৬/৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৯১ - রমজানের চাঁদের সাক্ষ্য ও রোজার ঘোষণা
সাক্ষ্যের ভিত্তিতে রোজা রাখা
রমজানের চাঁদ দেখার সাক্ষ্য কীভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৬৯১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৬৯১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي ثَوْرٍ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُ الْهِلاَلَ. قَالَ " أَتَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَتَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ " . قَالَ نَعَمْ. قَالَ " يَا بِلاَلُ أَذِّنْ فِي النَّاسِ أَنْ يَصُومُوا غَدًا " .حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْجُعْفِيُّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، نَحْوَهُ بِهَذَا الإِسْنَادِ. قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ فِيهِ اخْتِلاَفٌ. وَرَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، وَغَيْرُهُ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مُرْسَلاً وَأَكْثَرُ أَصْحَابِ سِمَاكٍ رَوَوْا عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مُرْسَلاً. وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا تُقْبَلُ شَهَادَةُ رَجُلٍ وَاحِدٍ فِي الصِّيَامِ . وَبِهِ يَقُولُ ابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَأَهْلُ الْكُوفَةِ. قَالَ إِسْحَاقُ لاَ يُصَامُ إِلاَّ بِشَهَادَةِ رَجُلَيْنِ. وَلَمْ يَخْتَلِفْ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الإِفْطَارِ أَنَّهُ لاَ يُقْبَلُ فِيهِ إِلاَّ شَهَادَةُ رَجُلَيْنِ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কোন এক বেদুইন ব্যক্তি নবীর (ﷺ) নিকট এসে বলল, আমি (রমজানের) নতুন চাঁদ দেখেছি। তিনি বললেন তুমি কি এ কথার সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ্ তা‘আলা ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই? তুমি কি আরো সাক্ষ্য দাও যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহ্ তা‘আলার রাসূল? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ হে বিলাল! লোকদের মধ্যে ঘোষণা করে দাও তারা যেন আগামীকাল হতে রোযা রাখে।
অন্য একটি সূত্রেও একই রকম হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের সনদে মতের অমিল আছে। সুফিয়ান সাওরী প্রমুখ এটিকে সিমাক ইবনু হারব, ইকরিমার সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিম এই হাদীস অনুযায়ী আমল করার কথা বলেছেন। তাঁরা বলেন, রোযার ব্যাপারে এক ব্যক্তির সাক্ষ্যের ভিত্তিতে রোযা রাখা যাবে। ইবনুল মুবারক, শাফিঈ, আহ্মাদ ও কূফাবাসীদের এই মত। ইসহাক বলেন, দুই ব্যক্তির সাক্ষ্য ব্যতীত রোযা রাখা যাবে না। তবে রোযা ভেঙে ফেলার ব্যাপারে আলিমদের মধ্যে মতের অমিল নেই যে, এই ব্যাপারে দুই ব্যক্তির সাক্ষ্য আবশ্যিক।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমজানের নতুন চাঁদ দেখার একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এক বেদুঈন ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে জানায় যে সে নতুন চাঁদ দেখেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে তার ঈমানের সাক্ষ্য যাচাই করেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, সে কি আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর রাসূল—এই সাক্ষ্য দেয় কি না। লোকটি হ্যাঁ বললে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বিলাল (রাঃ)-কে মানুষের মধ্যে ঘোষণা করতে বলেন, যেন তারা পরদিন থেকে রোজা রাখে। এই ঘটনা দেখায়, চাঁদ দেখার সংবাদকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছিল এবং তা যাচাইয়ের পর জনসাধারণকে জানানো হয়েছিল। ব্যক্তিগত দেখা একটি সামষ্টিক রোজার ঘোষণায় রূপ নিয়েছিল দায়িত্বশীল ঘোষণার মাধ্যমে। এতে দেখা যায়, সাক্ষ্য গ্রহণের পর সিদ্ধান্তটি গোপন রাখা হয়নি; বরং সবার আমলের জন্য প্রকাশ্যে জানানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানের চাঁদ দেখার সংবাদ যাচাই করে গ্রহণ করা হয়েছিল।
- চাঁদ দেখার সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা দরকার।
- রোজার শুরু ব্যক্তিগত গোপন সিদ্ধান্ত নয়; সমাজকে জানিয়ে সামষ্টিকভাবে পালন করা হয়।
