৬/৭৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮০০ - সফরের রোজা ভাঙার একই বর্ণনা
খাবারের পর কোনো লোক সফরের উদ্দেশ্যে বের হলে
রমজানে সফরের আগে খাবার গ্রহণের পুনর্বর্ণনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৮০০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮০০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ أَتَيْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ فِي رَمَضَانَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ هُوَ ابْنُ أَبِي كَثِيرٍ هُوَ مَدِينِيٌّ ثِقَةٌ وَهُوَ أَخُو إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ . وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ هُوَ ابْنُ نَجِيحٍ وَالِدُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمَدِينِيِّ وَكَانَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ يُضَعِّفُهُ . وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ وَقَالُوا لِلْمُسَافِرِ أَنْ يُفْطِرَ فِي بَيْتِهِ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ وَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَقْصُرَ الصَّلاَةَ حَتَّى يَخْرُجَ مِنْ جِدَارِ الْمَدِينَةِ أَوِ الْقَرْيَةِ . وَهُوَ قَوْلُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيِّ .
মুহাম্মাদ ইবনু কা’ব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রমজান মাসে আমি আনাস (রাঃ)-এর নিকট আসলাম। ...... পূর্বোক্ত হাদীসের মতই।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু জাফর হলেন ইবনু আবূ কাসীর মাদীনী, তিনি একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। তিনি ইসমাঈল ইবনু জাফরের ভাই। আবদুল্লাহ ইবনু জাফর হলেন ইবনু নাজীহ; তিনি আলী ইবনু আবদুল্লাহ মাদীনীর পিতা। তাঁকে ইয়াহ্ইয়া ইবনু মাঈন দুর্বল বর্ণনাকারী বলেছেন। এ হাদীসটির ভিত্তিতে কোন কোন আলিম বলেন, কোন মুসাফির লোক বাড়ী হতে সফরের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বে রোজা ভঙ্গ করে পানাহার করে নিতে পারবে, কিন্তু নামাজ কসর করতে পারবে না তার গ্রাম বা নগরপ্রাচীর অতিক্রম না হওয়া পর্যন্ত। এরকম মতই প্রকাশ করেছেন ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় সফরের প্রস্তুতি ও রোজা ভাঙার একটি পুনর্বর্ণনা। এখানে বলা হয়েছে, রমজান মাসে আনাস ইবনু মালিক রা.-এর কাছে যাওয়ার ঘটনাটি আগের হাদিসের মতোই বর্ণিত হয়েছে। তাই এই সূত্র বুঝতে আগের ঘটনার মূল অংশ মনে রাখতে হয়: আনাস রা. সফরের জন্য বাহন প্রস্তুত করেছিলেন, সফরের পোশাক পরেছিলেন, খাবার খেয়েছিলেন এবং এটিকে সুন্নাহ বলেছিলেন। এই হাদিস নতুন কোনো আলাদা ঘটনা বা অতিরিক্ত শর্ত যোগ করছে না। বরং একই ঘটনার আরেকটি সনদ তুলে ধরছে। বর্ণনার শেষে রাবিদের বিষয়ে মন্তব্য এবং কিছু আলেমের মতও আছে। তাই সফরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে রোজা ভাঙা প্রসঙ্গে এটিকে সেই নির্দিষ্ট পরিস্থিতির বর্ণনা হিসেবে পড়তে হবে। সাধারণ অবস্থায় বিনা কারণে রোজা ভাঙার অনুমতি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এটি আগের সফরসংক্রান্ত ঘটনার একই ধরনের আরেকটি বর্ণনা।
- নতুন ঘটনা বা নতুন শর্ত এই সংক্ষিপ্ত পাঠে যোগ হয়নি।
- সফরের নির্দিষ্ট প্রস্তুতির ঘটনাকে সাধারণ অবস্থার সঙ্গে মেলানো উচিত নয়।
