৭/৬. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮১৫ - নবী صلى الله عليه وسلم-এর হজ্জ ও উমরার সংখ্যা

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কতবার হজ্জ করেছেন?

নবী صلى الله عليه وسلم কতবার হজ্জ ও উমরা করেছেন: বর্ণনার বিশ্লেষণ

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮১৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ حَجَّ ثَلاَثَ حِجَجٍ حَجَّتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يُهَاجِرَ وَحَجَّةً بَعْدَ مَا هَاجَرَ وَمَعَهَا عُمْرَةٌ فَسَاقَ ثَلاَثًا وَسِتِّينَ بَدَنَةً وَجَاءَ عَلِيٌّ مِنَ الْيَمَنِ بِبَقِيَّتِهَا فِيهَا جَمَلٌ لأَبِي جَهْلٍ فِي أَنْفِهِ بُرَةٌ مِنْ فِضَّةٍ فَنَحَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِنْ كُلِّ بَدَنَةٍ بِبَضْعَةٍ فَطُبِخَتْ وَشَرِبَ مِنْ مَرَقِهَا .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ سُفْيَانَ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ زَيْدِ بْنِ حُبَابٍ . وَرَأَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ فِي كُتُبِهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي زِيَادٍ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا فَلَمْ يَعْرِفْهُ مِنْ حَدِيثِ الثَّوْرِيِّ عَنْ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ . وَرَأَيْتُهُ لاَ يَعُدُّ هَذَا الْحَدِيثَ مَحْفُوظًا . وَقَالَ إِنَّمَا يُرْوَى عَنِ الثَّوْرِيِّ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ مُجَاهِدٍ مُرْسَلاً .حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، قَالَ قُلْتُ لأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ كَمْ حَجَّ النَّبِيُّ ﷺ قَالَ حَجَّةٌ وَاحِدَةٌ وَاعْتَمَرَ أَرْبَعَ عُمَرٍ عُمْرَةٌ فِي ذِي الْقَعْدَةِ وَعُمْرَةُ الْحُدَيْبِيَةِ وَعُمْرَةٌ مَعَ حَجَّتِهِ وَعُمْرَةُ الْجِعِرَّانَةِ إِذْ قَسَّمَ غَنِيمَةَ حُنَيْنٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَحَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ هُوَ أَبُو حَبِيبٍ الْبَصْرِيُّ هُوَ جَلِيلٌ ثِقَةٌ وَثَّقَهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ .

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

৮১৫/১. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হজ্জ করেছেন তিনবারঃ দু’বার হিজরাতের আগে এবং এক বার হিজরাতের পর। তিনি এই (শেষোক্ত) হজ্জের সাথে উমরাও করেছেন। তিনি তেষট্টিটি কুরবানীর উট এনেছিলেন এবং ইয়ামান হতে আলী (রাঃ) অবশিষ্ট (৩৭টি) উটগুলি এনেছিলেন। আবূ জাহালের একটি উটও ছিল এই উটগুলির মধ্যে। একটি রূপার শিকল এর নাসারন্ধ্রে (নাকের ছিদ্রে) পরানো ছিল। তিনি এটাকেও যবেহ করেছিলেন। প্রতিটি কুরবানীর উট হতে এক টুকরো করে গোশত আনার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দিলেন। এগুলো রান্না করা হলে তিনি এর শুরুয়া (ঝোল) পান করেন।সহীহ, হাজ্জাতুন নবী (ﷺ) (৬৭-৮৩), মুসলিম, হিজরাতের পূর্বে ২ হজ্জ এবং আবূ জাহল এই বাক্যাংশ ছাড়া। এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা গারীব বলেছেন। শুধুমাত্র যাইদ ইবনু হুবাব সূত্রেই আমরা এ হাদীসটি জানতে পেরেছি। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রাহমানের পুস্তকে --- তিনি এটি আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ যিয়াদ হতে বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস সম্বন্ধে আমি মুহাম্মদ আল-বুখারীকে প্রশ্ন করলাম। কিন্তু এই হাদীস উপরোক্ত সনদে বর্ণিত আছে বলে তিনি জানতে পারেননি। আমি দেখেছি এই হাদীসটিকে তিনি সংরক্ষিত বলে গণ্য করতেন না। তিনি বলেন, এটি সাওরী-আবূ ইসহাক-মুজাহিদের সনদে মুরসালভাবে বর্ণিত আছে।৮১৫/২. কাতাদা (রহঃ) বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) -কে আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কতবার হজ্জ করেছেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার হজ্জ এবং চারবার উমরা করেছেন। যিলকাদ মাসে একটি উমরা, হুদাইবিয়ার উমরা, হজ্জের সাথে একটি এবং হুনাইন যুদ্ধের গানীমাত বণ্টনকালে জি’রানা হতে একটি উমরা। -সহীহ, বুখারী, মুসলিম। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। হাব্বান ইবনু হিলাল (আবূ হাবীব আল-বাসরী) একজন মর্যাদাসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। তাঁকে ইয়াহহিয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী বলে মন্তব্য করেছেন।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮১৫-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ বর্ণনায় প্রথমে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তিনবার হজ্জ করেছেন—হিজরতের আগে দুইবার এবং পরে একবার। শেষ হজ্জে তিনি উমরাও করেন, কুরবানির উট আনেন এবং প্রতিটি উটের গোশত থেকে অংশ রান্না করার নির্দেশ দেন। তবে একই পাঠে ইমাম আবু ঈসা এই সনদকে গরিব বলেছেন এবং ইমাম বুখারী এটিকে সংরক্ষিত বর্ণনা মনে করেননি। এরপর আনাস রা.-এর আরেকটি বর্ণনা এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে নবী صلى الله عليه وسلم একবার হজ্জ এবং চারবার উমরা করেছেন। চার উমরার স্থান ও সময়ও উল্লেখ করা হয়েছে। তাই হাদিসটি পড়ার সময় দুই বর্ণনার মান ও পার্থক্য আলাদা করে দেখা জরুরি। নিশ্চিত বক্তব্য হিসেবে শক্তিশালী বর্ণনাটিকেই প্রাধান্য দিতে হবে। এভাবে একই পাঠের ভেতরেই বর্ণনা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ নমুনা পাওয়া যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বর্ণনায় নবী صلى الله عليه وسلم-এর শেষ হজ্জের কুরবানির বিস্তারিত উল্লেখ আছে।
  • প্রথম সনদকে গরিব ও সংরক্ষিত নয় বলে সমালোচনা করা হয়েছে।
  • অন্য বর্ণনায় এক হজ্জ ও চার উমরার কথা এসেছে।
  • একাধিক বর্ণনা থাকলে তাদের মান ও পার্থক্য আলাদা করে বুঝতে হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন