৭/৩৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮৫৮ - হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ
শুধু হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী চুম্বন করা
তাওয়াফে কোন রুকন স্পর্শ করবেন: হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানি
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৮৫৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮৫৮
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، وَمَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، قَالَ كُنْتُ مَعَ ابْنِ عَبَّاسٍ وَمُعَاوِيَةُ لاَ يَمُرُّ بِرُكْنٍ إِلاَّ اسْتَلَمَهُ فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ إِنَّ النَّبِيَّ ﷺ لَمْ يَكُنْ يَسْتَلِمُ إِلاَّ الْحَجَرَ الأَسْوَدَ وَالرُّكْنَ الْيَمَانِيَ . فَقَالَ مُعَاوِيَةُ لَيْسَ شَيْءٌ مِنَ الْبَيْتِ مَهْجُورًا .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ لاَ يَسْتَلِمَ إِلاَّ الْحَجَرَ الأَسْوَدَ وَالرُّكْنَ الْيَمَانِيَ .
আবুত তুফাইল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম। তাওয়াফের সময় মুআবিয়া (রাঃ) যে রুকনের পাশ দিয়েই যেতেন সেটিই চুম্বন করতেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাঁকে বললেন, শুধুমাত্র রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চুম্বন করতেন। মুআবিয়া (রাঃ) বলেন, বাইতুল্লাহর কিছুই উপেক্ষণীয় নয়।
উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা (রহঃ) হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ আলিম আমল করার কথা বলেছেন অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত আর কিছু চুম্বন করবে না।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮৫৮-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: রুকন স্পর্শ। এই হাদিসে আবু তুফাইল বলেন, তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলেন। তাওয়াফের সময় মুয়াবিয়া (রাঃ) কাবার যে রুকনের পাশ দিয়েই যেতেন, সেটি স্পর্শ করতেন। তখন ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) শুধু হাজরে আসওয়াদ এবং রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ করতেন। মুয়াবিয়া (রাঃ) জবাবে বলেন, বাইতুল্লাহর কোনো অংশই উপেক্ষার নয়। এই কথোপকথনে তাওয়াফে কাবার কোন কোন কোণ স্পর্শ করার বর্ণনা এসেছে, তা পরিষ্কার হয়। মূল নববী আমল হিসেবে ইবন আব্বাস (রাঃ) দুটি নির্দিষ্ট স্থান উল্লেখ করেছেন। হাদিসটি সাহাবিদের মতবিনিময়ের ভাষাও সংরক্ষণ করেছে। এখানে স্পর্শের পদ্ধতি, ভিড়ের অবস্থায় করণীয় বা অন্য কোনো দোয়া নিয়ে বিস্তারিত নেই। তাই ব্যাখ্যা ওই দুই রুকনের মধ্যেই সীমিত রাখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইবন আব্বাস (রাঃ) নবীজির আমল হিসেবে দুটি রুকনের কথা বলেছেন।
- হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ করার বর্ণনা এসেছে।
- সাহাবিদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথোপকথন হয়েছিল।
- হাদিসে সব রুকন স্পর্শ করার নববী আমল উল্লেখ করা হয়নি।
