপনার সাথে সদ্ব্যবহার করব না, আমি কি আপনাকে ভালবাসব না, আমি কি আপনার উপকার করব না? তিনি বললেন, হ্যাঁ ইয়া রাসূলুল্লাহ। তিনি বললেনঃ হে চাচা! চার রাক’আত নামায আদায় করুন, প্রতি রাক’আতে সূরা আল-ফাতিহা ও এর সাথে একটি করে সূরা পাঠ করুন। কিরা’আত পাঠ শেষ করে রুকূ করার পূর্বে পনের বার বলুন, “আল্লাহু আকবার ওয়ালু হামদু লিল্লাহি ওয়া সুবহানাল্লহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু”।অতঃপর রুকূতে গিয়ে দশবার, রুকূ হতে মাথা তুলে দশবার, সিজদাতে গিয়ে দশবার, সিজদা হতে মাথা তুলে দশবার আবার সিজদায় গিয়ে দশবার এবং সিজদা হতে মাথা তুলে দাঁড়ানোর পূর্বে দশবার এটা পাঠ করুন। এভাবে প্রতি রাক’আতে পঁচাত্তর বার পাঠ করা হবে, চার রাক’আতে সর্বমোট তিনশ বার হবে। আপনার টিলা পরিমাণ গুনাহ হলেও আল্লাহ তা’আলা ক্ষমা করে দিবেন।তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! প্রতিদিন এ রকম নামায আদায় করতে কে পারবে? তিনি বললেনঃ প্রতিদিন আদায় করতে না পারলে প্রতি শুক্রবারে (সপ্তাহে একবার) আদায় করুন। যদি প্রতি জুমু’আয় আদায় করতে না পারেন তবে প্রতি মাসে আদায় করুন। (রাবী বলেন,) তিনি এভাবে বলতে বলতে শেষে বললেনঃ বছরে একবার আদায় করে নিন।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর চাচা আব্বাস (রাঃ)-কে চার রাকাত নামাজের একটি পদ্ধতি শেখান। প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা ও আরেকটি সূরা পড়ার পর নির্ধারিত তাসবিহ পনেরবার এবং রুকু, রুকু থেকে ওঠা ও সিজদার বিভিন্ন অবস্থায় দশবার করে পড়তে বলা হয়েছে। এভাবে প্রতি রাকাতে পঁচাত্তরবার এবং চার রাকাতে মোট তিনশবার জিকির হয়। বর্ণনায় এই নামাজকে গুনাহ ক্ষমার একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিদিন আদায় করা সম্ভব না হলে সপ্তাহে, মাসে অথবা বছরে একবার আদায়ের সুযোগও বলা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত ইবাদতের চেষ্টা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতুত তাসবিহ চার রাকাত এবং প্রতি রাকাতে নির্ধারিতভাবে পঁচাত্তরবার জিকির পাঠের কথা এসেছে।
- চার রাকাতে মোট তিনশবার তাসবিহ পাঠ করা হয়।
- প্রতিদিন সম্ভব না হলে সপ্তাহে, মাসে বা বছরে একবার আদায়ের সুযোগ বলা হয়েছে।
- এই নামাজ আল্লাহর কাছে গুনাহ ক্ষমা চাওয়ার একটি আমল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
