৭/১৪. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮২৮ - তালবিয়ায় সৃষ্টির সাড়া

তালবিয়া ও কুরবানির ফজিলত

তালবিয়ার ফজিলত: পাথর, গাছ ও মাটির সাড়া

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮২৮

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُلَبِّي إِلاَّ لَبَّى مَنْ عَنْ يَمِينِهِ أَوْ عَنْ شِمَالِهِ مِنْ حَجَرٍ أَوْ شَجَرٍ أَوْ مَدَرٍ حَتَّى تَنْقَطِعَ الأَرْضُ مِنْ هَا هُنَا وَهَا هُنَا» .حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الأَسْوَدِ أَبُو عَمْرٍو الْبَصْرِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ نَحْوَ حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَجَابِرٍ .قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي بَكْرٍ حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ أَبِي فُدَيْكٍ عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ . وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَرْبُوعٍ وَقَدْ رَوَى مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَرْبُوعٍ عَنْ أَبِيهِ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ . وَرَوَى أَبُو نُعَيْمٍ الطَّحَّانُ ضِرَارُ بْنُ صُرَدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ ابْنِ أَبِي فُدَيْكٍ عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَرْبُوعٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ . وَأَخْطَأَ فِيهِ ضِرَارٌ .قَالَ أَبُو عِيسَى سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ الْحَسَنِ يَقُولُ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ مَنْ قَالَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَرْبُوعٍ عَنْ أَبِيهِ فَقَدْ أَخْطَأَ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ وَذَكَرْتُ لَهُ حَدِيثَ ضِرَارِ بْنِ صُرَدٍ عَنِ ابْنِ أَبِي فُدَيْكٍ فَقَالَ هُوَ خَطَأٌ . فَقُلْتُ قَدْ رَوَاهُ غَيْرُهُ عَنِ ابْنِ أَبِي فُدَيْكٍ أَيْضًا مِثْلَ رِوَايَتِهِ . فَقَالَ لاَ شَىْءَ إِنَّمَا رَوَوْهُ عَنِ ابْنِ أَبِي فُدَيْكٍ وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ . وَرَأَيْتُهُ يُضَعِّفُ ضِرَارَ بْنَ صُرَدٍ . وَالْعَجُّ هُوَ رَفْعُ الصَّوْتِ بِالتَّلْبِيَةِ . وَالثَّجُّ هُوَ نَحْرُ الْبُدْنِ .

সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কোন মুসলিম তালবিয়া পাঠ করে তখন তার ডান ও বামে পাথর, বৃক্ষরাজি, মাটি সবকিছুই তার সাথে তালবিয়া পাঠ করে। এমনকি পৃথিবীর এ প্রান্ত হতে ও প্রান্ত পর্যন্ত (তালবিয়া পাঠকারীদের দ্বারা) পূর্ণ হয়ে যায়।

ইসমাঈল ইবনু আইয়্যাশের হাদীসের ন্যায় উবাইদা ইবনু হুমাইদের বরাতে সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) -এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত আছে। ইবনু উমর ও জাবির (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা আবূ বাকরের হাদীসটিকে গারীব বলেছেন। তিনি বলেন, ইবনু আবূ ফুদাইক-দাহহাক ইবনু উসমানের সূত্র ব্যতীত এটি বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। আর আব্দুর রাহমান ইবনু ইয়ারবূর নিকট হতে মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির কোন হাদীস শুনেননি। বরং অন্য একটি হাদীস তিনি সাঈদ ইবনু আব্দুর রাহমান ইবনু ইয়ারবূর মাধ্যমে তাঁর পিতার সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ নুআইম আত-তাহহান-যিরার ইবনু সুরাদ এই হাদীসটিকে ইবনু আবূ ফুদাইক-যাহহাক ইবনু উসমান হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির হতে, তিনি সাঈদ ইবনু আব্দুর রাহমান ইবনু ইয়ারবূ হতে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে- আবূ বাকর (রাঃ) -এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু যিরার তাঁর বর্ণনায় ভুল করেছেন। আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) বলেছেন, বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির-ইবনু আব্দুর রাহমান ইবনু ইয়ারবূ হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে যিনি হাদীসটির সূত্র এইভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি ভুল করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, আমি যিরার ইবনু সুরাদ-ইবনু আবূ ফুদাইকের সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি মুহাম্মাদ আল-বুখারীর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেন, এটি ভুল। আমি বললাম, ইবনু আবূ ফুদাইক হতে যিরার ছাড়াও অন্যান্য বর্ণনাকারী এরকমই বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন, এগুলো কিছু নয়। এরা ইবনু আবূ ফুদাইক হতে বর্ণনা করেছেন অথচ এতে সাঈদ ইবনু আব্দুর রাহমানের নাম উল্লেখ করেননি। যিরার ইবনু সুরাদকে ইমাম বুখারী দুর্বল বর্ণনাকারী সাব্যস্ত করেছেন। ‘আল-আজ্জ’ অর্থ উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা এবং ‘আস-সাজ্জ” অর্থ পশু কুরবানী করা।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮২৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় তালবিয়ার ফজিলত। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কোনো মুসলিম তালবিয়া পাঠ করলে তার ডান ও বামে থাকা পাথর, গাছ এবং মাটিও তার সঙ্গে তালবিয়া পাঠ করে। বর্ণনায় এই সাড়া পৃথিবীর দুই প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার ভাষা এসেছে। হাদিসটি একজন হাজির তালবিয়াকে চারপাশের সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত একটি ইবাদত হিসেবে তুলে ধরে। মানুষ হয়তো সেই সাড়া কানে শুনতে পায় না, কিন্তু নবী صلى الله عليه وسلم-এর সংবাদ হিসেবে মুসলিম তা বিশ্বাস করে। এখানে তালবিয়া পড়ার সময় মনোযোগ, আল্লাহর ডাকে সাড়া এবং এই জিকরের মর্যাদা অনুভব করার শিক্ষা আছে। তবে হাদিসে নির্দিষ্ট সংখ্যক সওয়াব বা কোনো দুনিয়াবি ফলের প্রতিশ্রুতি নেই। তাই ব্যাখ্যাতেও এমন বাড়তি দাবি না করে বর্ণিত ফজিলতটুকুই বলা উচিত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মুসলিমের তালবিয়ার সঙ্গে চারপাশের পাথর, গাছ ও মাটির তালবিয়া পাঠের কথা এসেছে।
  • তালবিয়া আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার মর্যাদাপূর্ণ জিকর।
  • ফজিলতের বর্ণনায় হাদিসে নেই—এমন নির্দিষ্ট পুরস্কার যোগ করা ঠিক নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন