৪/২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৯১ - আসরের পর দোয়া ও অপেক্ষা
জুমুআর দিনে এমন একটি সময় রয়েছে যখন দোয়া কবুলের আশা করা যায়
জুমার শেষ সময়ে দোয়া ও নামাজের অপেক্ষার মর্যাদা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৪৯১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৪৯১
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ فِيهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ وَفِيهِ أُهْبِطَ مِنْهَا وَفِيهِ سَاعَةٌ لاَ يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ يُصَلِّي فَيَسْأَلُ اللَّهَ فِيهَا شَيْئًا إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ ".قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَلَقِيتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَلاَمٍ فَذَكَرْتُ لَهُ هَذَا الْحَدِيثَ فَقَالَ أَنَا أَعْلَمُ بِتِلْكَ السَّاعَةِ . فَقُلْتُ أَخْبِرْنِي بِهَا وَلاَ تَضْنَنْ بِهَا عَلَىَّ قَالَ هِيَ بَعْدَ الْعَصْرِ إِلَى أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ . فَقُلْتُ كَيْفَ تَكُونُ بَعْدَ الْعَصْرِ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لاَ يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مَسْلِمٌ وَهُوَ يُصَلِّي ". وَتِلْكَ السَّاعَةُ لاَ يُصَلَّى فِيهَا فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ أَلَيْسَ قَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَنْ جَلَسَ مَجْلِسًا يَنْتَظِرُ الصَّلاَةَ فَهُوَ فِي صَلاَةٍ ". قُلْتُ بَلَى. قَالَ فَهُوَ ذَاكَ.قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْحَدِيثِ قِصَّةٌ طَوِيلَةٌ. قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. قَالَ وَمَعْنَى قَوْلِهِ " أَخْبِرْنِي بِهَا وَلاَ تَضْنَنْ بِهَا عَلَىَّ ". لاَ تَبْخَلْ بِهَا عَلَىَّ وَالضَّنُّ الْبُخْلُ وَالظَّنِينُ الْمُتَّهَمُ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যেসব দিনে সূর্য উদয় হয় তার মধ্যে জুমু’আর দিনই সর্বশ্রেষ্ঠ। এ দিনেই আদম (আঃ) -কে সৃষ্টি করা হয়েছিল। এদিনেই তাঁকে সেখান হতে (পৃথিবীতে) নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ দিনের মধ্যে এমন একটি সময় আছে যখন কোন মুসলিম বান্দা নামাজ আদায় করে আল্লাহ তা’আলার নিকট কিছু চাইলে তিনি অবশ্যই তাকে তা দান করেন।আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু সালামের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে এ হাদীস প্রসঙ্গে জানালাম। তিনি বলেন, আমি সে সময়টি জানি। আমি বললাম, তাহলে আমাকেও বলে দিন, এ ব্যাপারে কৃপণতা করবেন না। তিনি বললেন, এ সময়টি আসরের পর হতে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত। আমি বললাম, তা কি করে আসরের পর হতে পারে? অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, বান্দা নামাজরত অবস্থায় এই মুহূর্তটি পেয়ে...। অথচ আপনি যে সময়ের কথা বলেছেন, তখন তো নামাজ আদায় করা হয় না। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি বলেননিঃ যে ব্যক্তি নামাজের অপেক্ষায় বসে থাকে প্রকারান্তরে সে নামাজের মধ্যেই থাকে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, সেটাই এ সময়।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ্।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার দিনের মর্যাদা, আদম (আঃ)-এর সৃষ্টি এবং দোয়া কবুলের একটি বিশেষ সময়ের কথা এসেছে। আবু হুরাইরা (রাঃ) বিষয়টি আব্দুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ)-কে জানালে তিনি সময়টিকে আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বলেন। প্রশ্ন ওঠে, এ সময় তো সাধারণভাবে নামাজ আদায় করা হয় না, অথচ হাদিসে বান্দার নামাজরত থাকার কথা আছে। জবাবে তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আরেকটি বক্তব্য স্মরণ করান—যে ব্যক্তি নামাজের অপেক্ষায় বসে থাকে, সে নামাজের অবস্থাতেই গণ্য হয়। তাই জুমার শেষ সময়ে পরবর্তী নামাজের অপেক্ষা, আল্লাহর স্মরণ এবং দোয়ার মাধ্যমে সময় কাটানো যায়। হাদিসটি দোয়ার সময় নিয়ে প্রশ্ন করা ও দলিল দিয়ে বোঝার সুন্দর উদাহরণও তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় থাকার কথা বলা হয়েছে।
- আব্দুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) সময়টি আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বলেছেন।
- নামাজের অপেক্ষায় বসে থাকা ব্যক্তিকে নামাজরত অবস্থায় গণ্য করা হয়।
- দ্বীনি বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর বর্ণনার আলোকে বুঝে নেওয়া উচিত।
