৬/৬২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৭৮ - সাওমে বিসাল বা একটানা রোজা নিষেধ
সাওমে বিসাল মাকরূহ
সাওমে বিসাল: ইফতার ছাড়া একটানা রোজা রাখতে নিষেধ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭৭৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭৭৮
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، وَخَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لاَ تُوَاصِلُوا» . قَالُوا فَإِنَّكَ تُوَاصِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " إِنِّي لَسْتُ كَأَحَدِكُمْ إِنَّ رَبِّي يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِي» .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعَائِشَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَجَابِرٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَبَشِيرِ ابْنِ الْخَصَاصِيَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا الْوِصَالَ فِي الصِّيَامِ . وَرُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّهُ كَانَ يُوَاصِلُ الأَيَّامَ وَلاَ يُفْطِرُ .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সাওমে বিসাল কর না। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো সাওমে বিসাল করেন। তিনি বললেনঃ আমি তো তোমাদের কারো মত নই। আমাকে আমার প্রতিপালক পানাহার করান।
আলী, আবূ হুরায়রা, আইশা, ইবনু উমার, জাবির, আবূ সাঈদ ও বাশীর ইবনুল খাসাসিয়্যা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা আনাস (রাঃ)-এর হাদীসটিকে হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেছেন। সাওমে বিসালকে তারা মাকরূহ্ বলে মত দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি একাধিক দিন সাওমে বিসাল করতেন এবং ইফ্তার করতেন না।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সাওমে বিসাল। সাওমে বিসাল বলতে ইফতার না করে পরের দিনের রোজার সঙ্গে আগের রোজা মিলিয়ে একটানা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে বোঝানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সাহাবিদের এই পদ্ধতিতে রোজা রাখতে নিষেধ করেন। সাহাবিরা বলেছিলেন, আপনি তো সাওমে বিসাল করেন। উত্তরে তিনি জানান, তিনি তাদের কারও মতো নন এবং তাঁর প্রতিপালক তাঁকে পানাহার করান। অর্থাৎ নবী صلى الله عليه وسلم নিজের জন্য একটি বিশেষ অবস্থার কথা বলেছেন, যা সাধারণ সাহাবিদের অবস্থার মতো ছিল না। তাই তাঁর বিশেষ আমল দেখে অন্যদের একই কাজ করার অনুমতি ধরে নেওয়া হয়নি। হাদিসের সরাসরি নির্দেশ হলো, সাধারণ মুসলিমরা ইফতার বাদ দিয়ে দিনের পর দিন একটানা রোজা রাখবে না। রোজার নির্ধারিত সময় শেষে ইফতার করাই তাদের জন্য দেওয়া নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইফতার না করে একটানা রোজা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর বিশেষ অবস্থা সাধারণ মানুষের মতো ছিল না।
- নবীজির বিশেষ আমল দেখে নিজের জন্য একই বিধান ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
- রোজার সময় শেষ হলে ইফতার করার স্বাভাবিক নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।
