৬/১৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭০৭ - রোজায় মিথ্যা ও অন্যায় বর্জন
রোজা থাকা অবস্থায় গিবত
রোজায় মিথ্যা কথা ও অন্যায় কাজ বর্জনের গুরুত্ব
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭০৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭০৭
حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ «مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ بِأَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ» . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ অন্যায় কথাবার্তা (গীবাত, মিথ্যা, গালিগালাজ, অপবাদ, অভিসম্পাত ইত্যাদি) ও কাজ যে লোক (রোযা থাকা অবস্থায়) ছেড়ে না দেয়, সে লোকের পানাহার ত্যাগে আল্লাহ্ তা’আলার কোন প্রয়োজন নেই।
আনাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ্ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) রোজার নৈতিক দিকটি খুব শক্ত ভাষায় বুঝিয়েছেন। কেউ যদি রোজা রেখে মিথ্যা কথা, গীবত, গালাগালি, অপবাদ, অভিশাপ বা অন্যায় কাজ ছেড়ে না দেয়, তবে শুধু খাবার ও পানীয় ত্যাগ করাই যথেষ্ট নয়। হাদিসের বক্তব্য হলো, রোজা মানুষের মুখ, আচরণ ও কাজকে নিয়ন্ত্রণ করার ইবাদত। তাই রোজার সময় ক্ষুধা সহ্য করার পাশাপাশি কথাবার্তা পরিষ্কার রাখা, কাউকে কষ্ট না দেওয়া এবং অন্যায় কাজে না জড়ানো দরকার। এখানে আল্লাহর ‘প্রয়োজন নেই’ কথাটি রোজার গুরুত্ব কমানো নয়; বরং এমন রোজার ত্রুটি দেখানো, যেখানে বাহ্যিক সংযম আছে কিন্তু চরিত্রে পরিবর্তন নেই। এই শিক্ষা রমজান ও নফল—সব রোজার আদব বুঝতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোজা শুধু খাবার ও পানীয় ত্যাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
- মিথ্যা কথা ও অন্যায় কাজ রোজার উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
- রোজাদারের মুখ ও আচরণে সংযম থাকা দরকার।
- গীবত, গালাগালি ও অপবাদ থেকে দূরে থাকা রোজার গুরুত্বপূর্ণ আদব।
