১/৬৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮৭ - বমি করলে ওজু করার বর্ণনা
বমি করলে বা নাক দিয়ে রক্ত বের হলে ওজু নষ্ট হওয়া সম্পর্কে
বমি করলে ওজু: আবূ দারদা ও সাওবান (রাঃ)-এর বর্ণনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৮৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮৭
حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ أَبِي السَّفَرِ، - وَهُوَ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَمْدَانِيُّ الْكُوفِيُّ وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ حَدَّثَنَا وَقَالَ، إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ الْمَخْزُومِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَاءَ فَأَفْطَرَ فَتَوَضَّأَ . فَلَقِيتُ ثَوْبَانَ فِي مَسْجِدِ دِمَشْقَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ صَدَقَ أَنَا صَبَبْتُ لَهُ وَضُوءَهُ .قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَالَ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ مَعْدَانُ بْنُ طَلْحَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَابْنُ أَبِي طَلْحَةَ أَصَحُّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَأَى غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ مِنَ التَّابِعِينَ الْوُضُوءَ مِنَ الْقَىْءِ وَالرُّعَافِ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لَيْسَ فِي الْقَىْءِ وَالرُّعَافِ وُضُوءٌ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ . وَقَدْ جَوَّدَ حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ هَذَا الْحَدِيثَ . وَحَدِيثُ حُسَيْنٍ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ . وَرَوَى مَعْمَرٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ فَأَخْطَأَ فِيهِ فَقَالَ عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ الأَوْزَاعِيَّ وَقَالَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ وَإِنَّمَا هُوَ مَعْدَانُ بْنُ أَبِي طَلْحَةَ .
আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বমি করলেন, ফলে তিনি ইফতার করলেন। অতঃপর ওজু করলেন। মাদান বলেন, আমি দামিশকের মসজিদে সাওবান (রাঃ)-এর সাথে দেখা করে তাঁকে এ কথা বললাম। তিনি বললেন, আবূ দারদা (রাঃ) ঠিকই বলেছেন, এ সময় আমি তাঁর (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) ওজুর পানি ঢেলেছিলাম।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ একাধিক বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও তাবিঈর মতে বমি করলে বা নাক দিয়ে খুন বের হলে ওজু নষ্ট হবে এবং নতুন করে ওজু করতে হবে। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, আহমাদ ও ইসহাক এ মত পোষণ করেছেন। কিছু বিশেষজ্ঞ বলেছেন, বমি হলে অথবা নাক দিয়ে রক্ত বের হলে পুনরায় ওজু করতে হবে না। ইমাম মালিক ও শাফিঈ এ মত দিয়েছেন। হুসাইন আল-মু‘আল্লিম এ হাদীসটিকে নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী বলেছেন। এ অনুচ্ছেদে হুসাইনের হাদীসটি অধিকতর সহীহ। অপর একটি সূত্রেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটি মা‘মার ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবী কাসীর হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি ভুল করে বলেছেন, ইয়া‘ঈশ ইবনুল ওয়ালীদ খালিদ ইবনু মা‘দান হতে তিনি আবুদ দারদা হতে। তিনি এতে আওযাঈর উল্লেখ করেননি। আর তিনি বলেছেন, খালিদ ইবনু মা‘দান। প্রকৃতপক্ষে তিনি হলেন, মা‘দান ইবনু আবী ত্বালহা।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বমি করলেন, ফলে তিনি ইফতার করলেন, তারপর ওজু করলেন। পরে মাদান দামিশকের মসজিদে সাওবান (রাঃ)-এর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি বললে সাওবান (রাঃ) জানান, আবূ দারদা (রাঃ) ঠিক বলেছেন; সেই সময় তিনি নিজেই রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ওজুর পানি ঢেলে দিয়েছিলেন। তাই এই বর্ণনায় দুটি বিষয় এসেছে: বমির পর ইফতার করা এবং ওজু করা। পাশাপাশি একজন সাহাবীর কথাকে আরেকজন সাহাবী নিজের দেখা ঘটনার মাধ্যমে সমর্থন করেছেন। ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত দাবি না করে বলা যায়, বমি ও ওজু নিয়ে আলোচনার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা। তবে হাদিসে যে ঘটনার কথা আছে, সেটুকুই মূল শিক্ষা হিসেবে রাখা উচিত। এ কারণে বিষয়টি ইবাদতের পবিত্রতার সঙ্গে জড়িত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বর্ণনায় বমির পর ইফতার ও ওজু করার কথা এসেছে।
- সাওবান (রাঃ) নিজের উপস্থিতির কথা বলে বর্ণনাটি সমর্থন করেছেন।
- দ্বীনি সংবাদে প্রত্যক্ষ জ্ঞান ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ।
- ওজুর বিষয়ে সতর্কতা রাখা সালাতের প্রস্তুতির অংশ।
