৭/১২. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮২৪ - তামাত্তুতে রাসূলের অনুসরণ

তামাত্তু হজ্জ

তামাত্তু হজ্জে কার অনুসরণ—রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর সুন্নাহর স্পষ্ট জবাব

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮২৪

يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ رَجُلاً، مِنْ أَهْلِ الشَّامِ وَهُوَ يَسْأَلُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ عَنِ التَّمَتُّعِ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ هِيَ حَلاَلٌ . فَقَالَ الشَّامِيُّ إِنَّ أَبَاكَ قَدْ نَهَى عَنْهَا . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ أَبِي نَهَى عَنْهَا وَصَنَعَهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَأَمْرَ أَبِي نَتَّبِعُ أَمْ أَمْرَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ الرَّجُلُ بَلْ أَمْرَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ . فَقَالَ لَقَدْ صَنَعَهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ .

সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

হজ্জের সঙ্গে একত্র করে তামাত্তু করা সম্পর্কে তিনি জনৈক সিরিয়াবাসী ব্যক্তিকে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) এর কাছে প্রশ্ন করতে শুনেছেন। তখন আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, তা করা বৈধ। সিরিয়াবাসী ব্যক্তিটি বলল, আপনার পিতা তো তা করতে নিষেধ করতেন। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, তুমি কি মনে কর, কোন বিষয় যদি আমার পিতা নিষেধ করেন আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা করে থাকেন তবে সেক্ষেত্রে কি আমার পিতার অনুসরণ করা হবে, না রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অনুসরণ করা হবে? লোকটি বলল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাজেরই তো (অনুসরণ করা হবে)। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা (তামাত্তু) করেছেন।

এ হাদিসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে আলী, উসমান, জাবির, সা’দ, আসমা বিনত আবূ বকর ও ইবনু উমর (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান। সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের একদল (হজ্জ ও) উমরা একসঙ্গে করে তামাত্তু করার বিষয়টিকে পছন্দনীয় বলে গ্রহণ করেছেন। তামাত্তু হল একজন (মীকাত থেকে) হজ্জের মাসসমূহে উমরার (এর ইহরাম বেঁধে মক্কায়) দাখিল হবে এবং তা সমাধা করে হজ্জ করা পর্যন্ত ইহরাম অবস্থায় অবস্থান করবে। এমতাবস্থায় এই ব্যক্তিটি হবে মুতামাত্তি- তামাত্তু পালনকারী। তার জন্য যে প্রকারের হাদী (কুরবানীর পশু) সহজ হয় তা কুরবানী করবে। যদি কেউ তাতে সক্ষম না হয় তবে সে হজ্জের সময় তিন এবং বাড়ি প্রত্যাবর্তনকালে সাত দিন সিয়াম পালন করবে। তামাত্তু পালনকারী যখন হজ্জের সময় দিন সিয়াম পালন করবে তখন মুস্তাহাব হল যিল হাজ্জ মাসের দশ দিনের মধ্যে এমনভাবে তা করতে যে আরাফার দিন যেম তার সিয়ামের শেষ দিন হয়। যদি সে এই দশের ভিতর সিয়াম পালন না করে। তবে কতক সাহাবীর মতে সে আইয়্যামে তাশরীকের মাঝে (যিল হজ্জ মাসের ১১, ১২, ১৩ তারিখ) তা পালন করবে। এ হল ইবনু উমর ও আয়িশা (রাঃ)-এর অভিমত। ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) ও এই মত ব্যক্ত করেছেন। কতক আলেম বলেন, আইয়্যামে তাশরীকে সিয়াম পালন করবে না। এ হল কুফাবাসী আলিমগণ -এর অভিমত। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদিস বিশেষজ্ঞ আলিমগণ হজ্জের সঙ্গে উমরা করে তামাত্তু করা পছন্দনীয় আমল বলে গ্রহণ করেছেন। এ হলো ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) (প্রমুখ) এর অভিমত।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮২৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় তামাত্তু হজ্জ এবং রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর অনুসরণ। এক সিরিয়াবাসী ব্যক্তি ইবন উমর (রাঃ)-কে তামাত্তু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তা বৈধ বলেন। লোকটি তাঁর পিতা উমর (রাঃ)-এর নিষেধের কথা তুললে ইবন উমর (রাঃ) একটি পরিষ্কার প্রশ্ন করেন: কোনো বিষয়ে তাঁর পিতা নিষেধ করলেও রাসূল صلى الله عليه وسلم যদি তা করে থাকেন, তবে কাকে অনুসরণ করা হবে? লোকটি স্বীকার করে, রাসূল صلى الله عليه وسلم-কেই অনুসরণ করতে হবে। এরপর ইবন উমর (রাঃ) নিশ্চিত করেন যে নবী صلى الله عليه وسلم তামাত্তু করেছেন। বর্ণনাটি ব্যক্তির মর্যাদা কমায় না; বরং অনুসরণের মানদণ্ড ঠিক করে দেয়। কোনো মত বা নির্দেশের সঙ্গে নবীর প্রমাণিত আমলের পার্থক্য দেখা দিলে, মুসলিমের দৃষ্টি প্রথমে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর দিকেই যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইবন উমর (রাঃ) তামাত্তু হজ্জকে বৈধ বলেছেন।
  • রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর প্রমাণিত আমল ব্যক্তিগত নিষেধের চেয়ে অগ্রাধিকার পায়।
  • দ্বীনি মতভেদে আবেগ নয়, নববী দলিলকে অনুসরণের মানদণ্ড করতে হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন