৬/৬৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৮৭ - মাসিকের পর রোজার কাজা
ঋতুবতী মহিলার রোজা কাজা করা ও নামাজ কাজা না করা প্রসঙ্গে
মাসিকের রোজা কাজা, নামাজ কাজা নয়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭৮৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭৮৭
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عُبَيْدَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنَّا نَحِيضُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ثُمَّ نَطْهُرُ فَيَأْمُرُنَا بِقَضَاءِ الصِّيَامِ وَلاَ يَأْمُرُنَا بِقَضَاءِ الصَّلاَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ مُعَاذَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَيْضًا . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ نَعْلَمُ بَيْنَهُمُ اخْتِلاَفًا أَنَّ الْحَائِضَ تَقْضِي الصِّيَامَ وَلاَ تَقْضِي الصَّلاَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَعُبَيْدَةُ هُوَ ابْنُ مُعَتِّبٍ الضَّبِّيُّ الْكُوفِيُّ يُكْنَى أَبَا عَبْدِ الْكَرِيمِ .
আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে আমরা মাসিক ঋতুর পর পবিত্র হলে তখন আমাদেরকে তিনি রোজার কাযা আদায়ের হুকুম করতেন কিন্তু নামাজ কাযা আদায়ের কথা বলতেন না।
আবূ ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। মুআযা হতে আইশা (রাঃ)-এর সূত্রেও এ হাদীসটি বর্ণিত আছে। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করার কথা বলেছেন। এই বিষয়ে তাদের মাঝে কোন মতভেদ আছে বলে আমাদের জানা নেই অর্থাৎ ঋতুবতী মহিলাকে তার বাদপড়ে যাওয়া রোজার কাযা আদায় করতে হবে কিন্তু নামাজের কাযা করতে হবে না। আবূ ঈসা বলেন, বর্ণনাকারী উবাইদা হলেন ইবনু মুআত্তিব আয যাব্বী আল-কূফী তাঁর উপনাম আবূ আবদুল কারীম।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় মাসিকের পর রোজার কাজা। আয়িশা রা. বলেছেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর যুগে নারীরা মাসিক ঋতুর পর পবিত্র হলে তাঁদের রোজার কাজা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হতো, কিন্তু নামাজের কাজা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হতো না। হাদিসটি দুইটি বিষয়কে পরিষ্কারভাবে আলাদা করেছে। মাসিকের কারণে যে রোজা ছুটেছে, তা পরে আদায় করতে হবে। অন্যদিকে সেই সময়ের নামাজ পরে কাজা করতে বলা হয়নি। তাই “মাসিকের রোজা কাজা” এবং “নামাজ কাজা নয়”—এই দুটিই বর্ণনার সরাসরি শিক্ষা। এখানে নিজের ধারণা দিয়ে দুই ইবাদতের বিধান এক করে ফেলা ঠিক নয়। নারীদের রোজা সংক্রান্ত প্রশ্নে এই হাদিস একটি সহজ ও স্পষ্ট ভিত্তি দেয়। পবিত্র হওয়ার পর বাকি রোজাগুলোর হিসাব রাখা এবং সুযোগমতো কাজা করা দায়িত্বশীল আমল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মাসিকের কারণে ছুটে যাওয়া রোজা পরে কাজা করতে হয়।
- মাসিকের সময় ছুটে যাওয়া নামাজ কাজা করতে বলা হয়নি।
- রোজা ও নামাজের এই দুই বিধানকে আলাদা করে বুঝতে হবে।
