৪/৫২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৫৭৬ - সূরা নাজম পাঠে সিজদা না করার বর্ণনা
যে ব্যক্তি সূরা নাজমে সিজদা করে না
সূরা নাজমে সিজদা না করার হাদিস: বর্ণনাটির সরল অর্থ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৫৭৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৫৭৬
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ النَّجْمَ فَلَمْ يَسْجُدْ فِيهَا.قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَتَأَوَّلَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ هَذَا الْحَدِيثَ فَقَالَ إِنَّمَا تَرَكَ النَّبِيُّ ﷺ السُّجُودَ لأَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ حِينَ قَرَأَ فَلَمْ يَسْجُدْ لَمْ يَسْجُدِ النَّبِيُّ ﷺ . وَقَالُوا السَّجْدَةُ وَاجِبَةٌ عَلَى مَنْ سَمِعَهَا فَلَمْ يُرَخِّصُوا فِي تَرْكِهَا. وَقَالُوا إِنْ سَمِعَ الرَّجُلُ وَهُوَ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ فَإِذَا تَوَضَّأَ سَجَدَ. وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ وَبِهِ يَقُولُ إِسْحَاقُ.وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِنَّمَا السَّجْدَةُ عَلَى مَنْ أَرَادَ أَنْ يَسْجُدَ فِيهَا وَالْتَمَسَ فَضْلَهَا وَرَخَّصُوا فِي تَرْكِهَا إِنْ أَرَادَ ذَلِكَ. وَاحْتَجُّوا بِالْحَدِيثِ الْمَرْفُوعِ حَدِيثِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ حَيْثُ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ النَّجْمَ فَلَمْ يَسْجُدْ فِيهَا. فَقَالُوا لَوْ كَانَتِ السَّجْدَةُ وَاجِبَةً لَمْ يَتْرُكِ النَّبِيُّ ﷺ زَيْدًا حَتَّى كَانَ يَسْجُدُ وَيَسْجُدُ النَّبِيُّ ﷺ . وَاحْتَجُّوا بِحَدِيثِ عُمَرَ أَنَّهُ قَرَأَ سَجْدَةً عَلَى الْمِنْبَرِ فَنَزَلَ فَسَجَدَ ثُمَّ قَرَأَهَا فِي الْجُمُعَةِ الثَّانِيَةِ فَتَهَيَّأَ النَّاسُ لِلسُّجُودِ فَقَالَ إِنَّهَا لَمْ تُكْتَبْ عَلَيْنَا إِلاَّ أَنْ نَشَاءَ. فَلَمْ يَسْجُدْ وَلَمْ يَسْجُدُوا. فَذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا. وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ.
যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সূরা নাজম পাঠ করে শুনালাম, কিন্তু তিনি সিজদা করেননি।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ যাইদ ইবনু সাবিতের হাদীসটি হাসান সহীহ্। কিছু আলিম উল্লেখিত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, যেহেতু যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) সাজদাহ্ করেননি তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)ও সাজদাহ্ করেননি। তাদের মতে তিলাওয়াতকারী সিজদা না করলে শ্রোতার উপর সাজদাহ্ করা ওয়াজিব হয় না। কতক বলেন, শ্রবণকারীর উপরও সাজদাহ্ করা ওয়াজিব, এটা ছেড়ে দেয়ার কোন অনুমতি নেই। যদি ওযূহীন অবস্থায় শুনে তবে ওযূ করার পর সাজদাহ্ করবে। সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসীগণ একথা বলেছেন। ইসহাকও একই রকম মত দিয়েছেন। অপর একদল বিদ্বান বলেছেন, যে ব্যক্তি সাজদাহ্ করতে চায় এবং তার ফাযীলাত (সাওয়াব) লাভের ইচ্ছে করে শুধুমাত্র সেই সাজদাহ্ করবে। সাজদাহ্ ছেড়ে দেয়ারও অনুমতি আছে। অর্থাৎ সে ইচ্ছা করলে সাজদাহ্ নাও করতে পারে। তাঁর উপরে উল্লেখিত যাইদ (রাঃ) -এর মারফূ হাদীসকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। তাঁরা বলেন, যদি সাজদাহ্ করা ওয়াজিব হতো তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাইদ (রাঃ) -কে সাজদাহ্ করতে বাধ্য করতেন এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেও সাজদাহ্ করতেন। তাঁরা উমার (রাঃ) -এর হাদীসও নিজেদের দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। “তিনি মিম্বারের উপর (জুমু‘আর খুতবায়) সাজদাহ্র আয়াত পাঠ করলেন, তারপর মিম্বার থেকে নেমে সাজদাহ্ করলেন। উল্লেখিত সাজদাহ্র আয়াতটি তিনি (উমার) পরবর্তী জুমু‘আর দিনও (খুতবার মধ্যে) পাঠ করলেন। লোকেরা সাজদাহ্ দেওয়ার প্রস্তুতি নিল। তিনি বললেন, সাজদাহ্ করা আমাদের জন্য আবশ্যক নয়, হ্যাঁ, যে চায় (সে করতে পারে)। উমার (রাঃ) -ও সাজদাহ্ করলেন না এবং লোকেরাও সাজদাহ্ করলো না।” (বুখারীতেও এ হাদীস উল্লেখিত হয়েছে)। একদল আলিম এই মত অবলম্বন করেছেন। ইমাম শাফিঈ এবং আহমাদও এ মত সমর্থন করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৫৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় সূরা নাজম পাঠের সময় সিজদা না করার একটি ঘটনা। যায়দ ইবন সাবিত রাঃ বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে সূরা নাজম পড়ে শুনিয়েছিলেন, কিন্তু নবী صلى الله عليه وسلم তাতে সিজদা করেননি। এই বর্ণনাটি আগের কিছু ঘটনায় সূরা নাজমে সিজদা করার বর্ণনার পাশাপাশি একটি ভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে। তবে বর্তমান হাদিসের সরাসরি বক্তব্য শুধু এতটুকুই: ওই পাঠের সময় তিনি সিজদা করেননি। কেন করেননি—অনুবাদের মূল বাক্যে তার কারণ বলা নেই। তাই নিশ্চিত কারণ দাঁড় করানো ঠিক হবে না। তিলাওয়াতের সিজদার বিধান নিয়ে আলেমদের আলোচনা থাকতে পারে, কিন্তু এই ব্যাখ্যায় হাদিসের নিজস্ব ঘটনাই কেন্দ্র। এটি শেখায় যে একটি নির্দিষ্ট আমল বোঝার সময় সংশ্লিষ্ট সব সহিহ বর্ণনা সতর্কভাবে দেখা দরকার এবং এক ঘটনা দিয়ে সব পরিস্থিতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যায়দ ইবন সাবিত রাঃ সূরা নাজম পড়ে শুনিয়েছিলেন।
- ওই ঘটনায় নবী صلى الله عليه وسلم সিজদা করেননি।
- হাদিসে সিজদা না করার কারণ স্পষ্ট করা হয়নি।
- একটি বিষয় বুঝতে সম্পর্কিত সব বর্ণনা সতর্কভাবে দেখা দরকার।
