৫/৩১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৬৭ - মৃত মায়ের পক্ষ থেকে রোজা ও হজ
সাদকা দানকারীর পুনরায় দানকৃত বস্তুর উত্তরাধিকারী হওয়া
মৃত মায়ের পক্ষ থেকে রোজা ও হজ আদায়ের হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৬৬৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৬৬৭
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ إِذْ أَتَتْهُ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ تَصَدَّقْتُ عَلَى أُمِّي بِجَارِيَةٍ وَإِنَّهَا مَاتَتْ . قَالَ " وَجَبَ أَجْرُكِ وَرَدَّهَا عَلَيْكِ الْمِيرَاثُ " . قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا كَانَ عَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ أَفَأَصُومُ عَنْهَا قَالَ «صُومِي عَنْهَا» . قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا لَمْ تَحُجَّ قَطُّ أَفَأَحُجُّ عَنْهَا قَالَ " نَعَمْ حُجِّي عَنْهَا " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَلاَ يُعْرَفُ هَذَا مِنْ حَدِيثِ بُرَيْدَةَ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَطَاءٍ ثِقَةٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ ثُمَّ وَرِثَهَا حَلَّتْ لَهُ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّمَا الصَّدَقَةُ شَيْءٌ جَعَلَهَا لِلَّهِ فَإِذَا وَرِثَهَا فَيَجِبُ أَنْ يَصْرِفَهَا فِي مِثْلِهِ . وَرَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَزُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَطَاءٍ .
আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদা (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি (বুরাইদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে আমি বসা ছিলাম। এমন সময় তাঁর নিকট এক মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি আমার মাকে একটি দাসী দান করেছিলাম। তিনি মারা গেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি সাওয়াবের অধিকারী হয়ে গেছ এবং উত্তরাধিকার স্বত্ত্ব দাসীটি তোমাকে ফেরত দিয়েছে। সে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! এক মাসের রোযা আদায় করা তার বাকী আছে, তার পক্ষ হতে আমি কি রোযা আদায় করতে পারি? তিনি বললেনঃ তার পক্ষে তুমি রোযা আদায় কর। সে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! কখনও তিনি হজ্জ করেননি। তার পক্ষ হতে আমি কি হজ্জ আদায় করতে পারি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তার জন্য তুমি হজ্জ আদায় কর।
আবূ ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ্ বলেছেন। উপরোক্ত সূত্র ব্যতীত এটি বুরাইদার হাদীস হিসাবে জানা যায়নি। হাদীস বিশারদদের মতে আবদুল্লাহ ইবনু আতা সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) বর্ণনাকারী। এ হাদীস অনুযায়ী বেশির ভাগ আলিম আমল করার মত ব্যক্ত করেছেন। কোন লোক কিছু সাদকা করল এবং পরে আবার সে তার উত্তরাধিকারী হল, এক্ষেত্রে তার জন্য ঐ সম্পদ বৈধ। অপর একদল মনীষী বলেনঃ সাদকা বা দান খায়রাত এমন একটি জিনিস যা শুধুমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য খরচ করা হয়। এরকম সম্পদ ওয়ারিস সূত্রে প্রাপ্ত হলে উচিত হচ্ছে ঐ জিনিস পুনরায় সে পথে খরচ করে দেয়া। সুফিয়ান সাওরী ও যুহাইর ইবনু মুআবিয়া-আবদুল্লাহ ইবনু আতার সূত্রে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৬৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক নারী তাঁর মৃত মায়ের বিষয়ে তিনটি প্রশ্ন করেন। প্রথমে তিনি জানান, মাকে একটি দাসী দান করেছিলেন। মা মারা যাওয়ার পর উত্তরাধিকার হিসেবে সেই দাসী তাঁর কাছে ফিরে আসে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, দানের সওয়াব তিনি পেয়েছেন এবং উত্তরাধিকার তাকে সম্পদটি ফিরিয়ে দিয়েছে। এরপর তিনি মায়ের বাকি এক মাসের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তাঁকে মায়ের পক্ষ থেকে রোজা রাখতে বলা হয়। শেষে তিনি জানান, মা কখনও হজ করেননি। তাঁকে মায়ের পক্ষ থেকে হজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। হাদিসটি দান, উত্তরাধিকার, মৃতের বাকি রোজা এবং হজ—চারটি বিষয় একসঙ্গে তুলে ধরে। ব্যাখ্যায় এগুলো আলাদা করে বোঝা জরুরি, যেন একটি বিধান অন্যটির সঙ্গে মিশে না যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দান করা সম্পদ উত্তরাধিকার হিসেবে ফিরে এলে আগের দানের সওয়াব নষ্ট হয় না।
- বর্ণনায় মৃত মায়ের পক্ষ থেকে বাকি রোজা রাখার অনুমতি এসেছে।
- মৃত মায়ের পক্ষ থেকে হজ করার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
