৪/৩৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৫৪২ - ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় খাওয়ার সময়
ঈদুল ফিতরের দিন নামাজ আদায় করতে যাওয়ার পূর্বে কিছু খাওয়া
ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় কখন খাবেন
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৫৪২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৫৪২
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّارُ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، عَنْ ثَوَابِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ لاَ يَخْرُجُ يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَطْعَمَ وَلاَ يَطْعَمُ يَوْمَ الأَضْحَى حَتَّى يُصَلِّيَ .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ بُرَيْدَةَ بْنِ حُصَيْبٍ الأَسْلَمِيِّ حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَقَالَ مُحَمَّدٌ لاَ أَعْرِفُ لِثَوَابِ بْنِ عُتْبَةَ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ . وَقَدِ اسْتَحَبَّ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ لاَ يَخْرُجَ يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَطْعَمَ شَيْئًا وَيُسْتَحَبُّ لَهُ أَنْ يُفْطِرَ عَلَى تَمْرٍ وَلاَ يَطْعَمَ يَوْمَ الأَضْحَى حَتَّى يَرْجِعَ .
বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খাওয়া পর্যন্ত নামাজে বের হতেন না এবং ঈদুল আজহার দিন নামাজ না আদায় করা পর্যন্ত কিছু খেতেন না।
এ অনুচ্ছেদে ‘আলী ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ বুরাইদার হাদীসটি গারীব। ইমাম বুখারী বলেছেন, এ হাদীসটি ছাড়া সাওয়াব ইবনু ‘উতবার সূত্রে বর্ণিত আর কোন হাদীস আমার জানা নেই। একদল মনীষী ঈদুল ফিতরের দিন কিছু খেয়ে ঘর হতে নামাজের জন্য বের হওয়া মুস্তাহাব বলেছেন। তারা খেজুর খাওয়া পছন্দ করছেন। তাদের মতে ঈদুল আজহার দিন নামাজ হতে আসার পর পানাহার করা মুস্তাহাব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৫৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সকালে খাওয়ার বিষয়ে দুটি আলাদা আমল বলা হয়েছে। নবী صلى الله عليه وسلم ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে নামাজের জন্য বের হতেন না। অর্থাৎ ঈদের নামাজের আগে তিনি কিছু খেতেন। অন্যদিকে ঈদুল আজহার দিন নামাজ আদায় করার আগে তিনি কিছু খেতেন না। তাই “ঈদের নামাজের আগে খাওয়া” বিষয়ে দুই ঈদের নিয়ম এক নয়—এটাই হাদিসের সরাসরি বক্তব্য। বর্ণনার শেষ অংশে আলিমদের একটি পছন্দের কথা এসেছে: ঈদুল ফিতরে কিছু খেয়ে বের হওয়া এবং খেজুর দিয়ে ইফতার করা পছন্দনীয়; আর ঈদুল আজহায় ফিরে আসা পর্যন্ত না খাওয়া পছন্দনীয়। তবে মূল হাদিসে খাবারের পরিমাণ বা বিস্তারিত মেনু বলা হয়নি। তাই এই আমলের সহজ রূপটাই মনে রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে কিছু খাওয়া নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমল।
- ঈদুল আজহার নামাজের আগে তিনি খাবার গ্রহণ করতেন না।
- দুই ঈদের সকালের আমল এক নয়—হাদিসে এই পার্থক্য স্পষ্ট।
