৫/২৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৬৩ - শাবানের রোজা ও রমজানের দান
দানের মর্যাদা
শাবানের রোজা ও রমজানের দান: প্রস্তুতি ও উদারতার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৬৬৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৬৬৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ مُوسَى، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ ﷺ أَىُّ الصَّوْمِ أَفْضَلُ بَعْدَ رَمَضَانَ فَقَالَ " شَعْبَانُ لِتَعْظِيمِ رَمَضَانَ ". قِيلَ فَأَىُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ قَالَ " صَدَقَةٌ فِي رَمَضَانَ ". قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ. وَصَدَقَةُ بْنُ مُوسَى لَيْسَ عِنْدَهُمْ بِذَاكَ الْقَوِيِّ .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) কে প্রশ্ন করা হল, রমজানের রোজার পর কোন রোজা সবচাইতে বেশি মর্যাদা সম্পন্ন? তিনি বলেনঃ রমজানের সম্মানার্থে শা'বানের রোজা। প্রশ্নকারী আবার বলল, কোন (সময়ের) দান-খায়রাত সবচাইতে বেশি মর্যাদা সম্পন্ন? তিনি বললেনঃ রমজান মাসের দান-খায়রাত।
আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি গারীব। সাদাকা ইবনু মূসা হাদীস বিশারদদের মতে খুব একটা নির্ভরযোগ্য রাবী নন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুটি প্রশ্নের উত্তর এসেছে। প্রথম প্রশ্ন ছিল, রমজানের রোজার পর কোন রোজা বেশি মর্যাদাপূর্ণ। উত্তরে শাবানের রোজার কথা বলা হয়েছে, যা রমজানকে সম্মান ও প্রস্তুতির সঙ্গে গ্রহণ করার দিকে ইঙ্গিত করে। দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, কোন সময়ের দান বেশি মর্যাদাপূর্ণ। উত্তরে রমজান মাসের দান-খয়রাতের কথা এসেছে। ফলে বর্ণনাটি রমজানের আগে ইবাদতের প্রস্তুতি এবং রমজানে উদারতা—দুই দিকই সামনে আনে। তবে আরবি অংশে বর্ণনাটিকে গরিব বলা হয়েছে এবং একজন বর্ণনাকারীর শক্তি নিয়ে মন্তব্য আছে। তাই এটিকে ব্যাখ্যা করার সময় অতিরঞ্জিত বা চূড়ান্ত দাবি না করে, প্রদত্ত বর্ণনার ভাষাতেই সীমিত থাকা ভালো। তাই আমল ও বর্ণনার মান—দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শাবানে নফল রোজা রমজানের প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
- রমজানে দান-খয়রাতের প্রতি বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
- বর্ণনার মান সম্পর্কে থাকা মন্তব্য বিবেচনায় রেখে কথা বলা উচিত।
