৬/৩৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৩৩ - দিনের বেলায় নফল রোজার নিয়ত
রাত্রি চলে যাওয়ার পর নফল রোজা রাখা
খাবার না থাকলে দিনের বেলায় নফল রোজার নিয়ত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭৩৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭৩৩
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ عَمَّتِهِ، عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَوْمًا فَقَالَ «هَلْ عِنْدَكُمْ شَيْءٌ» . قَالَتْ قُلْتُ لاَ . قَالَ " فَإِنِّي صَائِمٌ» .
উম্মুল মু’মিনীন আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন আমার নিকট আসলেন এবং বললেনঃ তোমার কাছে (খাওয়ার) কোন কিছু আছে কি? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ তাহলে আমি রোজা রাখলাম।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর কাছে এসে জানতে চান, ঘরে খাওয়ার মতো কিছু আছে কি না। তিনি ‘না’ বললে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তাহলে তিনি রোজা রাখছেন। ঘটনাটি দিনের বেলায় নফল রোজার নিয়তের একটি সহজ দৃষ্টান্ত হিসেবে বোঝা যায়। এখানে রোজাটি রমজানের ফরজ, কাজা বা মানতের রোজা ছিল—এমন কথা নেই। তাই এই বর্ণনাকে বাধ্যতামূলক সব রোজার নিয়তের নিয়ম হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। বরং আগের নিয়তসংক্রান্ত বর্ণনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে নফল রোজার ক্ষেত্রে আলাদা সহজতা বোঝা যায়। হাদিসে খাবার না পাওয়াকে অভিযোগ বা হতাশার কারণ বানানো হয়নি; বরং সেই দিনের অবস্থায় একটি ভালো আমল বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে হাদিসে না থাকা অতিরিক্ত ফজিলত বা প্রতিশ্রুতি যোগ না করে, দিনের নফল রোজার সুযোগটিই মূল শিক্ষা হিসেবে রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাবার না থাকায় নবী (صلى الله عليه وسلم) সেদিন রোজা রাখার কথা বলেছেন।
- ঘটনাটি নফল রোজার দিনের নিয়তের দৃষ্টান্ত দেয়।
- এটিকে রমজান, কাজা বা মানতের রোজার সাধারণ নিয়ম বলা যাবে না।
- দৈনন্দিন অবস্থাকে ভালো আমলের সুযোগে বদলে নেওয়া যায়।
