৪/১৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৫১২ - খুতবার সময় কথা বলা নিষেধ
খুতবা চলাকালে কথাবার্তা বলা মাকরূহ
খুতবার সময় কথা বলা: ‘চুপ কর’ বলাও অনর্থক
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৫১২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৫১২
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ «مَنْ قَالَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ أَنْصِتْ فَقَدْ لَغَا». قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ .قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا لِلرَّجُلِ أَنْ يَتَكَلَّمَ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ وَقَالُوا إِنْ تَكَلَّمَ غَيْرُهُ فَلاَ يُنْكِرْ عَلَيْهِ إِلاَّ بِالإِشَارَةِ . وَاخْتَلَفُوا فِي رَدِّ السَّلاَمِ وَتَشْمِيتِ الْعَاطِسِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ فَرَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي رَدِّ السَّلاَمِ وَتَشْمِيتِ الْعَاطِسِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَكَرِهَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ التَّابِعِينَ وَغَيْرِهِمْ ذَلِكَ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি জুমু’আর দিনে ইমামের খুতবা দানকালে (অন্যকে) বলল, ‘চুপ কর’ সে অকারণে কথা বলল।
এ অনুচ্ছেদে ইবনু আবূ আওফা ও জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবূ হুরাইরার হাদীসটি হাসান সহীহ্। বিশেষজ্ঞগণ এ হাদীসের উপর আমল করেছেন। তাঁরা ইমামের খুতবা চলাকালে কথা বলাকে মাকরূহ বলেছেন। যদি কেউ কথা বলে তবে হাত দিয়ে ইশারায় তাকে থামিয়ে দিবে। কিন্তু তাঁরা সালামের উত্তর দেওয়া ও হাঁচির জবাব দেওয়ার ব্যাপারে মত পার্থক্য করেছেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক ইমামের খুতবা চলার সময়ে সালামের উত্তর দেওয়া ও হাঁচির উত্তরে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলার সম্মতি দিয়েছেন। একদল তাবিঈ এটাকে মাকরূহ বলেছেন। ইমাম শাফিঈ এই মত গ্রহণ করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৫১২-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: নীরবতা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, জুমার দিনে ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় কেউ যদি অন্য ব্যক্তিকে ‘চুপ কর’ বলে, তবুও সে অনর্থক কথা বলল। কথাটি খুব তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এখানে ভালো উদ্দেশ্যে কাউকে নীরব করতেও মুখে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। হাদিসটির কেন্দ্রীয় শিক্ষা হলো খুতবার সময় নিজের জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ করা এবং পূর্ণ মনোযোগে শোনা। আরবি পাঠের ব্যাখ্যায় আলেমদের আমল হিসেবে এসেছে, কেউ কথা বললে তাকে মুখে থামানোর বদলে ইশারা করা যেতে পারে। সালামের জবাব ও হাঁচির উত্তর নিয়ে আলেমদের মতভেদও সেখানে উল্লেখ আছে। তাই নিশ্চিত মূলনীতি হলো: ইমাম খুতবা দিলে সাধারণ কথাবার্তা বন্ধ রাখতে হবে। ‘জুমার খুতবার সময় কথা বলা’ বিষয়ে এই হাদিস সবচেয়ে সরাসরি ও সতর্কতামূলক নির্দেশগুলোর একটি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমাম খুতবা দিলে সাধারণ কথাবার্তা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- অন্যকে ‘চুপ কর’ বলাও হাদিসে অনর্থক কথা হিসেবে ধরা হয়েছে।
- কথা বলা ব্যক্তিকে মুখে না থামিয়ে ইশারা করার কথা আলেমদের আমলে এসেছে।
- সালামের জবাব ও হাঁচির উত্তর নিয়ে মতভেদ থাকলেও নীরবতাই মূল নির্দেশ।
